২৪ অক্টোবর ২০১৮ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৬ষ্ঠ বর্ষ ৫০শ সংখ্যা: বার্লিন, রবিবার ১০ডিসে–১৬ডিসে ২০১৭ # Weekly Ajker Bangla – 6th year 50th issue: Berlin,Sunday 10Dec-16Dec 2017

‘মুক্তিযুদ্ধ’ কেন রাজনীতির হাতিয়ার?

মুক্তিযুদ্ধ রাজনীতিকে করেছে বিভাজিত৷

প্রতিবেদকঃ DW তারিখঃ 2017-12-12   সময়ঃ 20:48:41 পাঠক সংখ্যাঃ 223

৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অপরিসীম আত্মত্যাগের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ৷ এখনো ৪৬ বছর আগের সেই ইতিহাসকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত বাংলাদেশের রাজনীতি৷

বিজয়ের ৪৬তম বছরে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এসেছে নানা পরিবর্তন৷ একদিকে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যেও দেশ এগিয়েছে আর্থসামাজিক উন্নয়নের পথে, অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধ রাজনীতিকে করেছে বিভাজিত৷ যখন ইতিহাসের মিমাংসিত সত্য সামনে রেখে দেশের সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথা, তখনো রাজনৈতিক বিভাজনের মূল বিষয় এখনো মুক্তিযুদ্ধ৷

এ প্রসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘‘মুক্তিযুদ্ধটাই তো হয়েছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে৷ এ জনযুদ্ধই তো আমাদের চলার প্রেরণা৷ একে বাদ দিয়ে তো রাজনীতি করার কোনো সুযোগই নেই৷''

একই ভাবনা বড় আরেকটি দল বিএনপিরও৷ দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের কাছ থেকে, জনগনের কাছ থেকে কখনো হারিয়ে যাবে না৷ মু্ক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠিত৷ যে লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, সেই গণতন্ত্র ও সুশাসনের জন্যই বিএনপি এখনও সংগ্রাম করে যাচ্ছে৷ '' 

অথচ মুক্তিযুদ্ধের নানা প্রশ্নে এই দুই দলের পরস্পরবিরোধী অবস্থান বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম বাস্তবতা৷ ডয়চে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আব্দুল্লাহ আল নোমান অবশ্য মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁর দলের বিরোধের বিষয়টি তুলে ধরলেন এভাবে ‘‘মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনগণের যুদ্ধ৷ তার সফলতাও জনগণের৷ এটি কোনো ব্যক্তি বা দলের সফলতা নয়৷ আওয়ামী লীগ এককভাবে মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের যুদ্ধ হিসেবে দেখাতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের যে বিশালতা সেটাকে ক্ষুন্ন করে৷''  খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে অন্য দলের অবদান স্বীকার করে নিয়েই বলেছেন, ‘‘ মুক্তিযু্দ্ধের পক্ষের অনেক শক্তি আছে, তবে বৃহৎ শক্তি হচ্ছে আওয়ামী লীগ৷ সেজন্যে আওয়ামী লীগের কাঁধেই দায়িত্বটা চলে আসে৷'' 

জামায়াতে ইসলামীর মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ এখন আর নেই৷ যু্দ্ধাপরাধীদের বিচার শুরুর পরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দলটিকে নিষিদ্ধ করার কথা উঠলেও সে বিষয়ে হয়নি কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি৷ তবে রাজনীতিতে এ দলের ভূমিকা বড় দলগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে দেখা গেছে বিভিন্ন সময়ে৷ একাত্তরে জামায়াতের বাংলাদেশবিরোধী ভূমিকা স্বীকার করে নিয়েই বিএনপির বর্ষিয়ান নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন,‘‘ জামায়াতের সাথে বিএনপির যে নির্বাচনী ঐক্য হয়েছিল, তা খুব অল্প সময়ের জন্য৷ আওয়ামী লীগও জামায়াতের সাথে সাময়িক ঐক্য করে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে৷ এগুলো সব ইস্যুভিত্তিক সম্পর্ক৷ আওয়ামী লীগ নির্বাচনী সুবিধা আদায়ের জন্য বিএনপিকে জামায়াতের সাথে এক করে উপস্থাপন করতে চায়৷'' অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগ কখনোই স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে সমঝোতা করেনি৷ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক মিথ্যাচার এ বক্তব্য৷ যদি তাই হতো তাহলে তো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রবল চাপ উপেক্ষা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাজ শুরু হতো না৷'' 

বিশ্লেষকরা মনে করেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির এ প্রবণতা নেহায়েতই রাজনৈতিকভাবে জনগনের কাছে নিজেদের অধিক গ্রহণযোগ্য করে তোলার উদ্দেশ্যে৷ মুক্তিযুদ্ধ গবেষক আফসান চৌধুরী  বলেন, ‘‘যে দুটো বড় দল দেশে, তাদের সবই মোটামুটি একই রকম- অর্থনৈতিক নিয়ম বা সামাজিক ব্যবস্থা, সেটাতে খুব বেশি ফারাক নেই৷ তাদের নিজেদের আলাদাকরণের প্রয়োজনে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলে৷'' সাধারণ মানুষ এই যুদ্ধের অন্যতম অংশীদার হলেও তাঁদের ভূমিকা গৌন করে দেখা হয় রাজনৈতিক স্বার্থেই, এমন মন্তব্য করে ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘সাধারণ মানু্ষ এসব নিয়ে মোটেও ভাবে না৷ মানুষ কিন্তু সরকারি প্রজ্ঞাপন পড়ে ইতিহাস ধারণ করে না৷ সে তার পরিবারের স্মৃতি থেকে, গ্রাম বা শহরের সামষ্টিক স্মৃতি থেকে ইতিহাসকে ধারণ করে৷ কে কী দাবি করলো, তাতে তো ইতিহাসের কোনো কিছু যায় আসে না৷'' 

তবে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি. রাজনৈতিক মতপার্থক্য এত সবকিছুর পরেও মুক্তিযুদ্ধের সার্বজনীন মূল্যবোধ বাংলাদেশের সামনে এগিয়ে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে৷

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, ‘‘যে নতুন প্রজন্ম উঠে আসছে, নানাভাবে মুক্তিযুদ্ধের কথা জানার সুযোগ হচ্ছে তাদের৷ স্বাধীনতার ঘোষক কে, কে প্রথম মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিলো, এসব প্রসঙ্গ অনেক গৌণ হয়ে যায় যখন ইতিহাসকে বড় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়৷ মুক্তিযুদ্ধের মূল যে বিষয়গুলো ছিল যেমন অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে অধিকার আদায়ের পথে অগ্রসর হওয়া, এগুলোকে সামনে রেখে এগিয়ে যেতে হবে৷''

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ