২১ অক্টোবর ২০১৭ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৬ষ্ঠ বর্ষ ২৩শ সংখ্যা: বার্লিন, রবিবার ০৪জুন – ১০জুন ২০১৭ # Weekly Ajker Bangla – 6th year 23rd issue: Berlin, Sunday 04 jun – 10 Jun 2017

৭২-এর চারনীতি, এবং মুক্তিযোদ্ধা সুলতানা কামাল

এতো বড়ো স্পর্ধা একাত্তরের পরাজিত শক্তির?

প্রতিবেদকঃ মোনাজ হক তারিখঃ 2017-06-06   সময়ঃ 17:59:08 পাঠক সংখ্যাঃ 140

প্রোলগ বা প্রারম্ভিক ভূমিকা
একটি আদর্শের বাস্তবায়ন করতে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, বড়ো কিছুর জন্যে অনেকসময় নিজের জীবন দিয়ে হলেও করতে হয়। জগতে বহু নেতারাই জীবন দিয়েছেন আদর্শ বাস্তবায়নের জন্যে, আব্রাহাম লিঙ্কন জীবন দিয়েছেন দাস প্রথা উচ্ছেদের জন্যে, বঙ্গবন্ধু জীবন দিয়েছেন - সাম্যবাদ, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও সেকুলারিজম - এর আদলে একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার জন্যে।
 
বাংলাদেশে মানবাধিকার কর্মী ও মুক্তিযোদ্ধা সুলতানা কামালকে গ্রেপ্তারের দাবিতে হেফাজতে ইসলাম বক্তব্য দিয়েছে। বলেছে 'প্রশাসন ও সরকারকে বলতে চাই, আমরা যে আসতে পারি, আপনাদের নিশ্চয় তা জানা আছে।
 
এতো বড়ো স্পর্ধা একাত্তরের পরাজিত শক্তির?
এই লেখার শুরুতে একটি প্রোলগ বা প্রারম্ভিক ভূমিকা প্রয়োজন কারণ বাংলাদেশ সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় তার দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে উদাসীন ভূমিকা পালন করছে। শেখ হাসিনা সরকার যদি মনে করে তারা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার তাহলে দেশ পরিচালনায় এতো উদাসীনতা কেন? রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হয় সংবিধান অনুসারে করতে হবে এখানে কোনও আবেগের স্থান নেই, পৃথিবীতে মহৎ ঘটনা সমূহ আবেগদ্বারা চালিত হয়নি। বাংলাদেশের স্বাধীনতাও আবেগ দ্বারা অর্জিত হয়নি।
 
ইতিহাস কি বলে? ১৮৬১ থেকে ১৮৬৫ এই চার বছর আমেরিকান গৃহযুদ্ধ চলে, ১৮৬১-তে মার্কিন ফেডারেল সরকার আর দক্ষিণের দাসনির্ভর কিছু অঙ্গ রাজ্যের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিতে শুরু করে। এই গৃহযুদ্ধে প্রায় ৬ লক্ষ মানুষ জীবন দেয়। এই গৃহযুদ্ধের মূল কারণ ছিল তৎকালীন সরকারের দাস প্রথা বিলোপের ঘোষণা। ১৮৬০ সালে আব্রাহাম লিঙ্কন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন যিনি আমেরিকা থেকে দাস প্রথা বিলোপ করার ঘোষণা দেন। কিন্তু দক্ষিণের দাসনির্ভর অঙ্গরাজ্যগুলোর গোঁড়া ক্যাথলিক সমাজ তা মেনে নেয়নি, প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভাজনকে প্রতিরোধ এবং সব রাজ্যের দাসত্ব বিলুপ্তি অর্জন করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ ছিলেন।
 
১৭৭৩-তে প্রথম ব্রিটিশ উপনিবেশিক উত্তর আমেরিকা অস্থিরতা বিরাজ করে, কারণ লন্ডন সরকার কর্তৃক উত্তর আমেরিকার জনসংখ্যার ওপর কর আরোপ করে যা বিদ্রোহের প্রথম সূত্রপাত হিসেবে ধরা হয়। নাগরিক প্রতিবাদ থেকে স্বাধীনতার সংগ্রামে রূপ নেয় । ১৭৭৬-তে ১৩ টি আমেরিকান উপনিবেশ তাদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে এবং আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র গঠন করে। এরপর ১৭৮৮ এর সংবিধান বলে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র নামে একটি দেশ ও একটি জাতি নির্মিত হয়েছিল, সংবিধান প্রতিটি রাজ্যে সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করে। যদিও দাসত্ব প্রথা বিলুপ্তি করতে আরও প্রায় শতবর্ষ লেগেছিল।
 
এই হলো আমেরিকার স্বাধীনতার ইতিহাস ও তার পরবর্তী গৃহযুদ্ধত্তোর ১০০ বছরের সর্বমোট ২৫০ বছরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। এই ইতিহাস সকলেই কম বেশি জানেন। 
 
আমার আলোচনার এপিলগে আমেরিকার ইতিহাসের এই জন্যেই অবতারণা করলাম, কারণ আমাদের বাংলাদেশের স্বাধীনতাও প্রায় ৫০ বছর হতে চলল। বাংলাদেশের বেলায় বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবদ্দশায় মাত্র ৪ বছরে যা করেছিলেন সেটিও তুলনামূলকভাবে আলোচনা করলে বলা যায় - আব্রাহাম লিঙ্কন আমেরিকার স্বাধীনতার ১০০ বছর পরেও যা করতে যেতে পারেন নি যেটির সূত্রপাত করেছিলেন মাত্র, তাঁর মৃত্যুর পরেও আরও ১০০ বছর লেগেছিল যখন মার্টিন লুথার কিংকে আবার বর্ণবৈষম্য আন্দোলনের নামতে হয়েছিল। আর বাংলাদেশের বেলায় বঙ্গবন্ধু তার জীবদ্দশায় মাত্র ৪ বছরে জামায়াতে ইসলাম ও তাদের শরীক দলকে নিষিদ্ধ করেছিলেন। আমরা এতো তাড়াতাড়ি ধৈর্য হারিয়ে ফেলছি বলছি সরকার মৌলবাদীদের কাছে পরাজিত হয়ে গেছে। না তা কখনোই হবার নয়; রাষ্ট্র সংবিধান অনুসারে সরকার পরিচালনা করে, যেমন আব্রাহাম লিঙ্কন করেছেন যেমন বঙ্গবন্ধু করেছেন।
 
বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধীদেরকে বঙ্গবন্ধু চিহ্নিত করে রেখেছিলেন, বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর ৪০ বছর পরে তাঁরই কন্যা শেখ হাসিনা স্বাধীনতাবিরোধীদেরকে আদালতে বিচার করেছেন, সাজাও দিয়েছেন। সেই আদালতের ন্যায়বিচারের সিম্বল “জাস্টিসিয়া"-কে সরাবার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত স্বাধীনতাবিরোধীদের একটি চক্র।
 
আমাদের দেশেও দক্ষিণ অঞ্চলে এক মাদ্রাসা শিক্ষার নামে দাসত্ব প্রথা চালু করেছে ঠিক বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর পরই বিগত ৪০ বছরে এই ধর্মীয় দাসত্বপ্রথা এখন বাঙালি জনজীবনে এক অশনির সংকেতের মতো ধ্বনিত হচ্ছে যখন প্রচারিত হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম কাতারের সৈনিক ও মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল, যিনি বাংলাদেশের ৪ টি আদর্শ - সেকুলারিজম, সাম্যবাদ, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র - এর বাণী সারা বিশ্বে সুধী সমাজে পৌঁছে দিচ্ছেন, তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি তুলে আল্লামা শফির দল, হেফাজতে ইসলাম।
 
কে এই আল্লামা শফি? বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সাথে তার কি সম্পর্ক?
১৮৬৬ সালে ভারতবর্ষে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ইসলামি পণ্ডিত দেওবন্দ মাদরাসার প্রতিষ্ঠা করেন। দারুল উলুম দেওবন্দের পণ্ডিতদের একটি বড় অংশ ভারত ভাগ করে দুই রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরোধিতা করেন ও আলেমদের সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের নেতৃত্ব দেন, দেওবন্দ পণ্ডিতরা বিশ্বাস করেন "সবাইকে একটি গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য প্রয়াস চালাতে হবে যাতে হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিষ্টান ও পারসিরা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এধরনের স্বাধীনতা ইসলামসম্মত।" দেওবন্দ ধারা ইসলামের প্রাচীন রূপের পৃষ্ঠপোষকতা করে এবং যেকোনো প্রকার সহিংসতা থেকে নিজেকে দূরে রাখে।
 
অথচ আল্লামা শাহ আহমদ শফি (যাকে তেঁতুল হুজুর বলে মানুষ চেনে) কি বলছেন - আল্লামা শাহ আহমদ শফি বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদরাসার মহাপরিচালক এবং চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে পরিচালিত সংগঠন “হেফাজত- ই-ইসলাম” বাংলাদেশ এর আমির। দেওবন্দ দর্শনের সাথে হেফাজত-ই-ইসলাম সম্পূর্ণ অযৌক্তিক একটি সংগঠন। কারণ দেওবন্দের দর্শন হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিষ্টান ও পারসিরা অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলে, ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসাগুলোতে মুসলমান ছাড়া ও হিন্দু, শিখ খ্রিষ্টান ও পারসি ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া করে, অথচ চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে পরিচালিত সংগঠন হেফাজতে ইসলাম সম্পূর্ণ উল্টো পথে চলছে, শুধু মুসলমানদের জন্যে মাদ্রাসা ও একটি সংগঠন হেফাজত-ই-ইসলাম তৈরি করেছে ।
 
এপিলগ বা উপসংহার
সুলতানা কামালের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে সকল মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি বাংলাদেশে বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রীয় ইন্সটিটিউশনগুলো ধর্মীয় প্রভাব থেকে মুক্ত করা হোক, সুলতানা কামালের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমারও দাবি বাংলাদেশে বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রীয় ইন্সটিটিউশনগুলো ধর্মীয় প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে হবে। তবেই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও ১৯৭২ সনের সংবিধানে লিপিবদ্ধ - সাম্যবাদ, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতা - এর প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন, ৩০ লক্ষ শহিদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা ও জাতির কাছে অঙ্গীকারাবদ্ধ জাতির পিতার বাণীর প্রতি অনুগত থাকা। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহবান জাতির পিতার আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ হয়ে জাতিকে ঠিক পথে সাংবিধানিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করুন, সুলতানা কামালের মতো মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সম্মান করুন।
 
তা না হলে এরাই একদিন মুক্তিযুদ্ধের নায়ক সেজে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে বিচার করবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধারা ভয় পায়না এই ধর্ম-ব্যবসায়ীদেরকে, বঙ্গবন্ধুর ভাষায় বলতে হয় "রক্ত যখন দিয়েছি আরও রক্ত দেব" বাংলার মাটি এই ধর্ম-ব্যবসায়ীদের হাত থেকে মুক্তি করার শপথ করেছি আমরা একাত্তরে এবং এখনও।
 
এরই মাঝে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে আলেম সমাজের অবদানের বিষয়ে ‘আলেম মুক্তিযোদ্ধার খোঁজে’ নামের বইটিতে লেখা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অসংখ্য ইসলামী আলেম অংশগ্রহণের পাশাপাশি সংগঠকের ভূমিকায়ও আবর্তিত হয়েছে কওমি মাদ্রাসা। এখানে লেখা হয়েছে, মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশের কথা, যিনি প্রকৃত অর্থেই একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, কিন্তু হেফাজত-ই-ইসলাম তাঁকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। মাওলানা তর্কবাগীশ ছিলেন ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসায় পড়া কওমি ঘরানার একজন আলেম। তিনি নাকি “বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে (১৯৭১) উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। বলা হয় মাওলানা তর্কবাগীশ ‘ওলামা পার্টি’ গঠন করে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করেছেন। তিনি ছিলেন ওই পার্টির সভাপতি। হয়তো কিছুদিন পরে শোনা যাবে বাংলার হেফাজত-ই-ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিলো যেমনটি বলা হয় (রাজনীতিতে বঙ্গীয় ওলামার ভূমিকা বইয়ের পৃষ্ঠা-২০৪ তে) মাওলানা তর্কবাগীশ নাকি বাংলাদেশের গণপরিষদের প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন, কাজেই তিনিই বাংলাদেশের প্রথম অগ্রযাত্রা শুরু করেন। তাঁর সভাপতিত্বেই সংসদের নেতা, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার প্রমুখ নির্বাচিত হন। অর্থাৎ মুক্তিযোদ্ধা ও বঙ্গবন্ধুর কোনও ভূমিকা নেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে।
 
প্রকৃত সত্য হলো মাওলানা তর্কবাগীশ পূর্ব পাকিস্তান কৃষক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন, তাঁর জন্ম ১৯০০ সনে অর্থাৎ সবচাইতে বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য তাই পার্লামেন্টারি ভদ্রতায় গণ-পরিষদের প্রথম সভায় ১০ এপ্রিল, ১৯৭২ তাঁকে সভাপতিত্ব করতে হয়, 'ওলামা পার্টি’ গঠনের জন্যে নয়। গণ-পরিষদের প্রথম স্পিকার ছিলেন শাহ আবদুল হামিদ এবং প্রথম ডেপুটি স্পিকার ছিলেন মোহাম্মদ উল্লাহ। বাংলাদেশের সংবিধান রচনা কমিটির সদস্য ছিলেন ৩৪ জন। সংবিধান রচনা কমিটির প্রধান ছিলেন ড. কামাল হোসেন। সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য বেগম রাজিয়া বানু। সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। সংবিধান রচনা কমিটি ভারত ও যুক্তরাজ্যের সংবিধানের আলোকে বাংলাদেশের সংবিধান রচনা করেন, যার মূল আদর্শ হলো - সাম্যবাদ, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও সেকুলারিজম ।
 
আবার ফিরে আসি আমেরিকার স্বাধীনতার ইতিহাসে, কারণ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর্যালোচনায় এই কোম্প্যারাটিভ আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে এগুলো ইতিহাসের কথা তবুও বার বার বলতে হয় শুনতে হয় রাষ্ট্রের সাথে জনগণ ও সরকারের মধ্যে সম্পর্কটা বুঝে নিতে চাই বলে। আব্রাহাম লিঙ্কনকে হত্যা করেও আমেরিকার দাসত্বপ্রথা উচ্ছেদ করা থেকে সরাতে পারেনি তাঁর আদর্শ, সাংবিধানিকভাবেই এটি সম্ভব হয়েছিল, যেমনটি বঙ্গবন্ধুর বেলাতেও দেখি তাঁকে হত্যা করেও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ঠেকাতে পারেনি কেউ, পারবেও না।
 
কথিত আছে যে যখন ৪ জুলাই ১৭৭৬, ১৩ টি আমেরিকান উপনিবেশ তাদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে এবং আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র গঠন করে তখন ওই ১৩ টি অঙ্গরাজ্যের মোট রাজস্ব আয় ব্রিটিশ ভারতের শুধু বাংলার রাজস্ব আয়ের চেয়েও অনেক কম ছিল, তাই ব্রিটিশরাজ আমেরিকাকে স্বাধীনতা দিয়ে ভারতবর্ষকে আরও দু'শত বছর গোলামির শেকলে বেঁধে শাসন করেছে। ব্রিটিশ সরকার যদিও আমেরিকান সামরিক বিদ্রোহের অবসানের জন্যে সৈন্য পাঠায়, কিন্তু সাত বছর স্বাধীনতা সংগ্রামের পর অবশেষে পরাজিত হয়।
 
বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে, বাংলাদেশের সরকার প্রধান শেখ হাসিনাকে মনে রাখতে হবে, যে মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র হাতে দেশ স্বাধীন করেছে সেদেশে আবার পরাজিত শক্তিধররা মুক্তিযোদ্ধাদেরকে চোখ রাঙিয়ে কথা বলবে, হত্যা আর গ্রেপ্তারের হুমকি দেবে এটি কখনো জাতি মেনে নেবেনা।
 
সারাদেশ জুড়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তির দাবিতে ২০১৩-এর আন্দোলনের একটা অন্যতম দাবি ছিল যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণার। ইতিমধ্যে মন্ত্রীসভার আলোচনা এবং অতীতে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে এ বিষয়ে সরকারি অবস্থান সহজেই বোঝা যায়। হাসিনা সরকার যদি মনে করে তারা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার তাহলে দেশ পরিচালনায় এতো উদাসীনতা কেন? সরকার জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার ব্যাপারে আশু কোনও পদক্ষেপ গ্রহণে আগ্রহী নয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ট্রাইব্যুনাল বিষয়ক আইনের সর্ব সাম্প্রতিক সংশোধনীতে যুদ্ধাপরাধের জন্য সংগঠনকে অভিযুক্ত করার বিধান রাখা হয়েছে, যা থেকে অনেকের ধারণা যে এতে করে জামায়াতে ইসলামীকে সংগঠন হিসাবে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে, এবং দোষী সাব্যস্ত হলে দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করাও যেতে পারে।
 
বাংলাদেশে ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী একদিকে কোণঠাসা হলেও কখনোই নিষিদ্ধ ঘোষিত হয় নি। উপরন্তু দু’দফায় দল হিসেবে জামায়াতের জন্য আইনি বা সাংবিধানিক বৈধতার ব্যবস্থা করা হয়েছে প্রথমবার ১৯৭৯ সালে এবং পরে ২০০১ সালে। এর অতিরিক্ত একদফায় কার্যত জামায়াতের আদর্শকে জুড়ে দেয়া হয়েছে রাষ্ট্রের সঙ্গে, আরেকবার সেই ব্যবস্থাটির মৃতপ্রায় শরীরে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার করা হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশের গত ৪৫ বছরে আইনি ও সাংবিধানিক বিবেচনায় এটাই হল জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাস।
 
জামায়াতে ইসলামী যখন রাজনৈতিকভাবে প্রায় একঘরে হয়ে পড়েছে, ঠিক তখনই জামায়াতি কুশিলবরাই আবার ইসলাম রক্ষার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, ভিন্ন মোড়কে; হেফাজত-ই-ইসলাম নামে। সরকারপ্রধান শেখ হাসিনাকে ভুল তথ্য দিয়ে ভুলভাবে বোঝানো হয়েছে যে, হেফাজত-ই-ইসলাম ভারতবর্ষে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন করেছিল। আসলে সেটি হয়েছে আলেমদের সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের নেতৃত্বে, যেখানে হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিষ্টান ও পারসিরা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
 
প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন কওমি মাদ্রাসার শিক্ষাক্রম কি পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে, দেশের প্রচলিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থার কতটা সামঞ্জস্য রয়েছে তা নির্ধারণ কি করা হয়েছে? তাদের অর্থায়নের উৎস কি? জঙ্গিবাদ বা সৌদি ওয়াহাবিজমের সাথে কওমি মাদ্রাসার কতটুকু সম্পর্ক রয়েছে তা কি খতিয়ে দেখা হয়েছে?



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

বাংলাদেশের প্রাইমারি ও মাধ্যমিক শিক্ষা পাঠক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়েছে জানুয়ারি ২০১৭ তে বিতরণকরা নতুন বইয়ে অদ্ভুত সব কারণ দেখিয়ে মুক্ত-চর্চার লেখকদের লেখা ১৭ টি প্রবন্ধ বাংলা বই থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ইসলামী মৌলবাদী লেখা যোগ হয়েছে, আপনি কি এই পুস্তক আপনার ছেলে-মেয়েদের জন্য অনুমোদন করেন?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ