২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৬ষ্ঠ বর্ষ ৩৬শ সংখ্যা: বার্লিন, রবিবার ০৩সেপ্টে – ০৯সেপ্টে ২০১৭ # Weekly Ajker Bangla – 6th year 36th issue: Berlin,Sunday 02Sep - 09Sep 2017

"জয় বাংলা বাংলার জয়" গানটির না জানা ইতিহাস উদ্ধারের প্রচেষ্ঠা

মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা

প্রতিবেদকঃ আল আমিন বাবু তারিখঃ 2017-09-08   সময়ঃ 00:34:03 পাঠক সংখ্যাঃ 131

আল আমিন বাবু একজন সংগীতশিল্পী গিটারিস্ট এবং কম্পোনিষ্ট। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে ঘিতে তাঁর বহু গণসংগীত প্রকাশ হয়েছে।  তিনি আর একজন লিজেন্ডারি  সংগীত শিল্পী  শওকত হায়াৎ খান এর মাদ্ধমে জয় বাংলা বাংলার জয় গানটির সৃষ্ট্রির রহস্য খুঁজতে গিয়ে এই র্টিকেলটি লিখেছেন।

শওকত হায়াৎ খান ভাই, আপনাকে ধন্যবাদ দিয়ে খাটো করবো না । আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এই প্রজন্মের হয়ে । ভীষণ ন্যাক্কারজনক ভাবে ইতিহাস বিকৃত হওয়া এই দেশে আমি শুধুই এই কালজয়ী মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর শক্তির হুঙ্কার গানটির সঠিক ইতিহাসটি খোঁজার চেষ্ঠা করছি । তা না হলে হয়তো কোনোদিন কোনো মামার ভাগ্নে বা চাচার ভাতিজা এই গানের কৃতিত্ব দাবি করে "একুশে পদক " বা "স্বাধীনতা পদক" টি হাতিয়ে নিয়ে যেতে পারে । আমি সেই পথটাই বন্ধ করার চেষ্ঠা করছি ।

ছবির পরিচালকের নামটি পাওয়া গেছে, "ফখরুল আলম।"। ছবির প্রযোজক এর একটা সম্ভাব্য নাম এসেছে "আবুল খয়ের।" গানটির সুরকার এর নাম পাওয়া গেছে যিনি ,শ্রদ্ধেয় আনোয়ার পারভেজ।গানটির গীতিকার এর নাম পাওয়া গেছে,শ্রদ্ধেয় গাজী মাজহারুল আনোয়ার । গানটিতে যারা কণ্ঠ দিয়েছেন ও কণ্ঠ দিতে চেয়েছিলেন তারা হচ্ছেন ,,,,
১) শ্রদ্ধেও আব্দুল জব্বার, ২) শ্রদ্ধেও শওকত হায়াৎ খান , ৩) নাম পাওয়া যায়নি তবে এতটুকু জানা গেছে এই পুরুষ শিল্পী "ওরা ১১ জন " ছবির ১১ জনের মধ্যে ১ জন যিনি বর্তমানে আমেরিকায় রয়েছেন , ৪ ) শ্রদ্ধেয়া শাহানাজ রহমতুল্লাহ , ৫) শ্রদ্ধেয়া লাভলী ইয়াসমিন যিনি চলচিত্রের অভিনয়ের সাথেও জড়িত ছিলেন , ৬) লাভলী ইয়াসমিন এর ছোট বোন (নাম পাওয়া যায়নি ,তিনিও সম্ভবত চলচিত্রের সাথে জড়িত ছিলেন) । এ ছাড়াও ওই গানে কণ্ঠ দেবার জন্য যারা রিহার্সেল করেছিলেন তাদের মধ্যে রয়েছেন শ্রদ্ধেও ডক্টর অরূপ রতন চৌধুরী ও শ্রদ্ধেও কাদেরী কিবরিয়া ।

তখন ছিল ১৯৭০ সাল । ইয়াহিয়া, ভুট্টোর ষড়যন্ত্রের কাল,মার্শাল এর সময় । ঠিক তখন "জয় বাংলা" নামের একটি ছবি করার অভিপ্রায়ে ছবিটির স্ক্রিপ্ট জমা দেয়া হয়
অনুমতির জন্য ।এই ছবিটি জন্মের আগেই তার উপর পাকিস্তানি মিলিটারি সরকারের মৃত্যুর খড়গ নেমে এসেছিলো অর্থাৎ ছবিটি তৈরী হয়নি । ওই ছবির জন্যই এই গানটি রেকর্ড হয়েছিল । ফার্মগেট সংলগ্ন ইন্দিরা রোডে জনাব মহিউদ্দিন সাহেবের "ঢাকা রেকর্ড " ষ্টুডিও তে এই গান রেকর্ড করা হয় । ছবিটি বানানোর কোনো অনুমতি না পাওয়া গেলেও গানটি রেকর্ড হয়েছিল । যা মহিউদ্দিন সাহেবের সাভারে অবস্থিত এলপি ফেক্টরীতে কিছু এলপি তৈরি হয় । এই কারণে যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি মিলিটারি মহিউদ্দিন সাহেবের সেই ফেক্টরিটি জ্বালিয়েও দিয়েছিলো । শুধু তাইই নয় এই গানের কলাকুশলী , শিল্পী তাদের উপরও তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের নজরদারি ও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিভিন্ন রকম অত্যাচারের খড়গ ও নেমে আসে । যে কারণে, রিহার্সেলে অংশ নিলেও রেকোর্ডিংর দিন হাজির থাকতে পারেননি ডক্টর অরূপ রতন চৌধুরী ও কাদেরী কিবরিয়া ।

কারো কাছে যদি এই গানের ইতিহাসের কোথাও কোনো প্রশ্ন থাকে বা আপনাদের কাছে কোনো তথ্য থাকে তাহলে আমাদের জানাবেন । আমি এই তথ্যগুলো ক্রস এক্জামিন করিয়েছি এই গানেরই শিল্পী সে সময়কার একজন প্রফেশনাল সংগীত শিল্পী কিংবদন্তি শ্রদ্ধেয় শওকত হায়াৎ খান এর কাছ থেকে । এর পরেও যদি এই গানের অসম্পূণ কোনো তথ্য থাকে তবে আমাদের জানিয়ে সাহায্য করবেন।

ইতিহাস এখনও বিকৃত হয় বিভিন্ন মাধ্যমে,উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় কিছুদিন আগেও "তৃতীত মাত্রা " অনুষ্ঠানে বিএনপি একজন সাংসদ বলেছিলেন যে,"এমন একটা মা দেনা ,যে মায়ের সন্তানেরা কাঁন্দে আবার হাসতে জানে " গানটি তার । অথচ এই গানের রচয়িতা ও সুরকার,তৎকালীন বিখ্যাত "স্পন্দন " শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নাসির আহমেদ অপু এখনো বেঁচে আছেন উত্তর আমেরিকার লস এঞ্জেলেসে ।এছাড়াও ভাষা আন্দোলনের সংগঠকদের অনেকেই এখনো একুশে পদক পুরস্কারটি পাননি, তার মধ্যে তৎকালীন ইউথলীগের যুগ্মসম্পাদক বা সাংগঠনিক সম্পাদক পরে সাধারণ সম্পাদক বরিশালের মোহাম্মদ ইমাদুল্লাহ লালা ভাইয়ের নামটি উল্লেখযোগ্য । এর প্রমান হিসাবে নিম্নে লিংক দেয়া হলো

-আল আমিন বাবু



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

বাংলাদেশের প্রাইমারি ও মাধ্যমিক শিক্ষা পাঠক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়েছে জানুয়ারি ২০১৭ তে বিতরণকরা নতুন বইয়ে অদ্ভুত সব কারণ দেখিয়ে মুক্ত-চর্চার লেখকদের লেখা ১৭ টি প্রবন্ধ বাংলা বই থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ইসলামী মৌলবাদী লেখা যোগ হয়েছে, আপনি কি এই পুস্তক আপনার ছেলে-মেয়েদের জন্য অনুমোদন করেন?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ