২০ জুন ২০১৮ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৭ম বর্ষ ২০ সংখ্যা: বার্লিন, সোমবার ১৪ মে– ২০মে ২০১৮ # Weekly Ajker Bangla – 7th year 20 issue: Berlin, Monday 14May-20May 2018

বাংলাদেশে অনলাইন শপিং বিপ্লব আসছে

অনলাইন শপিং-এর এই দ্রুত অগ্রগতি কেন?

প্রতিবেদকঃ ডয়েচে ভেলে তারিখঃ 2017-05-15   সময়ঃ 18:19:43 পাঠক সংখ্যাঃ 265

বাংলাদেশে এখন বছরে এক হাজার কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয় অনলাইনে৷ আর প্রতিদিন অনলাইনে ডেলিভারি দেয়া হয় ২০ হাজার অর্ডার৷ দেশে ওয়েবভিত্তিক অনলাইন শপ আছে এক হাজার৷ ফেসবুক ভিত্তিক আছে ১০ হাজারেরও বেশি৷
জাকিয়া আহমেদ একজন কর্মজীবী নারী৷ অনলাইনেই তিনি বেশি কেনাকাটা করেন৷ চাল ডাল থেকে শুরু করে পোশাক, বই সব কিছু৷ প্রশ্ন করেছিলাম অনলাইনে কেন কেনা কাটা করেন? তাঁর জবাব, ‘‘সময় বাঁচে, শ্রম বা এমনকি অর্থও বাঁচে৷''
তিনি বলেন, ‘‘আমাকে অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়৷ তারপর যেটুকু সময় পাই তা যদি কেনা কাটা বা শপিং-এর পিছনেই ব্যয় করি, তাহলে নিজস্ব দরকারি কাজগুলো কবর কখন৷ তাই অনলাইনেই পছন্দ করি৷ অর্ডাপণ্যের মান কি ঠিক থাকে? জাকিয়া আহমেদ জানান, ‘‘আমি এখন পর্যন্ত পণ্যের মান নিয়ে কোনো ধরনের সমস্যায় পরিনি৷ অনলাইনে যে পণ্যটি দেখেছি, পণ্যটি সেই মানেরই পেয়েছি৷'' তবে তাঁর কথায়, ‘‘কর্মজীবী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং তরুণরাই অনলাইন শপিং-এর দিকে বেশি ঝুকছে৷''
বাংলাদেশে কর্মপদ্ধতির দিক থেকে অনলাইন শপিং-এর দু'ধরনের প্রতিষ্ঠান আছে৷ এক ধরনের প্রতিষ্ঠান হলো, যারা পুরোটাই অনলাইন শপ৷ অনণাইনেই তাদের পণ্যের নমুনা এবং দাম দেয়া থাকে৷ ক্রেতারা অনলাইনেই পণ্য পছন্দ এবং অর্ডার করেন৷ ক্রেতাকে তাঁর বাসা বা ডেলিভারি পয়েন্টে পণ্য পৌঁছে দেয়া হয়৷ আরেক ধরনের হলো অনলাইন মার্কেট প্লেস৷ এখানে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় সক্রিয় থাকেন৷ কেউ পণ্য বিক্রির অফার করেন৷ আবার কেউ বা কিনতে চান৷ যোগাযোগটা অনলাইনের হলে বেচা-কেনা হয় ব্যক্তিগত পর্যায়ে যোগাযোগের মাধ্যমে৷ আর এই কেনা-বেচায় অনলাইন মার্কেট প্লেসের কোনো দায় থাকে না৷র দেই৷ বাসায় ঠিক সময় জিনিস পৌঁছে দেয় অনলাইন শপগুলো৷ পেমেন্টে দিয়ে দিই৷ কোনো ঝামেলা নেই৷''
পরের প্রশ্ন – দাম কি একই পরে? ‘‘না, তারা একটা সার্ভিস চার্জ নেয়৷ তবে তা তেমন বেশি নয়৷ কিন্তু নিজে শপিং সেন্টারে কিনতে গেলে সময় আর অর্থ দু'টোই যায়৷ আর ঢাকা শহরে যে ট্রাফিক জ্যাম তাতে শপিং বা বাজার করতে যাওয়া এক বিশাল যুদ্ধের ব্যাপার৷''
অনলাইন মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর সভাপতি ফাহিম মাশরুর ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘আমাদের হিসেবে এখন শুধু অনলাইন ওয়েবসাইটেই (ফেসবুক বাদে) প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ হাজার অর্ডার প্রসেস হয়৷ বছরে টাকার হিসেবে আড়াইশ' থেকে তিনশ' কোটি টাকার লেনদেন হয়৷ আর অনলাইনে এখন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস থেকে সব ধরনের পণ্যই পওয়া যায় – পোশাক, ঘড়ি, টুপি সবকিছু৷ এখন অনলাইনে টিকেট বিক্রিসহ আরো অনেক ধরনের সেবা দেয়া হয়৷ এমনকি স্বাস্থ্যসেবাও দেয়া হয় অনলাইনে৷ ফেসবুক লাইভের মাধ্যমেও দেয়া হয় চিকিৎসা পরামর্শ৷''
তিনি জানান, ‘‘ঢাকা শহরে পণ্য ডেলিভারির সময় টাকা পরিশোধ করতে হয়৷ এছাড়া বিকাশ বা অন্য মাধ্যমেও টাকা লেনদেন হয়৷ আর ঢাকার বাইরে পণ্য পাঠানো হয় কুরিয়ার সর্ভিসের মাধ্যমে৷ সেক্ষেত্রে আগে পেমেন্ট করতে হয়৷''
প্রকৃতির দিক দেয়ে আবার বাংলাদেশে দু'ধরনের অনলাইন শপ আছে৷ এক ধরনের হলো যারা নিজোরই ওয়েবসাইট খুলে পণ্য বেচা-কেনা করেন৷ আরেক ধরনের হলো ফেসবুকে পেজ খুলে কাজ করেন৷ ফাহিম মশরুর বলেন, ‘‘ওয়েবসাইট ভিত্তিক বড় ধরনের অনলাইন শপ ৪০টির মতো আছে এখানে৷ তবে ফেসবুকে কতগুলো আছে তা বলা মুশকিল৷''
বাংলাদেশে এখন ফেসবুক ভিত্তিক ই-কমার্স সবচয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে৷ ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ইক্যাব)-এর সভাপতি এবং ইংলিশ সার্চ-এর কর্ণধার রাজীব আহমেদ ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘বাংলাদেশে এখন ওয়েবসাইট ভিত্তিক এক হাজার এবং ফেসবুক ভিত্তিক ১০ হাজার ই-কমার্স সাইট আছে৷ ২০১৬ সালে আমাদের হিসেবে ১ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে৷ প্রতিদিন ডেলিভারি দেয়া হয়েছে ২০ হাজার অর্ডার৷''
অনলাইন শপিং-এর এই দ্রুত অগ্রগতি কেন? এমন প্রশ্ন করেছিলাম অনলাইন ক্রেতা অমি আজাদের কাছে৷ তিনি বললেন, ‘‘আমরা কাছে বিষয়টি এরকম যে, আমি যে পণ্যটি কিনতে চাই তা কোথায় পাব? তারা কোন মডেলটি আমি নেব? তার গুণাগুণ কী? এটা মার্কেটে ঘুরে ঘুরে বের করা এবং জানা কঠিন৷ কিন্তু অনলাইনে সহজেই জানা যায়৷ এছাড়া পণ্যটি যেহেতেু অনলাইনে পাওয়া যায়, তাহলে আর মার্কেটে যাওয়া কেন?''
তবে তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘অনলাইন শপিং-এ প্রতারণাও আছে৷ তেলাপোকা মারার একটি যন্ত্রের সুন্দর বিজ্ঞাপন দিয়ে অফার দিলো একটি অনলাইন শপ৷ কেনার পর দেখা গেল তেলাপোকা মরে না৷ প্রতিকার চেয়েও তখন তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না৷ কারণ তারা তখন হয়ত আমাকেই ব্লক করে দিয়েছে৷
অথবা আমার স্ত্রীর জন্য একবার অনলাইন থেকে সালোয়ার কামিজ পছন্দ করলাম৷ ডেলিভারির সময় দেখি, অনলাইনে যে ছবি ছিল তার সঙ্গে মিল নেই৷ ওয়ান টাইম ব্যবসা আর কি!''
প্রতারণার প্রসঙ্গটিতে রাজীব আহমেদ বলেন, ‘‘প্রতারণা আছে তবে তা শতকরা হিসেবে কম৷ ক্রেতারা অভিযোগ করতে পারেন তিন জায়গায়৷ কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশন, ভোক্তা অধিকার ফোরাম এবং আমাদের ইক্যাব-এ৷''
অনলাইন মার্কেট প্লেসগুলোতে প্রতারণা হয় সবচেয়ে বেশি৷ কারণ এখানে মার্কেট প্লেস সরারি পণ্য বিক্রি করে না৷ বিজ্ঞাপন দেখে ব্যক্তিগত পর্যায়ে পণ্য বেচা-কেনা হয়৷ তাই ফাহিম মাশরুরের কথায়, ‘‘এ জন্য নীতিমালা প্রয়োজন৷''

অনলাইনে কোরবানীর গরু, কবুতর, হাঁস-মুরগিও পাওয়া যায়৷ আবার সৌখিন জিনিসও বাদ যায় না৷ এই সুযোগে যারা কখনো দোকান খুলে পণ্য বিক্রির চিন্তাও করেননি, তারা হয়ে যাচ্ছেন অনলাইন মার্কেটার৷ তারা ঘরে বসেই বিকল্প আয়ের পথ খুঁজে পচ্ছেন৷ যা ছিল তার শখের পণ্য, তা-ই হয়ে যাচ্ছে বাণিজ্যিক পণ্য৷ ফেসবুকে একটি পেজ খুলে বিক্রি করছেন৷ লাইক বাড়ছে বিক্রিও বাড়ছে – যেমন বললেন নওরীন আক্তার৷> AUDIO
নওরীনের তারানা নামে একপি ফেসবুক পেজ রয়েছে৷ এর মাধ্যমে তিনি হ্যান্ড মেড পণ্য বিক্রি করে৷ বিশেষ করে হ্যান্ড মেড জুয়েলারি৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘পেশার কারণে আমাকে অনলাইনে অনেক সময় দিতে হয়৷ ফেসবুকিং করি৷ এক সময় মনে হয় ফেসবুকে অযথা সময় কেন নষ্ট করব? আর সেখান থেকেই ফেসবুকে অনলাইন শপ-এর কাজ শুরু করি৷ এখন আমার পেজের লাইক ১৩ হাজার৷ তাছাড়া পণ্যে প্রচুর সাড়াও পাচ্ছি৷ আমরা ঢাকায় হোম ডেভিারি দেই৷

আর ঢাকার বাইরে কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠাই৷''
নওরীন মনে করেন, ‘‘ফেসবুকে এই অনলাইন শপিং-এর সম্ভাবনা বিশাল৷ গৃহবধু থেকে শুরু করে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখন অনলাইনে পণ্য ও সেবা দিয়ে আয়ের পথ খুঁজছেন৷ আবার তারাই অনলাইন ক্রেতা৷''
ঢাকা ভিত্তিক অনলাইন শপগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, আগে বেশিরভাগ অর্ডার আসতো ঢাকা শহরের মধ্য থেকে৷ কিন্তু এখন দেশের ৬৪টি জেলা থেকেই নিয়মিত অর্ডার আসছে৷ তাছাড়া কুরিয়ার সার্ভিসগুলো জানায়, ঢাকার বাইরে অনলাইন শপগুলোর পণ্য পাঠানোর পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে৷ ঈদসহ নানা আয়োজনে এটা আরো বেড়ে যায়৷ সব মিলিয়ে ইন্টারনেটের আওতা যত বাড়বে, অনলাইন শপিং এবং মার্কেটিং ততই এগিয়ে যাবে৷ এতে মোবাইল ফোন রাখছে বড় ভূমিকাষ৷ কারণ বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের অনলাইন ইউজার অনেক বেশি৷

 

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ