২১ অক্টোবর ২০১৮ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৭ম বর্ষ ২০ সংখ্যা: বার্লিন, সোমবার ১৪ মে– ২০মে ২০১৮ # Weekly Ajker Bangla – 7th year 20 issue: Berlin, Monday 14May-20May 2018

জামিন পেলেও কারাগারেই থাকছেন খালেদা জিয়া

অন্য মামলায় গ্রেপ্তার থাকায় এখুনি কারাগার থেকে বের হতে পারছেন না তিনি

প্রতিবেদকঃ DW তারিখঃ 2018-05-16   সময়ঃ 02:28:37 পাঠক সংখ্যাঃ 177

সব মিলিয়ে বিএনপির চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে মোট ৩৬টি মামলা রয়েছে৷ কুমিল্লার আদালতে বিচারাধীন দু'টি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে হাজিরা পরোয়ানা জারি আছে৷ ৭ জুন সেই আদালতে হাজিরার তারিখ রয়েছে৷ এ সব কারণে এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না তিনি৷

জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় আপিল বিভাগ থেকেও জামিন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া৷ তবে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার থাকায় এখুনি কারাগার থেকে বের হতে পারছেন না তিনি৷

জামিনের পাশাপাশি ঐ দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে হাইকোর্টে নিষ্পত্তি করার আদেশ এসেছে সর্বোচ্চ আদালত থেকে৷

দু'মাস আগে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ বুধবার এই রায় দেয়৷

খালেদার অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আপিল বিভাগের রায়ের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘মুক্তিতে কিছুটা বাধা আছে৷ কারণ সরকার নানা কৌশলে চেষ্টা করবে তার মুক্তিটা বিলম্বিত করার জন্য৷ নীচের আদালতের কতগুলো মামলায় তাঁকে আসামি দেখানো হয়েছে৷ সে মামলাগুলোতে তার জন্য আমাদের জামিন নিতে হবে৷ সেই জামিন নিতে যতটুকু সময় লাগে সেই সময়টুকু পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে৷''

এদিকে খালেদার আরেক আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ওই রায়ের ঘণ্টা তিনেক পর আপিল বিভাগে গিয়ে একটি শর্ট অর্ডার এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির আদেশ চাইলেও আদালত তা নাকচ করে দেয়৷

আপিল বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ধরনের কোনো প্রক্রিয়ার সুযোগ আইনে নেই৷ অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও এ সময় আদালত উপস্থিত ছিলেন৷

সকাল ৯টায় জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলার রায়ের পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী আপিলের রায়ের সংক্ষিপ্ত আদেশের জন্য মৌখিক আবেদন করেন৷

 

তিনি বলেন, ‘‘আজ আপনারা জামিন দিয়েছেন৷ এখন এ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পাওয়া পর্যন্ত তার জেলে থাকাটা বেআইনি৷ ফলে খালেদা জিয়ার জামিনের সংক্ষিপ্ত আদেশ চাচ্ছি জামিননামা দাখিলের জন্য৷''

এই আইনজীবী যুক্তি দেন, ‘‘আপনাদের আজকের রায় পত্র-পত্রিকায়, টিভিতে প্রচারিত হয়েছে৷ হয়ত আপনাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হবে৷ আমাদের দিতে তো অসুবিধা নেই৷''

আদালতে উপস্থিত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তখন আপত্তি জানিয়ে বলেন, ‘‘খালেদা জিয়া তো আরও কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার আছেন৷ তাছাড়া আপিল বিভাগ থেকে এ ধরনের শর্ট অর্ডার দেওয়ার নজির নেই৷''

 

বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীও তখন বলেন, ‘‘কীভাবে আপনি এ আবেদন করছেন৷ কখনও দেখেছেন আপিলের কোনো রায়ের পর তার সংক্ষিপ্ত আদেশ দেওয়া হয়েছে? এ ধরণের শর্ট অর্ডার দেওয়ার নজির নেই৷''

প্রধান বিচারপতি তখন খালেদার আইনজীবীকে বলেন, ‘‘আপনার আবেদন রিফিউজ করা হলো৷''

বিএনপির আইন সম্পাদক বিষয়ক কায়সার কামাল অনলাইন পত্রিকা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন, সব মিলিয়ে বিএনপির চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে মোট ৩৬টি মামলা রয়েছে৷

এর মধ্যে কুমিল্লার আদালতে বিচারাধীন দু'টি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে হাজিরা পরোয়ানা জারি আছে (প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট)৷ আগামী ৭ জুন সেই আদালতে তাঁর হাজিরার তারিখ রয়েছে৷

বিদেশ থেকে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টের নামে আসা দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদক জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট মামলা দায়ের করেছিল জরুরি অবস্থার মধ্যে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই৷

রমনা থানায় দুদক-এর করা এই মামলার বিচার চলে পুরো দশ বছর৷ ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আখতারুজ্জামান গত ৮ ফেব্রুয়ারি এ মামলার রায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দেওয়ার পাশাপাশি তার ছেলে তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদকে দশ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন৷

সেই সঙ্গে আসামিদের প্রত্যেককে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার করে জরিমানা করা হয় ওই রায়ে৷

১১৬৮ পৃষ্ঠার ঐ রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর গত ২০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে আপিল করেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের আইনজীবীরা৷

মূল রায়সহ ১২২৩ পৃষ্ঠার আপিল আবেদনে ৪৪টি যুক্তি দেখিয়ে খালেদা জিয়ার খালাস চাওয়া হয়৷ আর ৮৮০ পৃষ্ঠার জামিন আবেদনের মধ্যে ৪৮ পৃষ্ঠাজুড়ে ৩২টি যুক্তিতে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাওয়া হয়৷

 

আপিলের গ্রহণযোগ্যতার শুনানি করে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ ২২ ফেব্রুয়ারি তা শুনানির জন্য গ্রহণ করে নিম্ন আদালতের দেওয়া অর্থদণ্ড আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত করে৷

এরপর মামলার নথি নিম্ন আদালত থেকে এনে তা দেখে ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেয় হাইকোর্টের ঐ বেঞ্চ৷

দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গেলে সর্বোচ্চ আদালত গত ১৪ মার্চ জামিন স্থগিত করে নিয়মিত আলিভ টু আপিল করতে বলে৷

এরপর ১৯ মার্চ দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে আপিলের অনুমতি দিয়ে ৮ মে শুনানির দিন ঠিক করে দেয় আপিল বিভাগ৷ তিন দিনে সেই আপিল শুনানি শেষে বুধবার জামিন বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দিল সর্বোচ্চ আদালত৷

এইচআই/ডিজি (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ