২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৭ম বর্ষ ৩৮সংখ্যা: বার্লিন, সোমবার ১৭সেপ্ট–২৩সেপ্ট ২০১৮ # Weekly Ajker Bangla – 7th year 38 issue: Berlin, Monday 17Sep-23Sep 2018

জার্মানিতে পার্টির নাম দেখে ভোট দেবেন না ভোটাররা

স্টুটগার্ট শহরে বাঙালিরা কি ভাবছেন

প্রতিবেদকঃ DW তারিখঃ 2017-09-18   সময়ঃ 20:47:32 পাঠক সংখ্যাঃ 188

বলা হয়ে থাকে জার্মানির শান্তিপূর্ণ শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম স্টুটগার্ট৷ সেই শহরের মোট বাসিন্দার প্রায় ৪০ ভাগই হলো অভিবাসী৷ কাজেই ভোটের ফলাফল নির্ধারণে এই অভিবাসীরাই ‘বড় ফ্যাক্টর’ হয়ে উঠতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে৷

বাংলাদেশের মতো কোনোভাবেই কেবল পার্টির ‘লেবেল’ দেখে ভোট দেবেন না ভোটাররা

মোটর গাড়ির রাজধানী বলে খ্যাত স্টুটগার্টে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশি জার্মানের সংখ্যা এখন কম নয়৷ জার্মান ডিগ্রি, অর্থনৈতিক সক্ষমতার পাশাপাশি এদের অনেকেই অর্জন করেছেন জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষমতাও৷ এই অর্জনকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে তাই বেশ ভেবেচিন্তেই এগোচ্ছেন সবাই৷ তবে বাংলাদেশের মতো কোনোভাবেই কেবল পার্টির ‘লেবেল’ দেখে কেউ ভোট দেবেন না বলে পরিষ্কার জানিয়েছেন৷ 

বহু বছর ধরে জার্মানিতে আছেন প্রকৌশলী আদনান সাদেক৷ আদনানের মতে, ‘‘বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন বলতে আমরা সারা দেশ নিয়ে কথা বলি৷ কিন্তু এখানে তা নয়৷ ধরুন যদি স্টুটগার্টের কথাই বলি, এখানে নির্বাচনের সময় স্থানীয় বিষয় অনেক বেশি প্রাধান্য পায়৷ একজন প্রার্থী কী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তা আদৌ বাস্তবায়ন করছেন কি না অথবা অন্য প্রার্থী এলাকার উন্নয়নে ভিন্ন কিছু ভাবছে কি না সেসব নিয়ে সবাই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে৷ যেমন অনেক উদ্বাস্তু এখন জার্মানিতে আসছে, এটা একটা জাতীয় ইস্যু বা ইউরোপীয় ইউনিয়নে জার্মানির ভূমিকা কী হবে অথবা আফগানিস্তানে জার্মানি সৈন্য পাঠাবে কি না এ সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও ভোটাররা এখানে প্রথমে বিবেচনা করে তার নিজের কাজ ঠিক থাকছে কি না, বাচ্চারা সঠিক শিক্ষা পাচ্ছে কি না, পরিবেশ দূষিত হচ্ছে কি না, চিকিৎসা মিলছে কি না – এসব চিন্তা করে তারা প্রার্থী বাছাই করে৷’’

বহু বছর ধরে জার্মানিতে থাকা প্রকৌশলী আদনান সাদেক জানাচ্ছেন তাঁর ভাবনা

‘‘এই মুহূর্তে স্টুটগার্টের বড় ইস্যু হলো প্রধান রেল স্টেশনের পুনর্নির্মাণ আর অন্যটি হলো গাড়ির ধোঁয়া থেকে পরিবেশ দূষণ কমাতে ব্যবস্থা গ্রহণ৷ এই দুই ইস্যুতে যে প্রার্থী যৌক্তিকভাবে তার অবস্থান ব্যাখ্যা করতে পারবেন, আমার মনে হয় ভোটাররা তার দিকে বা সেই দলের দিকেই যাবে বেশি৷’’ – বিশ্লেষণ করলেন আদনান সাদেক৷

তাহমিনা বিনতে বাতেন একটি প্রতিষ্ঠানে ড্যাটা অ্যানালিস্ট হিসেবে কাজ করছেন৷ দেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে আসার পরও জার্মানিতে এসে আরও একটি মাস্টার্স করেছেন কেবল চাকুরির সুবিধার্থে৷ তাহমিনার কাছে কাজের সুযোগ বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ৷ তিনি বললেন, কষ্ট করে পড়াশুনা শেষ করে চাকুরির ক্ষেত্রে কেমন সুযোগসুবিধা পাচ্ছি, চাকুরি শেষে পেনশন, অথবা বিদেশি হিসেবে আমাকে কীভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে সেই বিষয়গুলো আমি সব সময় বিবেচনা করি৷ এদেশে ছেলে-মেয়ের পার্থক্য নেই, সবাই সব কাজ করে এবং সুবিধা পায়৷ কিন্তু মুশকিল হলো ‘নন টেকনিক্যাল’ ব্যাকগ্রাউণ্ড যাদের তাদেরকে এখানে খুব হিমশিম খেতে হয় কাজ পেতে৷ আমি একজন ডেন্টিস্ট৷ আমি খুব ভালভাবেই জানি কী কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে আমাকে৷ কাজেই ‘নন টেকনিক্যাল’ ব্যাকগ্রাউণ্ডের লোকজনদের জন্যও যেন কাজের সুযোগ তৈরি হয় আমি তা ভাববো৷ কারণ আমরা কিন্তু বাংলাদেশ থেকে তৈরি হয়ে আসা মানুষ৷ সে কারণেই আমি ভেবে দেখি যে বিদেশিদের জন্য কারা নমনীয়৷’’ 

 

প্রকৌশলী মিনহাজ দীপন অবশ্য জানালেন, ‘‘ভিনদেশি বলে তিনি কখনো অবমূল্যায়নের শিকার হননি৷ নাগরিকদের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতের কথা এদেশে নিজেদের খুব একটা না ভাবলেও চলে৷ বরঞ্চ এসব নিয়ে সরকারেরই মাথাব্যথা বেশি৷ প্রায় ১৫ বছরের জার্মান প্রবাস জীবন তাকে এই বার্তাই দিয়েছে৷ কাজেই সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রে নতুন নতুন মাত্রা কে যোগ করছেন, কে ভিন্নভাবে ভাবছেন সেগুলো দেখার বিষয় আছে৷ গড়পড়তা সিদ্ধান্ত এদেশের মানুষ নেন না৷ তারা ব্যক্তি দেখে ও কাজ দেখে বিবেচনা করেন কাকে ভোট দেবেন৷’’

একইভাবে শিরিন আলম, আমিনুল হক রতনসহ কথা হলো আরও বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি জার্মান ভোটারের সঙ্গে৷ তারা জানালেন, বহু বছর ধরে বাস করলেও মুসলমান বলে কখনও কোন বিরূপ পরিস্থিতিতে তাদের পড়তে হয়নি৷ এমনকি হিজাব পরলেও কেউ আড়চোখে তাকায় না৷ তবে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানে কাজের ক্ষেত্রে আগে থেকেই বলে নেয়া হয় যে, ‘হিজাব পরা যাবে না’৷ এছাড়া আর কোন পরিস্থিতিতে কাউকে কখনও পড়তে হয়নি৷ তবে ইদানীং কোন কোন রাজনৈতিক দল মুসলিম ও অভিবাসী বিদ্বেষী কথা বলছেন৷ তারা অবশ্য স্টুটগার্টে খুব একটা সুবিধা করতে পারবেন না বলেই বিশ্বাস এই ভোটারদের৷ দেশ থেকে স্বজনদের এনে একটু লম্বা সময় রাখার ব্যাপারেও আরেকটু উদারতা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তারা আশা করেন বলেও জানালেন৷

 

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ