২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ইং

শারমিন শামস এর ব্লগ চিন্তা

কী নিদারুন এক অপমান আর লাঞ্ছনার জীবন তাদের

প্রতিবেদকঃ শারমিন শামস তারিখঃ 2017-09-06   সময়ঃ 23:31:57 পাঠক সংখ্যাঃ 74

২০০৯ সালের কোন এক সময় আমি দুইদিনের জন্য ফরিদপুর আর দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে ‍শুটিঙয়ের কাজ করেছিলাম। সকালে যেতাম, রাতে ফিরতাম। সারাদিন মেয়েগুলো, তাদের দালাল, মাসি, খদ্দেরদের সাথে কাটিয়েছি ওই দুই দিন। কাছ থেকে দেখে জেনেছি কী নিদারুন এক অপমান আর লাঞ্ছনার জীবন তাদের। আচ্ছা, জীবনে কোনদিন শুনছেন কোন মেয়ে এই দেশে স্বেচ্ছায় যৌনপল্লীতে জীবন কাটাতে চায়? শুনছেন? হ্যা, স্বেচ্ছায় কলগার্ল হবার নজির থাকতে পারে, কিন্তু সেটি স্বাধীন ব্যবসা ও জীবন, কোন পল্লীর অন্ধকারে চিহ্নিত বেশ্যার জীবন নয়।

স্বকৃত নোমান একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। একজন আমাকে লিঙক পাঠালেন বিধায় দেখলাম, তিনি আমাকে ভদ্র নারী হিসেবে উল্লেখ করে আমার মাত্র দুই লাইনের স্ট্যাটাসটিও খন্ডিত আকারে দিয়ে দিয়েছেন আর বলেছেন, আমি নাকি তার স্ট্যাটাস খন্ডিত করে দিসি। আল্লারে। কই যাই! আচ্ছা নোমানের কাছে আমি যে প্রশ্নটি রেখেছিলাম, সেই প্রশ্নের উত্তরটি কই? আমি জানতে চেয়েছিলাম, বেশ্যালয়ে বেশ্যা কারা হবেন? ওহ আচ্ছা, তিনি বলেছেন, ভাসমান ও ভেঙ্গে পরা পল্লীর যৌনকর্মীরা হবেন সেবিকা। আর তাতে ধর্ষণ কিছুটা কমবে এবং তার কন্যা জায়া জননী নির্বিঘ্নে বাড়ির বাইরে যেতে পারবে।

আচ্ছা, যৌনকর্মীরা কত বয়স পর্যন্ত দেহব্যবসার উপযোগী থাকেন? চল্লিশ, পয়তাল্লিশ? আচ্ছা, ভাসমান বেশ্যাদের ধরে এনে তো পল্লীতে পুরবেন, কিন্তু এদের যখন বয়স বাড়বে তখন নতুন মেয়ে সাপ্লাই যে হবে, সেই মেয়েরা কারা হবেন? আপনার আমার মেয়ে? নাকি অন্য কারো? ঠিক এই প্রশ্নটাই আপনাকে করছিলাম বিজ্ঞ লেখক। চিন্তায় ধরে নাই হয়তো তাই আবারো ভেঙ্গে বলতে হল আর কি।

যৌনপল্লীতে আমি যেসব মেয়েকে পেয়েছি তাদের শতকরা পচানব্বই ভাগ কীভাবে এসছে জানেন? অপহরণ, ধর্ষণের পর পরিবারে গ্রহণ না করা, পাচার, প্রতারণা, তীব্র দারিদ্র ইত্যাদি। কোন মেয়েই পতিতালয়ের জীবন চায় না। কোন মেয়ে না। প্রত্যেকটি যৌনকর্মী পতিতালয়ের জীবন থেকে মুক্তি চায়। কিন্তু এই দেশে মৃত্যুর আগে সে মুক্তি মেলে না।

নোমান বলেছেন, পতিতালয়গুলোকে রাজনৈতিক পান্ডা আর চাঁদাবাজদের প্রকোপ থেকে রক্ষা করলে সমাজের ধর্ষক পুরুষরা নির্বিঘ্নে পতিতালয়ে গিয়ে বীর্যপাত করে আরাম পাবেন, ফলে তার সন্তানের দিকে আর হাত বাড়াবে না।

একজন লেখককে যদি আজ এই জ্ঞান্ও দিতে হয় আমার মত অভাজনের যে, ধর্ষণ যতটা না শারীরিক কামপ্রবৃত্তির কারণে ঘটে তার চেয়ে বেশি নারীর প্রতি পুরুষের শক্তি ক্ষমতা তাকত প্রদর্শনের কারণে ঘটে। কোন একটি দেশে ধর্ষণের মহামারী ঠেকাতে একজন লেখক ধর্ষকাম পুরুষদের না ঠেকিয়ে নারীকেই আবারো ব্যবহারের সুন্দর সমাধান লিখে দিয়েছেন। বাঃ! কী সুন্দর! পুরুষতান্ত্রিকতা তো এভাবেই যুগ যুগ ধরে নারীকে ব্যবহার করে এসেছে।

যৌনপল্লীকে সহজ করে দেয়া মানে নিয়মিত তাতে যৌনকর্মীর সরবরাহ অবারিত থাকবে। মানে বছরে হাজার হাজার নারী কী সহজে ঢুকে যাবে ওই চার ফুট বাই ছয় ফুটের ঘরে। বিশ্বাস করেন, ঠিক অতটুকুই এক একটা ঘর। বোতল ভর্তি খাবার নয়, শুধু কনডম। আর তেল চিটচিটে বিছানায় শুয়ে আছে বিকৃতকাম খদ্দের, বাইরে উঠোনে কেদে কেদে অপেক্ষা করছে দেড় বছরের শিশু, মায়ের জন্য। মা তখন দেহদানে ব্যস্ত। নিজের চোখে দেখা। প্রত্যেকটি মেয়ে বলেছে, এই জীবন অভিশপ্ত। বাধ্য হয়ে তারা এসছেন এই জীবনে।

কিন্তু বিশিষ্ঠ কথাশিল্পীর কাছে এটি একটি সুন্দর সমাধান, কারন তারা স্বেচ্ছায় এসেছে। ভাসমান যৌনকর্মীদের নিয়ে তিনি সুন্দর করে শুরু করতে চান সেই আদিম ব্যবসা, যা অমানবিক, অভিশপ্ত। পুরুষতান্ত্রিকতা মানুষের মজ্জায় থাকে, গিরায় গিরায় থাকে। হাজার গা ঝাড়া দিলেও যায় না। পুরুষের সেবায় নারী, এই বোধ থেকে বেরিয়ে আসা তো আর এত্ত সহজ না। ধর্ষণের সমাধানে তাই নারীকেই লাগিয়ে দাও আবার কাজে। তাতে ধর্ষণ কমে যাবে।

সব ধর্ষক টিকিট কেটে চলে যাবে বেশ্যালয়ে। তারপর ফিরে এসে উপন্যাস ফাদবে, “বেশ্যার ঘরে দুটি ঘণ্টা”। আর ধর্ষকের মেয়ে বেনি ঝাকাতে ঝাকাতে স্কুলে যাবে। তার কোথাও কোন সমস্যা হপে নাহ!



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

বাংলাদেশের প্রাইমারি ও মাধ্যমিক শিক্ষা পাঠক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়েছে জানুয়ারি ২০১৭ তে বিতরণকরা নতুন বইয়ে অদ্ভুত সব কারণ দেখিয়ে মুক্ত-চর্চার লেখকদের লেখা ১৭ টি প্রবন্ধ বাংলা বই থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ইসলামী মৌলবাদী লেখা যোগ হয়েছে, আপনি কি এই পুস্তক আপনার ছেলে-মেয়েদের জন্য অনুমোদন করেন?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ