২৮ এপ্রিল ২০১৭ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৬ষ্ঠ বর্ষ ০৫ ম সংখ্যা: বার্লিন, রবিবার ২৯ জানু – ০৪ফেব্রু ২০১৭ # Weekly Ajker Bangla – 6th year 05th issue: Berlin, Sunday 29 Jan–04 Feb 2017

‘সৌদি আরবকে বাদ দিয়ে ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা অর্থহীন'

মার্কিন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আরিফ জামাল

প্রতিবেদকঃ ডিডাব্লিউ তারিখঃ 2017-02-04   সময়ঃ 01:15:12 পাঠক সংখ্যাঃ 95

বিশ্বের সাতটি দেশের নাগরিকরা তিন মাস যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না – ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশকে অর্থহীন মনে করেন মার্কিন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আরিফ জামাল৷ তাঁর প্রশ্ন, তালিকা থেকে সৌদি আরব বাদ পড়লো কেন?> DW
প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প একটার পর একটা নির্বাহী আদেশে সই করছেন, দিয়ে চলেছেন একের পর এক নির্দেশ৷ তবে তার মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত বোধহয় শরণার্থীদের, বিশেষ করে মুসলিম শরণার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে না দেওয়ার বিষয়টি৷ ‘‘এই নির্বাহী নির্দেশ একদিকে যেমন সংবিধানবিরোধী, অন্যদিকে তেমনই বিশ্বের জন্য এক অশনিসংকেত'', বলেন আরিফ জামাল৷
অ্যামেরিকার নতুন প্রেসিডেন্টের আদেশ অনুযায়ী, আগামী চার মাস দেশটিতে কোনো শরণার্থী প্রবেশ করতে পারবেন না৷ সিরীয় শরণার্থীদের ক্ষেত্রে সময়টি চার মাস নয়, অনির্দিষ্টকাল৷ এছাড়া সাতটি মুসলিমপ্রধান দেশ – ইরাক, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিকরা আগামী তিন মাস প্রবেশ করতে পারবেন না যুক্তরাষ্ট্রে৷
ট্রাম্পের দাবি, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অন্যতম কারণ ২০০১ সালে টুইন টাওয়ারে জঙ্গি হামলা৷ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তো বটেই, টুইন টাওয়ারে বিমান হামলা ছিল গোটা বিশ্বকেই পাল্টে দেওয়া একটি ঘটনা৷ অথচ আরিফ জামালের কথায়, ‘‘তারপরেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই যুক্তি মেনে নেওয়া যায় না৷'' আর তার প্রধান কারণ হলো, ঐ হামলার সঙ্গে জড়িতরা যে চারটি দেশের নাগরিক (সৌদি আরব, মিশর, লেবানন, ও সংযুক্ত আরব আমিরাত) ছিল, সেই  দেশগুলোর ওপর কিন্তু কোনোরকম নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি৷
ডয়চে ভেলে: নাইন ইলেভেনের সঙ্গে ওসামা বিন লাদেনের সহচর ৪৬ বছর বয়সি খালিদ শেখ মোহাম্মেদসহ অনেকেই জড়িত ছিল৷ এদের মধ্যে অন্যতম সৌদি আরবের নাগরিক ওয়ালিদ বিন আটাশ ও মোস্তফা আহমেদ আল-হাওয়াসউই৷ তাহলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সৌদি আরবের ওপর কেন এই নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন না?
আরিফ জামাল: প্রসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘স্ট্র্যাটেজি' আসলে ঠিক কী, সেটা এত তাড়াতাড়ি বোধ হয় বলা সম্ভব নয়৷ তবে একটা কারণ খুব সহজ, সেটা হলো, তিনি সেই সব দেশকে তাঁর এই নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন, যাদের সঙ্গে বা যে সব দেশের সঙ্গে তাঁর বাণিজ্যিক কোনো সম্পর্ক আছে৷ আর সৌদি আরব যে সে সব দেশের অন্যতম, সেটা তো বলাই বাহুল্য৷
যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সাম্প্রতিক সময় যে সব সন্ত্রাসী হামলা ঘটে গেছে – এই যেমন অরল্যান্ডোতে সমকামীদের একটি নৈশক্লাবে ঢুকে গুলি চালিয়ে ৫০ জনকে হত্যার ঘটনাটা – সেটা কিন্তু করেছিল আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সন্ত্রাসীরা৷ তাহলে এ দু'টি দেশের নাগরিকদের কেন রেহাই দিলেন ট্রাম্প? পাকিস্তান আর আফগানিস্তানে তো তাঁর কোনো বিনিয়োগ নেই...৷
না নেই৷ তবে এই মুহূর্তে আফগানিস্তানের নাগরিকদের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলে মুশকিল হতো বৈকি৷ ভুলে গেলে চলবে না যে, যুদ্ধবিদ্ধস্ত এই দেশটিতে এখনও মোতায়েন রয়েছে বহু মার্কিন সেনা৷ তাই সেখান থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহারের আগে এটা তিনি করতে পারেন না৷
পাকিস্তানের বিষয়টা আলাদা৷ পাকিস্তানের নাগরিক আলি আব্দ-আল-আজিজ আলি যে নাইন ইলেভেনের সেই হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল, সেটা প্রমাণিত৷ তারপরও আমার মনে হয়, গোটা মুসলিম বিশ্বের জন্যই হয়ত ভবিষ্যতে কোনো একটি বিশেষ এবং চরম ‘স্ট্র্যাটেজি' বা পরিকল্পনা করেছে ট্রাম্পের প্রশাসন৷ তবে সেটা ঠিক কী – এখনই তা বলা যাচ্ছে না৷ এর জন্য আমাদের আরো কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে৷ তাছাড়া ওয়াশিংটন যদি এবার সত্যিই মস্কোর সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধে, তাহলে কিন্তু বিশ্ব রাজনীতিতে আমূল একটা পরিবর্তন আসবে, পরিবর্তন হবে ক্ষমতার কেন্দ্রেরও৷ আর সেটা হলে মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়া – দু'টি এলাকাই হয়ে উঠবে গুরুত্বপূর্ণ৷
আর ইরান? ইরানের সঙ্গে সম্পর্কটা তখন কি নরম হয়ে আসবে?
হ্যাঁ, আমার তো সেটাই মনে হয়৷ সেটা করলে মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ায় ‘টেনশন' কমবে৷ আসলে এই মুহূর্তে ট্রাম্প শুধুমাত্র তাঁকে যারা এমনিতেই সমর্থন করে, তাঁদের একজোট করায় ব্যস্ত – জাতীয়তাবাদী, খ্রিষ্টান মৌলবাদী, চরমপন্থি শক্তিগুলিকে৷ এরপর তিনি কী করেন, সেটাই দেখার বিষয়৷ তবে একটা কথা বলতে পারি যে, ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশের যত সমালোচনাই হোক, সৌদি আরব, মিশর বা পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে মুসলিমবিদ্বেষ সম্ভব নয়৷ আর সেটা ডোনাল্ড ট্রাম্পও পারবেন না৷ তিনি ব্যর্থ হবেনই৷

আরিফ জামাল, যুক্তরাষ্ট্রবাসী সাংবাদিক এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ
সাক্ষাৎকার: শামিল শামস/ডিজি, সম্পাদনা: আশীষ চক্রবর্ত্তী
 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। ২০২১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। আপনিও কি তাই মনে করেন?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ