১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৬ষ্ঠ বর্ষ ৪৬শ সংখ্যা: বার্লিন, রবিবার ১২নভে–১৮নভে ২০১৭ # Weekly Ajker Bangla – 6th year 46th issue: Berlin,Sunday 12Nov-18Nov 2017

চ্যান্সেলর এঞ্জেলা মার্কেল এখনো কোয়ালিশন পার্টনার খুঁজে পাননি

পরিবেশ সম্মেলন কঠিন পরীক্ষার মধ্যে পড়েছেন আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷

প্রতিবেদকঃ মোনাজ হক তারিখঃ 2017-11-15   সময়ঃ 03:03:13 পাঠক সংখ্যাঃ 42

প্রায় দুমাস পার হয়ে যাচ্ছে জার্মানিতে নির্বাচন হয়েছে কিন্তু এখনও কোন নতুন সরকার নেই, এর মূল কারণগুলি হচ্ছে, চ্যান্সেলর এঞ্জেলা মার্কেল এখনো কোনো কোয়ালিশন পার্টনার খুঁজে পাননি, তার নিজের দলের অবস্থান সংসদে প্রথম অবস্থায় থাকলেও হিসেব অনুযায়ী ৩৩% বলে তিনি একটি জোট সরকার গঠনের জন্য অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা শুরু করে সঠিক দল খুঁজে পেতে চান। সঠিক আলোচনার বিষয়বস্তু হবে ইমিগ্রেশন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ইউরোর জোন সংস্কারের পার্থক্য, তা যেন একটি নতুন জোট গঠন করতে বাধা সৃষ্টি না করে। (ছবি সৌজন্যে ডয়েচে ভেলে)

সোমবার তার রক্ষণশীল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) এবং খ্রিস্টীয় সোস্যাল ইউনিয়ন (সিএসইউ) জোট, উদার মুক্ত ডেমোক্রেটিক পার্টি (এফডিপি) এবং গ্রীন পার্টির মধ্যে যথোপযুক্ত আলোচনার জন্য আগামী ১০ দিনের মধ্যে সভা ডাকা হবে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন এবছর ডিসেম্বরের মধ্যে আর নতুন সরকার গঠন সম্ভব হবেনা।

জার্মানিতে নিও নাৎসি দলের উত্থান ও সংসদে তাদের উপস্থিত অনেককেই সংশয় আর ভীতি সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে বিদেশী জনগোষ্ঠী যারা যুগ যুগ ধরে ইউরোপের এই দেশটিতে বসবাস করছেন ও সমাজে একীভূত হয়েছেন। পূর্ব পশ্চিমের একত্রীকরণ সেটিও ২৭ বছর আগে হয়েছে, কম্যুনিজম আর ক্যাপিটালিজম আত্তীকরণ হয়ে এক নতুন সামাজিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে এই বৃহত্তর জার্মানি, যাকে রাজনৈতিক পরিভাষায় বলাহয় "সোসিয়াল ওয়েলফেয়ার স্টেট" যেখানে প্রতিটি মানুষের ন্যূনতম আয় নিশ্চিত করা, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।

পুরাতন পূর্ব জার্মানি এবং পুরানো পশ্চিম জার্মানির মধ্যে সংস্কৃতি এবং মানসিকতা মধ্যে পার্থক্য অব্যাহত না থাকলেও বৈষম্য যে নেই তা বলা যায় না। একত্রীকরণের পরেও বহু বছর ধরে যে ভেদাভেদ বিদ্যমান ছিল তা হলো পূর্ব ও পশ্চমের প্রেজুডিস, পূর্ব অঞ্চলের মানুষ দেরকে বলাহত "ওসিস" ("ইস্টিজ") তারা ছিল দরিদ্র এবং মূলত রাশিয়ান সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত এবং কিছুটা বর্ণবাদী। আর পশ্চিম অংশের মানুষ দেরকে বলা হতো "ওয়েসিস" ("ওয়েস্টিজ") সাধারণত আমোদী, ভোগবিলাসী, ধনী, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং অনেকাংশে স্বার্থপর বলে বিবেচিত হয়।

১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতনের বিশ বছর পর, একটি জরিপে দেখা যায় যে প্রাক্তন পূর্ব জার্মানির ৪০% এর নীচে নিজেদেরকে "ফেডারেল প্রজাতন্ত্রের প্রকৃত নাগরিক" বলে মনে করে না। এমনকি প্রাক্তন পূর্ব জার্মানির প্রায় ১০% পূর্ব জার্মানির আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পছন্দ করত। আর একটি জরিপে দেখা যায় যে, পশ্চিম জার্মানদের ২৫% এবং পূর্ব জার্মানির ১২% জনগোষ্ঠী মনে করে জার্মানির রিউনিফিকেশন প্রকৃত পুনরুজ্জীবন ঘটায়নি।

জার্মানির পূর্বাংশে ধমীয় চর্চার মানুষ খুব কম, যা ইউরোপের সর্বনিম্ন ধর্মীয় অঞ্চল বলে মনে করা হয়। পশ্চিম জার্মানির ১০ টি রাজ্যগুলি, যা ছিল খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধমের সংমিশ্রনে একটি মাল্টিকালটারাল দেশ। ২০১৬ সনের হিসেবে অনুযায়ী পূর্ব অঞ্চলের ৬ টি রাজ্য গুলিতে, ২৫% প্রটেস্টান্ট ও ৫% ক্যাথলিক ধর্মের মানুষের বসবাস হলেও ৭০% মানুষের কোনো ধর্মে অন্তর্ভুক্তি ছিল না (কারণ কমিউনিজমে ধর্ম চর্চা হতো না)। মুসলমান দের সংখ্যা সমগ্র জার্মানিতে প্রায় ৫ মিলিয়ন (জার্মানির লোকসংখ্যা ৮২ মিলিয়ন)

এদিকে গত সপ্তাহে শুরু হওয়া কপ ২৩ (COP 23) জাতিসংঘের পরিবেশ সম্মেলন জার্মানির প্রাক্তন রাজধানী বন শহরে, এবার এক কঠিন পরীক্ষার মধ্যে পড়েছেন জার্মান চ্যান্সেল আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷ সম্ভাব্য যে জোট সরকার গড়ার পথে তিনি রয়েছেন, তাতে একদিকে রয়েছে পরিবেশবান্ধব দল গ্রিন পার্টি এবং অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের দল হিসেবে পরিচিত এফডিপি, যারা মোটেও পরিবেশ বান্ধব নয় এই দুই সম্ভাব্য জোটসঙ্গীর মধ্যে অমিল অনেক৷ বিশেষ করে পরিবেশের ইস্যুতে গ্রিন পার্টি যতটা কঠোর উদ্যোগ নেয়ার পক্ষে, এফডিপি ততটা নয়৷ বরং দলটি দেখছে বড় বড় কর্পোরেটদের স্বার্থ৷
এমন এক অবস্থায় কল কারখানা থেকে উৎপাদিত কার্বন নির্গমন কমানোর যে লক্ষ্যমাত্রায় জার্মানি অতীতে সম্মত হয়েছিল, তা পূরণ হবে না বলেই অনেকেই মনে করছেন ৷ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ম্যার্কেল জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বিশ্ব মঞ্চে বড় বড় বুলি আওড়ালেও জোট সরকার গড়তে গিয়ে সম্ভবত তাঁকে ব্যবসা এবং রাজনীতির স্বার্থে বেশ কিছুটা ছাড় দিতে হবে৷ এমন শঙ্কা থেকেই জার্মানির জনমত ম্যার্কেলের নীতির সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির মিল রয়েছে বলে মনে করছে৷ পার্থক্য এই যে, ট্রাম্প সততার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন, এবং বলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্যারিস ক্লাইমেট চুক্তিতে সই করবেন, কিন্তু জার্মান চ্যান্সেলরের সেই সুযোগ নেই, অন্তত জনগণ ই তা গ্রহণ করবেন।

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ