২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৬ষ্ঠ বর্ষ ৩৫শ সংখ্যা: বার্লিন, রবিবার ২৭আস্ট – ০২সেপ্টে ২০১৭ # Weekly Ajker Bangla – 6th year 35th issue: Berlin,Sunday 27Aug – 02Sep 2017

মুসলিম হলেই ‘বাঙালি', হিন্দু হলে ‘ইন্ডিয়ান'

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সেদেশে বাস

প্রতিবেদকঃ ডয়েচে ভেলে তারিখঃ 2017-09-01   সময়ঃ 20:53:59 পাঠক সংখ্যাঃ 119

রাখাইন রাজ্যে এমন নীতিতেই চলছে মিয়ানমার সরকার৷ রাষ্ট্রীয়ভাবেই রোহিঙ্গা মুসলিমদের অবৈধভাবে বসবাস করা ‘বাঙালি' বলে অভিহিত করা হয়৷ এমনকি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সেদেশে বাস করা হিন্দুদেরও নাগরিক মানতে নারাজ মিয়ানমার৷
২৫ আগস্ট থেকে রাখাইন রাজ্যে শুরু হওয়া সহিংসতায় এরই মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন চার শতাধিক মানুষ৷ সেনাবাহিনীর বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সেনা অভিযানে কমপক্ষে ৩৭০ রোহিঙ্গা বিদ্রোহী নিহত হয়েছে৷ এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ১৪ জন, দু'জন সরকারি কর্মকর্তা এবং ১৪ জন বেসামরিক নাগরিকও নিহত হয়েছেন সহিংসতায়৷ তবে বাস্তবে এ সংখ্যা আরো বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে৷
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান এখনও চলছে৷ এই অভিযানে হত্যা, গণধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগও উঠেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে৷
সহিংসতা থেকে বাঁচতে এখনও দলে দলে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছেন রোহিঙ্গারা৷ শুরুর দিকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠালেও রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা বাড়তে থাকায় অনানুষ্ঠানিকভাবে সীমানা খুলে দিয়েছে বাংলাদেশ৷ গত এক সপ্তাহে প্রায় ৩৮ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স৷
নাফ নদীতে ভাসছে মরদেহ


শুক্রবার ভোরে কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীতে ভেসে এসেছে ১৬ রোহিঙ্গার মরদেহ৷ মরদেহের অবস্থা দেখে বাংলাদেশের সীমান্ত কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, দুই-তিন দিন আগে তাঁদের হত্যা করে মরদেহ পানিতে ফেলে দেয়া হয়েছে৷
এর আগে, বৃহস্পতিবার টেকনাফের শাহ পরীর দ্বীপে উদ্ধার করা হয় ১০ শিশু ও নয় নারীর মরদেহ৷ বুধবার নদী পাড়ি দিতে গিয়ে নৌকাডুবিতে নিহত চার রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার করে বাংলাদেশ পুলিশ৷

গত কয়েকদিনে সীমানা অতিক্রম করে পালানোর সময় ওপার থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে৷ কয়েকটি ক্ষেত্রে মর্টার ব্যবহারের কথাও জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম৷
গুলিবিদ্ধ হয়ে অন্তত ৩৩ জন রোহিঙ্গা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন৷ হাসপাতালেই মারা গেছেন গুরুতর আহত দু'জন৷
হিন্দু? না ওরা মুসলিম?
মুসলিম ধর্মাবলম্বী রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নেই কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি৷ সংবিধানে তাঁদের কোনো নাগরিকত্বও নেই৷ ফলে সরকার সবসময়ই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ‘অবৈধ অভিবাসী' হিসেবে বিবেচনা করে৷
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে দু'সপ্তাহ আগেই একটি প্রতিবেদন জমা দেয় কফি আনান কমিশন৷ প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয়ার পথ উন্মুক্ত করা, অবাধ চলাচল, মতপ্রকাশের সুযোগ দেয়াসহ বেশকিছু সুপারিশ করা হয়৷ তবে সে প্রতিবেদন নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাচ্ছে না অং সান সু চি-র সরকার৷ বরং জাতিসংঘ একটি স্বাধীন তদন্ত দল পাঠাতে চাইলে, ভিসা দেয়া হয়নি দলের সদস্যদের৷


তবে এবারের সহিংসতায় শুধু রোহিঙ্গা মুসলিমরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তা নয়৷ রাখাইন রাজ্যের মংডুতে বাস করা কয়েকশ' হিন্দু পরিবারকেও ছাড়তে হচ্ছে দেশ৷ গত দু'দিনে অন্তত সাড়ে চারশ হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ-শিশু সীমানা পেরিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন বাংলাদেশে৷ আরো দুই শতাধিক হিন্দু নাগরিক আটকা পড়েছেন নো-ম্যানস' ল্যান্ডে৷
রোহিঙ্গা সংকটে এ ঘটনা অনেকটাই নতুন৷ হিন্দু শরণার্থীরা বলছেন, ২৫ আগস্ট রাতে যখন রাখাইন রাজ্যে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ওপর আক্রমণ করে আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি আর্মি – এআরএসএ, তখন কিছু কালো কাপড় পড়া কিছু লোক আগ্নেয়াস্ত্র, বোমা ও ছুরি হাতে মংডুর ফকিরাবাজার, রিক্তাপাড়া এবং চিকনছড়ি গ্রামেও হামলা চালায়৷ এখনও কালো কাপড় পরিহিতরা সেই গ্রামগুলিতে অবস্থান নিয়ে আছে৷ তাদের হামলায় অন্তত ৮৬ হিন্দু গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করছেন শরণার্থীরা৷
ঠিক কী কারণে, কারা এই হামলা চালাচ্ছে, তা এখনও বুঝে উঠতে পারছেন হিন্দু শরণার্থীরা৷ একদিকে সেনাবাহিনী, অন্যদিকে সশস্ত্র দখলদার, এই সহিংসতা থেকে বাঁচতে দলে দলে বাংলাদেশে আসছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও৷
মিয়ানমার সরকার রাখাইনের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদেরও মিয়ানমারের অধিবাসী বলে মনে করে না৷ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মিয়ানমারে বসবাস করায় নিজেদের বার্মিজ বলেই দাবি করেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা৷ কিন্তু পরিচয়পত্রে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে তাদেরও জাতীয়তা হিসেবে দেখানো হয় ‘ইন্ডিয়ান'৷
এদিকে, মিয়ামার সরকার জানিয়েছে উত্তর রাখাইনের সহিংসতা কবলিত এলাকা থেকে ১১ হাজার সাতশ' ‘আদিবাসীকে' সরিয়ে নেয়া হয়েছে৷ উত্তর রাখাইনে ‘আদিবাসী' বলতে অমুসলিম বার্মিজদের বুঝিয়ে থাকে মিয়ানমার সরকার৷
বৃথা বৈঠকে জাতিসংঘ
যুক্তরাজ্যের আহ্বানে বুধবার রোহিঙ্গা ইস্যুতে বৈঠকে বসে জাতিসংঘের ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ৷ দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক কার্যত শেষ হয়েছে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই৷ চলমান সহিংসতার নিন্দা জানালেও আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি নিরাপত্তা পরিষদ৷
কূটনীতিকরা বলছেন, রোহিঙ্গা সংকটে জাতিসংঘের আরো শক্ত ভূমিকা রাখার পথে বাধা চীন৷ মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংকট হিসেবে দেখে, সেখানে এখনই জাতিসংঘের হস্তক্ষপের প্রস্তাবে এর আগেও ভেটো দিয়েছিল চীন৷

বৈঠক শেষে জাতিসংঘে ব্রিটিশ দূত ম্যাথিউ রাইক্রফট সাংবাদিকদের জানান, ‘‘অধিকাংশ সদস্য রাষ্ট্রই সংকট নিরসনে অং সান সু চি-র ওপরই ভরসা রাখতে চায়৷ এখন পর্যন্ত গণতন্ত্রের পথে তাঁর উন্নতি আশাব্যঞ্জক৷''
তবে সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট বেশ জোরেসোরেই আলোচনায় উঠবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা৷ চীনের অনানুষ্ঠানিক সমর্থন সত্ত্বেও বড় ধরনের চাপের মুখেই পড়তে হতে পারে মিয়ানমারকে৷
এডিকে/ডিজি (রয়টার্স, এপি, এএফপি, ডিপিএ)
 

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

বাংলাদেশের প্রাইমারি ও মাধ্যমিক শিক্ষা পাঠক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়েছে জানুয়ারি ২০১৭ তে বিতরণকরা নতুন বইয়ে অদ্ভুত সব কারণ দেখিয়ে মুক্ত-চর্চার লেখকদের লেখা ১৭ টি প্রবন্ধ বাংলা বই থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ইসলামী মৌলবাদী লেখা যোগ হয়েছে, আপনি কি এই পুস্তক আপনার ছেলে-মেয়েদের জন্য অনুমোদন করেন?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ