২৯ মে ২০১৭ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৬ষ্ঠ বর্ষ ১৫ম সংখ্যা: বার্লিন, রবিবার ০৯এপ্রি – ১৫এপ্রি ২০১৭ # Weekly Ajker Bangla – 6th year 15th issue: Berlin, Sunday 09 Apr – 15 Apr 2017

নারীরা কেন তাঁদের চুল ঢেকে রাখেন?

মাথা ঢেকে রাখার ক্ষেত্রে কোন বিষয়টি অনুপ্রাণিত করে তাঁদের?

প্রতিবেদকঃ ডয়েচে ভেলে তারিখঃ 2017-04-13   সময়ঃ 20:05:39 পাঠক সংখ্যাঃ 21

মুসলমান, ইহুদি, খ্রিষ্টান: ধর্মের প্রতি আনুগত্যের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মের নারীরাই মাথা ঢেকে রাখেন৷ বার্লিনের ইহুদি জাদুঘরে এক প্রদর্শনীতে প্রশ্ন রাখা হয়েছে, মাথা ঢেকে রাখার ক্ষেত্রে কোন বিষয়টি অনুপ্রাণিত করে তাঁদের?> DW
গ্রেস কেলি ৬০ বছর আগে মাথায় স্কার্ফ পরা শুরু করেছিলেন, এটা তাঁর সাজসজ্জার অংশ৷ আজ বিভিন্ন ধর্মের নারীরা তাঁদের বিশ্বাসের কারণে মাথার চুল কাপড়ে ঢেকে রাখেন৷ বহু বছর ধরেই এই প্রথা চলে আসছে৷ বহু সংস্কৃতিতে নারীদের মাথার চুল দেখানোতে বিধি-নিষেধ রয়েছে৷ তবে যখন সামাজিক রীতিনীতি এবং ধর্মীয় ভাবধারা একসাথে হয়, তখন কিছুক্ষেত্রে দ্বন্দ্ব ও সংঘাতেরও জন্ম দেয়৷ এক্ষেত্রে একটা উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে৷ এই যেমন, ফ্রান্সের সমুদ্র সৈকতে বিকিনি পরেন অনেকেই৷ সে সময় তাঁদের মধ্যে যদি কোনো মুসলিম নারী বুর্কিনি পরে উপস্থিত হন, তখন অন্যান্যরা অস্বস্তি বোধ করেন, এমনকি ক্ষুব্ধও কেউ কেউ ক্ষুব্ধও হন৷ একটি অসাম্প্রদায়িক সমাজ ধর্মকে কতখানি সহ্য করে? করতে পারে? ‘শ্যারশে লা ফাম' শীর্ষক প্রদর্শনীর বিষয় ঠিক এটাই৷ বার্লিনের ইহুদি জাদুঘরে এই প্রদর্শনী চলবে ২রা জুলাই পর্যন্ত৷ উদ্বোধনীর দিন জাদুঘরের কিউরেটর বা তত্ত্বাবধায়ক মিরিয়াম গোল্ডমান-এর সঙ্গে কথা বলেছে ডয়চে ভেলে৷ মূল প্রসঙ্গ ছিল – নারীরা কেন তাঁদের চুল ঢেকে রাখেন?
ডয়চে ভেলে: ‘শ্যারশে লা ফাম' বা ‘লুক ফর দ্য উইমেন' প্রদর্শনীরটির আক্ষরিক অর্থ ‘নারীদের খুঁজুন'৷ অর্থাৎ খঁজে নিন তাঁদের অস্তিত্ব৷ আমাদের কি আসলেই নারীদের চেহারার দিকে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন?
মিরিয়াম গোল্ডমান: মুসলিম নারীদের হিজাব করা সম্পর্কে আমার মতামত হলো – এটা নারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ আর পুরুষরাই এটা করেছে, করছে৷ কেননা ধর্মীয় যে বিধি-বিধান সেটাও তো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুরুষদেরই লেখা৷ এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে আমরা নারীদের একটা সুযোগ করে দিতে চাই, যাতে তাঁরা মনের কথা খুলে বলতে পারেন৷ আমরা তাঁদের মাথা ঢাকার থাবিষয়টি নিজেদের মতো করে ভাবি৷ কিন্তু আসলে যাঁরা এটা করছেন, তাঁরা কী ভাবছেন সেটাই দেখার বিষয়৷ (জাদুঘরের কিউরেটর মিরিয়াম গোল্ডমান)
এই প্রদর্শনীতে খ্রিষ্টান, ইহুদি, ইসলাম – সব ধর্মের নারীদের দেখানো হয়েছে, যাঁরা মাথা ঢেকে রাখেন৷ এঁদের মধ্যে কি কোনো যোগসূত্র রয়েছে?
শালীনতা প্রতিটি ধর্মেই আছে৷ এর মধ্যে চুল এমন একটা বিষয়, যেটাকে অনেক ধর্মে একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে৷ সেক্ষেত্রে নারীদের চুল শুধুমাত্র স্বামী বা পরিবারের মানুষ দেখতে পারবে৷ যে বিষয়টি আমাকে বিস্মিত করে তা হচ্ছে, যে নারীরা হিজাব করেন, তাঁরা কি সত্যিই এ কথা বিশ্বাস করেন যে চুল দেখানোর মধ্যে পাপ আছে? গোড়া ইহুদি নারীরাও বর্তমানে অভিনব পদ্ধতিতে মাথা ঢাকেন৷ এ সবের বিরুদ্ধে কখনো কখনো প্রতিবাদ হয়েছে, আন্দোলন হয়েছে, তার কিছু এই প্রদর্শনীতে উপস্থাপন করা হয়েছে৷
আপনারা কি চাচ্ছেন যে দর্শনার্থীরা এ সব ছবি দেখে এবং বিষয়গুলো জেনে প্রশ্ন করুক? আর সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য কি কোনো ব্যবস্থা রেখেছেন আপনারা?
না, নারীকে কেন্দ্র করে সামাজিক রীতিনীতি নিয়ে সাম্প্রতিককালে যেসব বিতর্ক রয়েছে, এই প্রদর্শনীতে সেগুলো উঠে এসেছে৷ এই যেমন ফ্রান্সে বুর্কিনি নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গ৷ খ্রিষ্টধর্মের ক্ষেত্রে যেমন বলা হয় যে, এটা একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়৷ এখানে প্রদর্শনের কিছু নেই৷ কিন্তু ইহুদি বা ইসলামে বিষয়টি ভিন্ন: ধর্মীয় প্রথা এবং সামাজিক রীতিনীতি ওতোপ্রতোভাবে জড়িত সেখানে৷
ইহুদি নারীদের তুলনায় মুসলিম নারীদের মাথার স্কার্ফ কি বেশি নজর কাড়ে?
হ্যাঁ, ঠিক তাই৷ আমার মনে হয়, ইহুদি নারীদের সঙ্গে অতীতে খুব খারাপ আচরণ করা হয়েছে৷ তাঁদের মূল্যবোধে আঘাত করা হয়েছে৷ ইহুদিদের মধ্যে এই প্রচলনটা এসেছে, কারণ সংখ্যালঘু গোষ্ঠী হিসেবে তাঁদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছিল৷ ইতিহাস থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁরা ঠিক করেছেন যে এভাবে তাঁরা নিজের দেশ ও জাতির প্রতি কীভাবে সম্মান দেখাবে৷ কিন্তু মুসলিম নারীরা কোনো সংহতি দেখানোর জন্য বা রাজনৈতিক কোনো কারণে এটা ব্যবহার করেন না৷
নারীদের মাথা ঢেকে রাখার বিষয়ে আপনার মতামত কী?
এটা আসলে লিঙ্গ বৈষম্য৷ এটার সঙ্গে শক্তি এবং যৌনতা জড়িয়ে রয়েছে৷ প্রশ্ন হলো – পুরুষ নারীর মাথার চুলকে কীভাবে দেখে? তাঁরা নারীর কেশকে যৌনআবেদনময় হিসেবে মনে করে৷ তাই তাঁরাই ঠিক করে দিয়েছে যে, নারীদের এটা লুকিয়ে রাখতে হবে৷ কেননা এটা দেখে তাঁদের উত্তেজনা হয়৷
নাদিন ভুইচিক/এপিবি



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

বাংলাদেশের প্রাইমারি ও মাধ্যমিক শিক্ষা পাঠক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়েছে জানুয়ারি ২০১৭ তে বিতরণকরা নতুন বইয়ে অদ্ভুত সব কারণ দেখিয়ে মুক্ত-চর্চার লেখকদের লেখা ১৭ টি প্রবন্ধ বাংলা বই থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ইসলামী মৌলবাদী লেখা যোগ হয়েছে, আপনি কি এই পুস্তক আপনার ছেলে-মেয়েদের জন্য অনুমোদন করেন?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ