১৯ নভেম্বর ২০১৭ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৬ষ্ঠ বর্ষ ৩৩শ সংখ্যা: বার্লিন, রবিবার ১৩ আস্ট – ১৯ আস্ট ২০১৭ # Weekly Ajker Bangla – 6th year 33rd issue: Berlin,Sunday 13Aug – 19Aug 2017

বন্যার জলে ভাসছে দক্ষিণ এশিয়া

৩২ লাখ মানুষ ক্ষতির শিকার

প্রতিবেদকঃ প্রথম আলো / DW তারিখঃ 2017-08-16   সময়ঃ 06:23:18 পাঠক সংখ্যাঃ 147

ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যায় এ পর্যন্ত অন্তত ২২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। প্রায় ১৫ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে পানিবন্দী হয়ে পড়া গ্রামগুলোতে তল্লাশি চালিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। কর্মকর্তারা গতকাল মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছেন।

ভারতে নজিরবিহীন বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে শতাধিক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। বন্যা ও ভূমিধসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আসাম, মেঘালয়, বিহার, হিমাচল প্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

কলকাতা প্রতিনিধি জানান, গতকাল মঙ্গলবার ভারতের স্বাধীনতা দিবসে বন্যাকবলিত এলাকার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছে হাঁটুসমান পানিতে দাঁড়িয়ে।

পশ্চিমবঙ্গে নদীর পানিতে ডুবছে একের পর এক এলাকা। দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুরে পানিতে ডুবে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানকার বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত। গতকাল বৃষ্টি কম হলেও পানি কমেনি। ভুটান, নেপাল ও বিভিন্ন বাঁধের ছেড়ে দেওয়া পানির তোড়ে ভেসে গেছে বহু এলাকা। মালদহে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। ডুবেছে হরিশ্চন্দ্রপুর। মহানন্দার পানিতে প্লাবিত হয়েছে চাঁচল ও ইংরেজ বাজার। রায়গঞ্জে ফুঁসছে গামারি, কুলিক ও নাগর নদ। প্লাবিত হয়েছে বহু গ্রাম। দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারি নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে বহু এলাকা। ডালখোলায় ভেঙে পড়েছে রেলসেতু।

আসামে এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ২২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। মেঘালয় ও আসামের পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে ওই অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আরও নাজুক হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীকে তলব করা হয়েছে এবং বিমানবাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত রাজ্যগুলোতে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা পাঠানো হচ্ছে বলে এক টুইটার বার্তায় জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

তিন দিন ধরে নেপালসহ বিহারে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় রাজ্যের পাঁচটি জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। মহানন্দা ও কানকাই নদের পানি বেড়ে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। ট্রেন চলাচলও মারাত্মক বিঘ্নিত হচ্ছে।

এদিকে, কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গগামী বহু ট্রেন গতকালও বাতিল করা হয়েছে। এখনো ডুবে আছে কিষাণগঞ্জ রেলস্টেশন। কলকাতা থেকে দার্জিলিং, নিউ জলপাইগুড়ি, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, গুয়াহাটি, আগরতলাগামী কোনো ট্রেনই ছাড়েনি কলকাতা থেকে। বন্ধ রয়েছে কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গগামী দূরপাল্লার সব বাস। বন্ধ আছে কলকাতা-ভুটান বাসও। ফলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ভারতের সাত রাজ্যের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শিলিগুড়ি হলো উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার। এখান থেকে সড়কপথে আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, মণিপুর রাজ্যে যোগাযোগের পথ রয়েছে। ফলে কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি সড়ক ও রেলপথে আসা বন্ধ হয়ে গেছে বন্যার কারণে। এতে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে কলকাতার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের সড়ক ও রেল যোগাযোগ।

নেপালের দক্ষিণাঞ্চলের জনবহুল নিচু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। হাজার হাজার বাড়িঘর পানিতে ডুবে গিয়ে এলাকার অন্তত ২০ শতাংশ মানুষ দুর্ভোগের কবলে পড়েছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনার্দন শর্মা গতকাল পার্লামেন্টে জানান, ‘আমাদের হাতে এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুসারে ১১১ জন মারা গেছেন। ৩৫ জন নিখোঁজ আছেন। তাঁদের সন্ধানে অভিযান চলছে।’

৩২ লাখ মানুষ ক্ষতির শিকার

বাংলাদেশের ২১টি জেলার ৯৬টি উপজেলা এখন বন্যা প্লাবিত৷ ক্ষতির মুখে পড়েছেন ৩২ লাখ মানুষ৷ এই বন্যা উত্তরাঞ্চল ছাড়িয়ে মধ্যাঞ্চল হয়ে ঢাকা শহরকেও প্লাবিত করতে পারে৷ তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ঢাকার পরিস্থিতি তত খারাপ নাও হতে পারে৷
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্র বুধবার জানায়, দেশের উত্তরাঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার উজানের অংশ ছাড়া বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হচ্ছে৷ তবে মেঘনা অববাহিকার ভারতীয় অংশে পানি কমা অব্যাহত আছে৷ ফলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মেঘনা অববাহিকার অধিকাংশ নদীর পানিও কমছে৷
এদিকে, বাংলাদেশের উজানের তিনটি অববাহিকার মধ্যে গঙ্গায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও ব্রহ্মপুত্রের উজানের তিনটি পয়েন্ট গোহাটি, পান্ডু ও গোয়ালপাড়ায় পানি হ্রাস পাচ্ছে৷ ধুবরী পয়েন্টে পানি স্থিতিশীল রয়েছে৷ অপরদিকে মেঘনা অববাহিকায়ও পানি কমছে৷ গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি আগামী ৭২ ঘণ্টা অব্যাহত থাকবে৷ এই অববাহিকার উজানে নেপালে ও বিহারে বন্যা পরিস্থিতি থাকার ফলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে৷
কেন্দ্রের পূর্বাভাস বলছে, দেশের উত্তর অঞ্চলের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি ব্রহ্মপুত্র নদীর উজানের অংশে কুড়িগ্রাম ও রংপুরে উন্নতি হতে পারে৷ তবে জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে৷
এই বন্যা পরিস্থিতি বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলে বিস্তৃত হওয়ার আশংকা রয়েছে৷ মধ্যাঞ্চলের ঢাকার চতুর্দিকের পাঁচটি নদীর পানি বিপদসীমার ৩৮ সেমি হতে ১৩৬ সেমি নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে৷

বন্যায় বাংলাদেশেরও বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। দেশটিতে এ পর্যন্ত অন্তত ২৯ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান রিয়াজ আহমেদ বলেন, বন্যায় ১৫ লাখ মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। তাঁদের আশ্রয় দিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১ হাজার ২০০টি আশ্রয় শিবির তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন নদীর ভেঙে যাওয়া বাঁধ মেরামত এবং বন্যাকবলিতদের সহযোগিতা ও বন্যায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ