২১ অক্টোবর ২০১৮ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৭ম বর্ষ ১৯ সংখ্যা: বার্লিন, সোমবার ০৬ মে– ১৩মে ২০১৮ # Weekly Ajker Bangla – 7th year 19 issue: Berlin, Monday 07May-13May 2018

জার্মানরা হাতে টাকা পেতে চান, কার্ডে নয়

জার্মানদের মানিব্যাগে নাকি গড়ে ১০৩ ইউরো থাকে

প্রতিবেদকঃ DW তারিখঃ 2018-05-13   সময়ঃ 00:51:00 পাঠক সংখ্যাঃ 157

প্রশ্নটা বিশ্বের অনেক দেশে বাতুল হয়ে দাঁড়িয়েছে: ‘আপনারা কি কার্ড অ্যাক্সেপ্ট করেন?’ জার্মানিতে আজও তার উত্তর ‘না’ হতে পারে, কেননা সমৃদ্ধির পরাকাষ্ঠা এই দেশটির মানুষজন আজও নগদের প্রেমে পড়ে আছেন৷

ইউরোপে অর্থনীতির ইঞ্জিন বলে খ্যাত এই দেশটিতে ‘ক্যাশ ওনলি’ আজও একটি বাঁধাধরা গত৷ তবে যুগ বদলাচ্ছে, তাই কিছু কিছু দোকানি এখন আধুনিক হবার চেষ্টায় রয়েছেন৷

বার্লিনে কিছু দোকানের অনেক রাত অবধি, এমনকি সারারাত খোলা রাখার অনুমতি আছে৷ উপমহাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে এদের পাড়ার দোকান বা পান-সিগ্রেটের দোকান বলা চলতে পারে৷ এ ধরনের দোকানও আজকাল কার্ড মেশিন চালু করতে শুরু করেছে – যদিও দশ ইউরোর কম কেনাকাটা করলে ৫০ সেন্ট বেশি দিতে হয়৷

কিন্তু ‘পানের দোকানের’ পাশেই যে সাইকেল রিপেয়ার শপটি রয়েছে, সেখানকার মালিক হয়তো সোজা বলে দেবেন, ‘নগদ পেমেন্ট; কার্ড চলবে না৷’ কেন? তাঁর নাকি নগদ ভালো লাগে৷ নগদের যে উষ্ণতা আছে, তা নাকি প্লাস্টিক পেমেন্টে নেই৷

 

কাঁচা টাকা

ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গতবছরের নভেম্বর মাসে প্রকাশিত একটি জরিপ বলছে, জার্মানদের মানিব্যাগে নাকি গড়ে ১০৩ ইউরো থাকে – যা কিনা ইউরোপের অন্য যে কোনো দেশের অধিবাসীদের চেয়ে বেশি৷  

স্ট্যাটিস্টা গবেষণা সংস্থার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে জার্মানিতে যাবতীয় কেনাবেচার ৮০ শতাংশই নাকি ঘটে নগদে; সে তুলনায় ফ্রান্সে ৬৮ শতাংশ ও নেদারল্যান্ডসে মাত্র ৪৬ শতাংশ৷ ২০০২ সালে ইউরো মুদ্রা বাজারে আসা যাবৎ জার্মানির বুন্ডেসব্যাংক একা যত নোট ইস্যু করেছে, তা নাকি বাকি সব ইউরো দেশগুলির সামগ্রিকভাবে ইস্যু করা নোটের চেয়ে বেশি৷ অপরদিকে জার্মানিতে কার্ড টার্মিনালের সংখ্যা ইউরোপের অন্য যে কোনো মুখ্য অর্থনীতির চেয়ে কম৷

জার্মানরা যে শুধু নগদপ্রেমী, শুধু তাই নয়, দৃশ্যত তারা কার্ডের প্রতি বিরূপ৷ ইসিবির ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসের একটি রিপোর্ট বলছে, ২০১৬ সালে জার্মানিতে নগদ বাদ দিয়ে যতো পেমেন্ট হয়েছে, তার মধ্যে মাত্র ১৯ শতাংশ ছিল কার্ডে, যা কিনা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য সব দেশের চেয়ে কম৷ যেমন ব্রিটেন কিংবা ফ্রান্সে নগদবিহীন লেনদেনের ৫৩ ও যথাক্রমে ৬৫ শতাংশ হয় কার্ডে৷

অহেতুকী প্রেম?

জার্মানরা কেন নগদ ভালোবাসেন, তার নানারকম ব্যাখ্যা আছে – বিশেষ করে ভাইমার প্রজাতন্ত্রের আমলে (ত্রিশের দশকের শেষে) জার্মানিতে যে হাইপার ইনফ্লেশন বা মাত্রাধিক মুদ্রাস্ফীতি ঘটেছিল, তা নাকি জার্মান মানসে চিরকালের দুঃস্বপ্ন হয়ে আছে৷

মাত্রাধিক মুদ্রাস্ফীতির সময় জার্মানিতে ১০ বিলিয়ন মার্কের এই নোট চালু ছিল

অন্যরা বলেন, নাৎসি রাষ্ট্রের বিভীষিকার পর জার্মানরা তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনকে গোপনে রাখতে ভালোবাসেন – টাকাপয়সা যার অঙ্গ৷ মেশিনে কার্ড ঢোকালে ব্যক্তিগত তথ্যগুলি বাজারিদের হাতে গিয়ে পড়তে পারে, এই আতঙ্কে ভোগেন জার্মানরা৷ অপরদিকে পকেটে নগদ থাকার মানে স্বাধীন থাকা, পরনির্ভর না পরমুখাপেক্ষী না হওয়া৷

এছাড়া সাশ্রয়ী হওয়াটা জার্মান মূল্যবোধের অঙ্গ৷ অঋণী থাকা, খরচখরচার ব্যাপারে সাবধান হওয়াটা এখানে একটি চারিত্রিক গুণ বলে গণ্য করা হয়৷ মনে রাখতে হবে, ‘ধার’ কথাটির জার্মান হল ‘শুল্ড’, যার আরেক অর্থ ‘পাপ’!

 

নগদ থাকবে না যাবে?

ইউরোপ জুড়ে প্রবণতা কিন্তু ‘ক্যাশলেস সোসাইটির’ দিকে৷ ২০১৬ সালে ইউরোপে নগদবিহীন পেমেন্টের সংখ্যা সাড়ে আট শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১২,২০০ কোটিতে – যার অর্ধেক ছিল কার্ডে৷

নগদবিহীন সমাজের প্রবক্তারা বলেন যে, ক্যাশ উঠে গেলে কর ফাঁকি, কালো টাকা ইত্যাদি কমে যাবে – সেই সঙ্গে নগদ সংক্রান্ত খরচ-খরচা, যেমন নোট ছাপানো ও বণ্টন, ব্যাংকের স্ট্রংরুম ইত্যাদি ব্যয়ও কমবে৷ অন্যদের মতে নগদ উঠে গেলে, নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য পুরোপুরি অন্যদের হাতে গিয়ে পড়বে – ব্যাংকিং, ব্যবসায়, রাজনীতি ও প্রযুক্তি সংস্থাগুলি যার মধ্যে গণ্য৷

জার্মানরা দৃশ্যত নগদ বজায় রাখার পক্ষে – এমনকি ২০১৬ সালে জার্মান অর্থ মন্ত্রক যখন নগদ লেনদেন ৫,০০০ ইউরোয় সীমিত করার প্রস্তাব দেয়, তখন জার্মানির সর্বাধিক প্রচারিত সংবাদপত্র ‘বিল্ড’ খবরটির শীর্ষক দেয়: ‘‘আমাদের নগদ ছুঁয়ো না!’’ পপুলিস্ট এএফডি দলের মনোভাবও তাই৷

অন্যান্য দেশের মতো জার্মানিতেও ক্যাশের বদলে কার্ড বা মোবাইল ফোন দিয়ে পেমেন্টের প্রবণতা বেড়ে চলবে৷ কিন্তু জার্মানদের চরিত্রগত সাবধানতা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা প্রিয়তা এবং অতীত অভিজ্ঞতা জনিত ‘নগদাসক্তি’ এত সহজে দূর হবে বলে মনে হয় না৷

আর্থার সালিভান/এসি

 

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ