২৫ এপ্রিল ২০১৮ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৭ম বর্ষ ১৩ সংখ্যা: বার্লিন, সোমবার ২৬মার্চ –০১এপ্রি ২০১৮ # Weekly Ajker Bangla – 7th year 13 issue: Berlin, Monday 26Mar-01Apr 2018

জার্মানিতে মাংসের উপর পশুকল্যাণ ছাপের পরিকল্পনা

জার্মানরা মাংস খেতে বেশি ভালোবাসেন

প্রতিবেদকঃ DW তারিখঃ 2018-03-28   সময়ঃ 05:50:54 পাঠক সংখ্যাঃ 50

মাংস কেনার সময় আশি ভাগের বেশি জার্মান পশুকল্যাণের জন্য ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি দাম দিতে প্রস্তুত৷ বাজারে কেনা মাংস যে সত্যিই সেরকম খামার থেকে এসেছে, তার সার্টিফিকেট দেবেন সরকার – পরিকল্পনা আপাতত সেরকমই৷

সুপারমার্কেটে খাবার-দাবার বিভাগে গেলেই চোখে পড়বে, প্যাক করা বা না-করা মাংসের জন্য নানা ধরণের তকমা – তাদের সকলেরই উদ্দেশ্য হলো, ক্রেতাকে জানানো, ঠিক কোন ধরনের পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট পশুটিকে পালা হয়েছে৷ ওদিকে নিত্যনতুন ছাপ বাজারে আসছে৷ কাজেই জার্মান গ্রাহকদের পক্ষে বোঝা দায়, তাঁরা যে যৎসামান্য হলেও, কিছুটা বেশি মূল্য ধরে দিচ্ছেন, সেটা বাস্তবিক গৃহপালিত পশুদের কল্যাণে ব্যয় হচ্ছে কিনা৷

 শাকসবজির ক্ষেত্রে যা অরগ্যানিক, মাংস বা ডিমের ক্ষেত্রে তা পশুকল্যাণ৷ আজ অনেকদিন হলো, পশ্চিমে কৃষি একটি ‘শিল্পে' পরিণত হয়েছে৷ হাজার হাজার মুরগির খামার; শত শত গরু বা শূকরের খামার; ব্যাপক হারে ডিম ও মাংস ও অন্যান্য আমিশ খাদ্যপণ্য উৎপাদন৷ একদিকে পশুপালন, অন্যদিকে পশু পরিবহণ ইউরোপে যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, পরিবেশ সচেতন আধুনিক জার্মানদের কাছে তা আর গ্রহণযোগ্য নয়৷ কাজেই তাঁরা আরো বেশি পশুকল্যাণ দেখতে চান ও সেজন্য বেশি মূল্য দিতেও প্রস্তুত৷

 

সুপারমার্কেট ও চেনস্টোরগুলি বহুদিন আগেই ক্রেতাদের এই ‘প্রস্তুতি' আঁচ করে, সেই অনুযায়ী তাঁদের পণ্যের উপর পশুকল্যাণ সংক্রান্ত তথ্য দিতে শুরু করেছে৷ কিন্তু মুশকিল এই যে, এত ধরনের কোম্পানি ও এত ধরনের লেবেল বাজারে এসেছে যে, সাধারণ গ্রাহকের পক্ষে তার মর্মোদ্ধার করা সম্ভব নয়৷ সেই কারণেই দাবি উঠেছে, সরকারের তরফ থেকে একটি স্ট্যান্ডার্ড ছাপের ব্যবস্থা করা হোক, কী ধরণের পশুপালন থেকে সুপারমার্কেট, চেইনস্টোর বা দোকানের মাংস এসেছে৷

দাবি উঠেছে বললে ভুল বলা হবে, কেননা, এ দাবি অনেকদিনের৷ নতুন কৃষিমন্ত্রী ইউলিয়া ক্ল্যোকনারের উত্তরসুরী ক্রিস্টিয়ান স্মিট (সিএসইউ)-এর আমল থেকেই খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘পশুকল্যাণ তকমা' নিয়ে কাজ চলেছে৷ জার্মান পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ সমিতি বিইউএনডি, জার্মান গ্রাহক সুরক্ষা সমিতি, জার্মানির সবুজ দল ও গ্রিনপিস সংগঠনের জার্মান শাখা এবার সেই পশুকল্যাণ তকমার দাবিতে আরো সোচ্চার হয়ে উঠেছে৷ কাজেই হয়তো বাস্তবিক এবার মাংসের উপর পশুকল্যাণ ছাপ আসতে চলেছে৷

জার্মানরা মাংস খেতে বেশি ভালোবাসেন

প্রতিদিন মাংস

জার্মানদের খাবারের তালিকায় প্রায় প্রতিদিনই মাংস থাকা চাই৷ মাংস রান্না বা সেদ্ধ অবস্থায়, এছাড়া সসেজ, সালামি, হ্যাম – কোনো না কোনোভাবে তাঁদের খাবার টেবিলে থাকে মাংস৷ তবে অতিরিক্ত মাংস খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয় এবং এতে নানা সমস্যা দেখা যায়, সে কথা জেনেও তাঁরা মাংস পছন্দ করেন৷

 

গ্রাহক, কৃষি, সরকার

ফেডারাল কৃষি মন্ত্রণালয়ের ২০১৭ সালের খাদ্য প্রতিবেদন বলছে, জার্মান গ্রাহকদের ৮৭ শতাংশ পশুকল্যাণ কামনা করেন এবং তাঁদের ৮৮ ভাগ পশুকল্যাণের দায়ে পশুজাত পণ্যের জন্য বর্ধিত মূল্য দিতে প্রস্তুত৷ পশুকল্যাণ বলতে, খামারে পশু প্রতি কতটা জায়গা রাখতে হবে, মা পশুদের কতদিন বেঁধে রাখা চলবে, বাচ্চা পশুদের কতদিন মা'র কাছে থাকতে দেওয়া হবে ইত্যাদি নানা খুঁটিনাটির তালিকা করছে কৃষি মন্ত্রণালয়৷ এসব অবশ্য এর আগের মহাজোট সরকারের আমলেও করা হয়েছিল৷ কিন্তু সে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি৷ নতুন সরকারের জোট চুক্তিতেও নাকি পশুকল্যাণ ছাপের শর্তাবলী নির্ধারণ করার জন্য পাক্কা দু'বছর সময় রাখা হয়েছে৷ এ নিয়ে অভিযোগ করেছেন সবুজ দলের সংসদীয় গোষ্ঠীর প্রধান আন্টন হোফরাইটার৷

 

এছাড়া নতুন কৃষিমন্ত্রী ইউলিয়া ক্ল্যোকনার আগে থেকেই বলে রেখেছেন যে, সস্তা মাংস চিরকালই পাওয়া যাবে; পশুকল্যাণ ছাপের উদ্দেশ্য হবে, গ্রাহকরা যাতে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, কোন ধরনের মাংস কিনবেন৷ এবং কোন মূল্যে৷

পশুকল্যাণের ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা অনেকদিনের৷ ২০১৫ সালের একটি ‘পশুকল্যাণ উদ্যোগ' অনুযায়ী, সুপারমার্কেটগুলি একটি তহবিলে অনুদান প্রদান করবে, যে অর্থে স্বেচ্ছায় পশুকল্যাণে উদ্যোগী খামারচাষিদের আর্থিক প্রেরণা দেওয়া হবে৷

এবার লিডল-এর মতো ডিসকাউন্টাররা তাদের নিজস্ব পশুকল্যাণ লেবেল বাজারে আনতে চলেছে৷ সে লেবেলের মান ও শর্তাবলীও হবে আলাদা৷ এভাবে যদি মাংসের উপর তকমা বাড়তে থাকে, তাহলে গ্রাহকরা সত্যিই ‘তকমার জঙ্গলে' পথ হারাতে পারেন বলে হোফরাইটারের আশঙ্কা৷

এসি/এসিবি (ডিপিএ, বিএমইএল)

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ