২১ এপ্রিল ২০১৮ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৭ম বর্ষ ০৩ সংখ্যা: বার্লিন, সোমবার ১৫জানু–২১জানু ২০১৮ # Weekly Ajker Bangla – 7th year 03 issue: Berlin, Monday 15Jan-21Jan 2018

ফ্রান্স কাফকা: জার্মানভাষী বোহিমিয়ান উপন্যাসিক

"রুপান্তর" বা মেটামর্ফোসিস

প্রতিবেদকঃ মোনাজ হক তারিখঃ 2018-01-21   সময়ঃ 06:18:50 পাঠক সংখ্যাঃ 203

ফ্রান্স কাফকা: একজন জার্মানভাষী বোহিমিয়ান উপন্যাসিক এবং ছোট গল্প লেখক ছিলেন, যিনি ব্যাপকভাবে বিংশ শতাব্দীর (১৮৮৩-১৯২৪) সাহিত্যের তালিকায় প্রধান সারির লেখকদের মধ্যে একজন হিসাবে পরিচিত। তাঁর কাজ, যা সম্পূর্ণ বাস্তবতাবাদ এবং অতিপ্রাকৃত সামাজিক-আমলাতান্ত্রিক শক্তিসমূহের সমালোচনায় মুখোমুখি হয়, এবং তাঁর লেখনীতে সে সময়ের অস্তিত্বগত উদ্বেগ, অপরাধবোধ, যৌক্তিকতা এবং আধ্যাত্মিক পূর্বাভাস সমুহ প্রাধান্য পায়। তাঁর সেরা লেখা অসংখ্য রচনাগুলির মধ্য একটি হলো "রুপান্তর" বা মেটামর্ফোসিস Die Verwandlung (ডি ফারভান্ডলুংগ)
 
রুপান্তর
 
ফ্রান্স কাফকার লেখা একটি গদ্য, ১৯১২ সালে লেখা মাত্র ৭০ পৃষ্টার এই গল্পটির প্রটাগোনিষ্ট হচ্ছে গ্রেগর সামসা, যার দেহ আকস্মিক পরিবর্তন হয়ে একটি পোকায় রূপান্তরিত হয়।

গ্রেগর সামসা, আবিষ্কার করে যে তার শরীর তেলাপোকা জাতীয় কোন এক অদ্ভুত পোকায় রূপান্তরিত হয়েছে। কল্পনার দৃষ্টিতে এই ব্যাপারটা তার কাছে যদিওবা খুবই অস্বাভাবিক এবং গ্রেগরের পরিবারের কাছেও সেটি অস্বাভাবিক ভাবে গৃহীত হয়েছিল। তারপরও তার পরিবারের সকলেই অনেক চেষ্টা করল এই ‘বাস্তবতা’কে মেনে নেয়ার। গ্রেগর ছিল তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম পুরুব। তার শারীরিক এই রুপান্তরের ফলে তার কর্মক্ষমতা লোপ পায়, কর্মস্থানে আর যেতে পারেনা এবং গ্রেগরের এই কর্ম অনুপস্থিতিতে তাদের সংসারের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়ে। অন্যদিকে পরিবারে তেলাপোকার শরীরে বাস করা গ্রেগরও ক্রমশ অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা হয়ে উঠতে থাকে। তার ভগ্নী ও মাতা প্রথম দিকে তার প্রতি সহানুভূতিশীল থাকলেও ধীরে ধীরে গ্রেগরের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচকভাবে পরিবর্তন হতে শুরু করে।  (ফ্রান্স কাফকা ছবি: উইকিপেডিয়া)
 
গ্রেগর সামসা'র পিতা প্রথম জীবনে একটি অর্থনৈতিক ব্যর্থতার পর কর্মজীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন, এবং বিরাট ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েন, যখন গ্রেগর তার পিতার ঋণ শোধ করতে না পারে তখন থেকেই তিনি এই রূপান্তরের কথা চিন্তা করেন। গ্রেগরের মা পৃথিবীর আর সকল মায়ের মতোই খুব সহানুভূতি শীল এবং কাছের মানুষ হওয়ায় তাকে বেশ যত্ন করতো।  গ্রেগরের রূপান্তরের ফলে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেললে তার মা একটা দর্জির দোকানে সেলাইয়ের জাজে যোগ দেয়। 
 
গ্রেগরের ছোট বোন গ্রেটা সামসা, গ্রেগরের রূপান্তর আগে পর্যন্ত পরিবারে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে নি, কিন্তু গ্রেগরের সাথে তার ভালো সম্পর্ক ছিল। রূপান্তরের আগে, তার বাবা-মায়ের দ্বারা তাকে একটি অদূরে মেয়ে হিসেবে গণ্য করা হতো এবং এই গল্পের মাধ্যমে সে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে, গ্রেগর এর রূপান্তর পরে, গ্রেট পরিবারে নিজেকে অপরিহার্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং তিনি দক্ষতার সাথে বাড়ির কাজ কোনোযোগ দিয়ে করতো তাই সে গ্রেগরের চারপাশে কাজগুলি ও করতে শুরু করে এবং তার মা তাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলো। 
 
যেহেতু গ্রেগর পরিবারে আর কোনো কাজে যোগদিতে পারতো না, এক পর্যায়ে তারা গ্রেগরকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার কথাও ভাবতে থাকে। অন্যদিকে রুপান্তরিত তেলাপোকা, গ্রেগর পরিবারের সকলের কথাবার্তা বুঝতে পারলেও কোনভাবেই সে তাদের সাথে কথা বলতে পারে না এবং খাবার খেতে না পেরে একদিন ক্ষুধায় সে মারা যায়। গ্রেগরের মৃত্যুতে তার পরিবার মোটেও শোকাহত হয় না, বরং তাদের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরে আসে এবং তারা নতুন করে জীবন গড়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে ওঠে।
 
এটি ফ্রান্স কাফকার একটি রুপক বা মেটামর্ফোসিস রচনা, যা দিয়ে কাফকা সমাজকে বোঝাবার চেষ্টা করেছেন যে পরিবারের বা সমাজের অতি আদরের বা প্রণয়জনিয় মানুষটিরও যখন "রুপান্তর" ঘটে তখন তার প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়।

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ