২১ নভেম্বর ২০১৭ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৬ষ্ঠ বর্ষ ৪৩শ সংখ্যা: বার্লিন, রবিবার ২২অক্টো – ২৮অক্টো ২০১৭ # Weekly Ajker Bangla – 6th year 43rd issue: Berlin,Sunday 22Oct - 28Oct 2017

সাবেক ক’জন সেনা কর্মকর্তা বৈঠক করে কী করবে?

বৈঠকও করল তাতে কি এসে যায়৷ সরকার কি এতই দুর্বল

প্রতিবেদকঃ DW তারিখঃ 2017-10-28   সময়ঃ 05:41:02 পাঠক সংখ্যাঃ 41

ভারতের একটি সংবাদপত্রে সম্প্রতি প্রকাশিত এক খবর নিয়ে বাংলাদেশে আলোচনার ঝড় বইছে৷ যদিও সেই খবর সত্য নয় বলে জানিয়ে দিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এবং ভারত ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দফতর৷ তবুও আলোচনা থামছে না৷

প্রতীকী ছবি

গত বুধবার প্রকাশিত টেলিগ্রাফ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, ‘‘ঢাকার মহাখালীতে অবসরপ্রাপ্ত একজন লেফটেন্যান্ট জেনারেলের বাসায় গত ২১ অক্টোবর বৈঠকে বসেন ২০ জন সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তা৷ সাবেক একজন সেনাপ্রধানের উপস্থিতিতে ওই বৈঠকে ‘স্পর্শকাতর বিষয়ে' আলোচনা হয়৷ কিন্তু বৈঠকের বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেলে ‘তাদের পরিকল্পনা অঙ্কুরেই নষ্ট' করে দেওয়া হয়৷'' 

 

বাংলাদেশের ইংরেজি দৈনিক দ্যা ডেইলি স্টারের ডিফেন্স এন্ড স্ট্রাটেজিক এডিটর বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহেদুল আনাম খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এই ধরনের খবর নতুন নয়৷ ক'দিন আগেও এই ধরনের একটি খবর ভারতীয় একজন সাংবাদিক করেছিলেন৷ তখনও বলা হয়েছিল সেই খবর সত্য নয়৷ আর এখন দু'দেশের পররাষ্ট্র দফতর ও আইএসপিআর যখন বলল এটা সত্য নয়, তাহলে এ নিয়ে বেশি আলোচনা করার কিছু নেই৷''  <AUDIO

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের সেনাবাহিনীকে নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম পরপর দু'টি খবর ছাপা হল আর আমাদের দেশের মিডিয়া কিছুই জানল না, সেটা তো ঠিক না৷ কিছু হলে অবশ্যই আমাদের দেশের মিডিয়াও কিছু জানত৷ ফলে কি উদ্দেশ্যে তারা এই রিপোর্ট করল তা আমার বোধগম্য নয়৷ আমি নিজেও এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করে পাইনি৷''

টেলিগ্রাফে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি ‘ভিত্তিহীন' বলে উড়িয়ে দিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)৷ সংস্থাটির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশিদুল হাসান সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘‘খবরটি ভিত্তিহীন৷'' ঢাকার একটি সূত্রের বরাত দিয়ে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, ‘‘ওই বৈঠকে অংশগ্রহণকারী সেনা কর্মকর্তাদের ‘চিহ্নিত করে' তাদের ‘সরানোর প্রক্রিয়া' শুরু হয়েছে৷ কিন্তু একই প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, সেনা কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠকের কোনো খবর তাদের কাছে নেই৷ ফলে প্রতিবেদনেই স্ববিরোধিতা আছে৷''

বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বিভিন্ন মিডিয়া বিভিন্ন ধরনের খবর প্রকাশ করে, তা নিয়ে এত উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই৷ মিডিয়ার স্বাধীনতা থাকলে এই ধরনের খবর হতে পারে৷ আসলে ক'জন সাবেক সেনাকর্মকর্তা একসঙ্গে হল, বৈঠকও করল তাতে কি এসে যায়৷ সরকার কি এতই দুর্বল৷''

তিনি বলেন, ‘‘শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের নানা সংগঠন রয়েছে৷ তারা মাঝে মধ্যেই নানা বিষয়ে নিজেরা বসতে পারে৷ এই বসা মানেই সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ভাবা ঠিক না৷ আমি মনে করি, এই ধরনের রিপোর্টকে গুরুত্ব দেয়া উচিত না৷ এগুলো আমরা আলোচনা করলেই আলোচনা বাড়বে, এর দরকার নেই৷''  <AUDIO

এদিকে, টেলিগ্রাফে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি অনুমাননির্ভর বলে বর্ণনা করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়৷ গত শুক্রবার দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার এক সাংবাদিকের করা প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘‘আমার মনে হয়, আপনি যে প্রতিবেদনটি দেখেছেন- সেটি অনুমাননির্ভর এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে আমরা এই বিষয়ে কোন বিশ্বাসযোগ্যতা দিতে পারছি না৷''

উল্লেখ্য, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজের ঢাকা সফরের আগে এই ধরনের বৈঠকের খবর ভারতীয় মিডিয়ায় ছাপা হওয়ায় ভারত ও বাংলাদেশ বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়৷

 

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ