১১ ডিসেম্বর ২০১৭ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৬ষ্ঠ বর্ষ ২৬শ সংখ্যা: বার্লিন, রবিবার ২৫জুন – ০১জুল ২০১৭ # Weekly Ajker Bangla – 6th year 26th issue: Berlin, Sunday 25 jun – 01 Jul 2017

যেভাবে অর্থনীতির ক্ষতি করছে বাল্যবিবাহ

বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের যে ছবি আলোড়ন তুলেছে

প্রতিবেদকঃ ডয়েচে ভেলে তারিখঃ 2017-06-29   সময়ঃ 15:43:12 পাঠক সংখ্যাঃ 157

বাল্যবিবাহের কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২০৩০ সাল নাগাদ লাখ লাখ কোটি টাকা হবে, যা দারিদ্র্য দূরীকরণের বৈশ্বিক উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক৷
বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে পারলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি কিছুটা রোখা যাবে এবং নারীদের শিক্ষার সুযোগ বাড়বে, যা তাদের উপার্জনক্ষম করে তুলবে৷ আর অর্থনীতিতে নারীর অবদান বাড়লে একটি দেশ সার্বিকভাবে লাভবান হবে৷ বিশ্বব্যাংক এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর রিসার্চ অন উইমেন'-এর উদ্যোগে তৈরি মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এই তথ্য৷ প্রতিবেদনটিতে প্রকাশিত কিছু তথ্য এখানে তুলে ধরা হলো:
- প্রতিবছর বয়স আঠারো পেরুনোর আগেই পনের মিলিয়নের মতো মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়৷ অর্থাৎ প্রতি দুই সেকেন্ডে একটি বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটছে৷  
- নাইজারে বাল্যবিবাহের হার সবচেয়ে বেশি৷ সে দেশের ৭৭ শতাংশ মেয়ের বয়স ১৮ পার হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যায়৷ চাদের ক্ষেত্রে এই হার ৬৮ শতাংশ এবং মালি ও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ৫৯ শতাংশ৷ 
- বাল্যবিবাহের হার কমেছে, তবে সংখ্যা বেড়েছে যা বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বোঝা যাচ্ছে না৷
- মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে হলে বেশি সন্তান জন্ম দেয়ার প্রবণতা থাকে৷ তাই বাল্যবিবাহ বন্ধ করা গেলে নাইজেরিয়ায় গর্ভধারনের হার ১২ শতাংশ, ইথিওপিয়া ও নাইজারে ১৫ শতাংশ এবং বাংলাদেশে ১৮ শতাংশ কমবে, যা গোটা বিশ্বের জনসংখ্যার উপর ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করবে৷
- এখনই বাল্যবিবাহ বন্ধ করা গেলে নাইজারের জনসংখ্যা ২০৩০ সাল নাগাদ প্রায় ৫ শতাংশ কমবে, যা দেশটির বাজেট এবং সরকারি সুযোগসুবিধায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে৷
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমানো গেলে জিডিপি বাড়বে৷ ২০১৫ সাল নাগাদ যদি বাল্যবিবাহ বন্ধকরা যেতো, তাহলে ২০৩০ সাল নাগাদ গোটা বিশ্ব ৫৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সুবিধা ভোগ করতো৷
- বাল্যবিবাহের শিকারদের গর্ভে জন্ম নেয়া সন্তানের মৃত্যু ঝুঁকি এবং শারীরিকভাবে দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ মায়েদের সন্তানদের চেয়ে বেশি৷ পাঁচ বছরের কমবয়সি শিশুদের প্রতি একশ' জনের মধ্যে তিন জনের মৃত্যুর কারণ অল্পবয়সে মা হওয়া৷
এআই/এসিবি (থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন)
 
বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের যে ছবি আলোড়ন তুলেছে
নওশিনের বিয়ে
নওশিন আক্তারের বয়স ১৫ বছর৷ বাবার বাড়ি বাংলাদেশের মানিকগঞ্জে৷ বিয়ের দিনও সে ছুটে বেড়াচ্ছিল পড়শিদের বাড়ি বাড়ি৷ সেখান থেকেই ধরে এনে বিয়ের পিড়িতে বসানো হয় তাকে৷ তার বিয়ের, আইনি দৃষ্টিতে যা অবৈধ, কিছু ছবি থাকলো এই ছবিঘরে৷
বিয়ে বাড়িতে উৎসব
আগস্টের ২০ তারিখে বিয়ে হয় নওশিনের৷ নিজে বিয়ের অর্থ সে তেমন না বুঝলেও, পাড়াপড়শির এই বিয়ে নিয়ে আগ্রহের কমতি ছিল না৷ বিয়ের দিন উৎসবের এই ছবি জানান দিচ্ছে একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরের বয়স নিয়ে তাঁদের কোনো ভাবনা নেই৷
নওশিনের গোসল
বিয়ের দিন প্রকাশ্যেই গোসল করানো হয় নওশিন আক্তারকে৷ বাল্যবিবাহের জন্য তাকে প্রস্তুত করার অংশ এই গোসল৷ অনেকের সঙ্গে এএফপি-র আলোকচিত্রিও দেখেছেন সেই আচার৷
কনের মেকআপ
বিয়ের সাজে সাজানো হচ্ছে নওশিনকে৷ বাংলাদেশে কনেকে বেশ রংচংয়ে মেকআপে সাজানো হয়৷ অনেক সময় চেহারার রং ফর্সা করার চেষ্টা করা হয় জোর করে, যা অনেকসময় দেখতে কিছুটা দৃষ্টিকটু হলেও ঐতিহাসিকভাবে চলে আসছে৷
৩২ বছর বয়সি বর
নওশিনের বরের নাম মোহাম্মদ হাসামুর রহমান, বয়স ৩২ বছর৷ বিয়ের সন্ধ্যায় অপ্রাপ্তবয়স্ক কনের সঙ্গে ছবির জন্য পোজ দিয়েছেন রহমান৷ এএফপি-র একজন বিদেশি আলোকচিত্রি সেই বিয়েতে উপস্থিত হতে পারলেও বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পারেনি গিয়ে বিয়েটি বন্ধ করতে৷
শ্বশুর বাড়ির উদ্দেশ্যে নওশিন
বিয়ে শেষে শ্বশুর বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে ১৫ বছর বয়সি নওশিন৷ পরিবারের সদস্যরা তাকে গাড়িতে তুলে দিচ্ছেন৷ বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের এ সব ছবি গোটা বিশ্বের আলোড়ন তুলেছে৷
 
ডয়েচে ভেলে 

 

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ