১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৬ষ্ঠ বর্ষ ৪৬শ সংখ্যা: বার্লিন, রবিবার ১২নভে–১৮নভে ২০১৭ # Weekly Ajker Bangla – 6th year 46th issue: Berlin,Sunday 12Nov-18Nov 2017

জিডিপির রেকর্ড প্রবৃদ্ধির কারণ কী?

সন্তোষজনক কোনো জবাব পাওয়া যাচ্ছে না

প্রতিবেদকঃ DW তারিখঃ 2017-11-17   সময়ঃ 06:55:41 পাঠক সংখ্যাঃ 29

মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ৷ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি শতকরা ৭ দশমিক ২৮ ভাগ৷ প্রশ্ন হলো, কৃষিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম প্রবৃদ্ধি অর্জনের পরও এটা কীভাবে সম্ভব হলো?

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) মঙ্গলবারের সভায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রবৃদ্ধি সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হয়৷ বিবিএস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৬-১৭ সালে জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২৷ এছাড়া এ বছর ২০১৫-১৬ সালের তুলনায় ০ দশমিক ১৭ ভাগ বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে৷ ফলে জিডিপির আকার বেড়ে হয়েছে ২৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার৷ এই দুই বছর বাদ দিলে আগে জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ শতাংশের ঘরে৷ এদিকে বাংলাদেশের মানুষের এখন মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬১০ মার্কিন ডলার৷ বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার ৮০০ টাকা৷

কৃষি খাতে ২ দশমিক ৯০ শতাংশ, শিল্প খাতে ১০ দশমিক ২২ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে৷ অথচ এবার বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে ৯ লাখ টন ধান উৎপাদন কম হয়েছে৷ এছাড়া ২০১৫-১৬ সালে এবারের তুলনায় কৃষিতে প্রবৃদ্ধি বেশি হলেও, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হয়েছিল৷ কিন্তু এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কৃষিতে প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে, মাত্র ৩ দশমিক ৪ ভাগ৷

 

অন্যদিকে শিল্পখাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে৷ ২০১৫-১৬ সালে এই খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ০৯ ভাগ৷ এবার প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ২২ ভাগ৷ সরকারি বিনিয়োগ বেড়েছে শতকরা ০ দশমিক ৭৫ ভাগ৷ আর এডিপি বাস্তবায়নের হার কমেছে৷ < AUDIO ON CLICK IMAGE

কিন্তু সেবাখাতে প্রবৃদ্ধি আগের বছরের তুলনায় এ বছর বেশি হয়েছে৷ সংখ্যার বিচারে ৬ দশমিক ৫৯ ভাগ৷ ২০১৫-১৬ সালে যা ছিল ৬ দশমিক ২৫ ভাগ৷

পরিকল্পনামন্ত্রী আ ন হ মোস্তফা কামাল মঙ্গলবার একনেক-এর বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘গত অর্থবছর চূড়ান্ত হিসাবে বাংলাদেশের মোট জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৯৮৬ কোটি ডলার বা ২০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা৷ জিডিপির আকার ১০০ বিলিয়ন ডলার (১০ হাজার কোটি ডলার) ছুঁতে বাংলাদেশের ৩৪ বছর লেগেছে৷ বাকিটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের অবদান৷ বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে ইথিওপিয়া ও কম্বোডিয়া ৭ শতাংশের বেশি জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে৷'

বিশ্বব্যাংক এর আগে জিডিপির প্রবৃদ্ধির যে পূর্বাভাষ দিয়েছিল, তা ছিল ৬  শতাংশের ঘরে৷ তারা বলেছিল, এ বছর প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৪ ভাগ৷ এ নিয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি৷

তবে বিবিএস-এর প্রতিবেদন প্রকাশের পর, সরকারের তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন তিনি৷ তিনি তখন বাংলা দৈনিক ‘কালের কণ্ঠ'সহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কীভাবে এলো? কোন প্রক্রিয়ায়? ওই বছর দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ভালো ছিল না৷ আমদানি প্রবৃদ্ধিও ছিল নিম্নগামী৷ কাঁচামাল আমদানি হয়নি আশানুরূপ৷ এমনকি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সও ছিল নিম্নগামী৷ ব্যক্তি খাতের ঋণপ্রবাহও ছিল হতাশাজনক৷ এত নেতিবাচক অবস্থার মধ্যে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি হলো কীভাবে? তথ্যের যেসব অসংগতি দেখা যাচ্ছে তাতে এর সন্তোষজনক কোনো জবাব পাওয়া যাচ্ছে না৷''

তবে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এর মহাপরিচালক অর্থনীতিবিদ ড. কে এ এস মুর্শিদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘কৃষিতে উৎপাদন কমেছে, কিন্তু গত বছরের তুলনায় কমেনি৷ তাছাডা় পাবলিক বিনিয়োগ বেড়েছে৷

 

আগের চেয়ে প্রবৃদ্ধি বেশি হয়েছে সেবাখাতেও৷ অর্থাৎ আামাদের জিডিপিতে কৃষির অবদান ধীরে ধীরে কমছে, বাড়ছে সেবাখাতের ভূমিকা৷ এটা আমাদের বুঝতে হবে৷ শিল্পোন্নয়নের কারণেই কৃষির ভূমিকা কমছে৷ এর মানে এই নয় যে, আমাদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে৷ এর মানে হলো, পরিস্থিতি আরো ভালো হচ্ছে৷''

তিনি বলেন, ‘‘জিডিপিতে সেবখাতের ভূমিকা এখন শতকরা ৫০ ভাগেরও বেশি৷ তার ওপর পাবলিক বিনিয়োগ বেড়েছে৷ এই দু'টির সম্মিলিত ভূমিকায় জিডিপির এই রেকর্ড পরিমাণ প্রবৃদ্ধি৷ আর কোনো কোনো খাতে প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে শতকরা হারের হিসেবে৷ কিন্তু প্রবৃদ্ধি বিপর্যয় ঘটেনি কোনো খাতে৷''

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘অন্য যারা (বিশ্বব্যাংক) প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়, তাদের কাছে সব তথ্য থাকে না৷ তারা প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কথা বলে৷ কিন্তু বিবিএস সব তথ্য বিশ্লেষণ করে তারপর প্রবৃদ্ধির হিসাব দেয়৷ তাই এই হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলার তেমন সুযোগ থাকে না৷''

প্রসঙ্গত, জিডিপিতে এখন কৃষির অবদান ১৪ দশমিক ৭৪ ভাগ আর সেবাখাতের অবদান ৫২ দশমিক ৫৮ ভাগ৷ ফলে সেবাখাত এখন বাংলাদেশের জিডিপির নির্ণায়কের ভূমিকায় চলে গেছে৷

 

 

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ