২২ জুলাই ২০১৮ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৬ষ্ঠ বর্ষ ৫১শ সংখ্যা: বার্লিন, রবিবার ১৭ডিসে–২৩ডিসে ২০১৭ # Weekly Ajker Bangla – 6th year 51st issue: Berlin,Sunday 17Dec-23Dec 2017

জার্মান কথাসাহিত্যিক হাইনরিখ ব্যোল এর জন্ম শতবার্ষিকী আজ

ধ্বংসস্তুপের মাঝ থেকে ও যে সাহিত্য সৃষ্টি করা যায় হাইনরিখ ব্যোল তার উদাহরণ

প্রতিবেদকঃ মীর মোনাজ হক তারিখঃ 2017-12-21   সময়ঃ 02:29:03 পাঠক সংখ্যাঃ 290

"আমি একজন ক্লাউন, মুহূর্তের স্মৃতিকথা সংগ্রাহক" নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মান কথাসাহিত্যিক হাইনরিখ ব্যোল তাঁর 'ক্লাউন' বইটির এই উদ্ধৃতি দিয়েই শুরু করছি। বেঁচে থাকলে তাঁর আজ ১০০ বছর বয়স হতো।

তাঁর প্রথম উপন্যাস, 'ট্রেন টি সময় মত এসেছিল' ১৯৪২ সনে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ চলাকালিন সময় প্রথম প্রকাশ হয়। অন্যান্য উপন্যাস, ছোট গল্প, রেডিও নাটক এবং প্রবন্ধের সংগ্রহগুলি অনেক, যুদ্ধপরবরত্তি অসংখ্য উপন্যাস লেখেন তিনি তাঁর যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে। ১৯৭২ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন, তার লেখার জন্য যা তার সময়ের একটি বিস্তৃত পরিপ্রেক্ষিতে এবং বর্ণনার একটি সংবেদনশীল দক্ষতার জন্যে জার্মান সাহিত্য পুনর্নবীকরণে অবদান রাখে। ১৯৪৬ সনের হারমান হেসে'র পরে তিনিই প্রথম জার্মান লেখক যিনি আবার নোবেল সাহিত্য পুরষ্কার পেয়েছেন।
 
তাঁর কলম যেমন ধর্মীয়  চার্চের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল তেমনি নারী মুক্তির প্রবক্তা হিসেবে যুদ্ধোত্তর ইউরোপের অসাধারণ ছাপ রেখেছে, যার প্রমাণ তিনি তাঁর বই 'ক্যাথারিনা ব্লুম এর সম্মান' রচনায় তুলে ধরেছেন।
 
হাইনরিখ ব্যোল যুদ্ধোত্তর জার্মানির ভোগবিলাসী সমাজের বিরুদ্ধে কলম চালিয়েছেন তাঁর সামাজিক সমালোচনার প্রধানত দুটি এলাকাই ছিল ক্যাথলিক গির্জা এবং যুদ্ধের বিরুদ্ধে। ক্যাথলিক চার্চের বিরুদ্ধে তাঁর সমালোচনা যেমন আত্মসমালোচনা এক ধরনের ছিল, ক্যাথলিক চার্চ এর সুবিধাবাদ ইঙ্গিত তিনি নৈতিক ধর্মতত্ত্ব ক্যাথলিক চার্চের সংকীর্ণ দৃশ্য সমালোচনা করেন, তা ছাড়া ও যুদ্ধের ধংশাত্মক দিকগুলোও তাঁর সাহিত্যে ফুটে উঠেছে।
 
জীবন-যাপনের মধ্যে একটা আধ্যাত্মিক তাৎপর্য খুঁজে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় লিখেছেন হাইনরিখ ব্যোল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে হয় তাঁকে। রাশিয়া আর ফ্রান্সের রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেন, আহত হন, মার্কিন যুদ্ধবন্দী শিবিরে তাঁকে কয়েদি জীবন যাপন করতে হয়।
 
যুদ্ধত্তোর জার্মানির শক্তিশালী কথাসাহিত্যিক দের মধ্যে হাইনরিখ ব্যোল ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ তিনি নোবেল সাহিত্য পুরস্কার ছাড়াও ১৯৬৭ সনে জার্মান সাহিত্য পুরস্কার গেয়র্গ বুশনার পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৪৫ এ যুদ্ধোত্তর জার্মানিতে ফিরে এসে যে কলম ধরেছেন তা তাঁর মৃত্যুর আগে পর্যন্ত থামেনি, দুই শতাধিকের ও বেশি ছোটোগল ও শতাধিক উপন্যাস, নাটক ও চলচিত্র পাণ্ডুলিপি রচনা করেছেন।
 
১৯৭১ সনে বাঙালিরা যখন মুক্তিযুদ্ধে লিপ্ত তখন তিনি তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস "লেডির সঙ্গে গ্রুপ ছবি" প্রকাশ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেন, এবং এই উপন্যাসটির জন্যই তাঁকে ১৯৭২ সনে নোবেল সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হয়।হাইনরিখ ব্যোল ১৬ ই জুলাই ১৯৮৬ সনে মৃত্যুবরণ করেন তিনি বেঁচে থাকলে আজ তাঁর ১০০ বছর বয়স হতো।
 
@মীর মোনাজ হক editor@ajkerbangla.com

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ