১৮ জুন ২০১৮ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৭ম বর্ষ ২২ সংখ্যা: বার্লিন, সোমবার ২৮ মে– ০৩ জুন ২০১৮ # Weekly Ajker Bangla – 7th year 22 issue: Berlin, Monday 28May-03Jun 2018

আয়ারল্যান্ডে সবিতার জয়

আইনের নাম ‘সবিতা ল’

প্রতিবেদকঃ DW / মোনাজ হক তারিখঃ 2018-05-29   সময়ঃ 02:25:08 পাঠক সংখ্যাঃ 25

অক্টোবর ২০১২ সালে আইরিশ হাসপাতালে তাঁর প্রথম সন্তানের গর্ভপাতের পর স্বেচ্ছাসেবীর অবহেলার কারনে ইনফেকশনে মৃত্যু হয়। সাভিতা, ভারতীয় বংশধর আইরিশ ডেন্টিষ্ট, আইরিশ আইন ছিল সেসময়, "গর্ভপাত করা নিষিদ্ধ"

তাঁর মৃত্যুর পর, তার গল্পটি হয়ে ওঠে এক আন্দোলনের অনুপ্রেরনা। তার মুখটি সেই আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠে। আজ সেই আয়ারল্যান্ড এখন ৬ বছর পর আইন পরিবর্তন করেছে, এখন মায়ের স্বাস্থ্য রক্ষা করার প্রয়োজনে গর্ভপাতের অনুমতি দেয় আয়ারল্যান্ড।

গর্ভপাত নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত আইরিশরা তাঁদের ভোট দিয়েছেন৷ সেই ভোটের ফলাফল গর্ভপাতকে আয়ারল্যান্ডে আইনসিদ্ধ করতে চলেছে৷ নতুন এ আইনের নাম সবিতা হলপ্পনবার নামের প্রয়াত এক ভারতীয় নারীর নামেই করার দাবি উঠেছে৷

গণআন্দোলন

২০১২ সালে আয়ারল্যান্ডে গর্ভপাতবিরোধী আইনের ফাঁদে পড়ে যে নারীর মৃত্যু হয়েছিল, যাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল গণআন্দোলন; তাঁর নাম সবিতা হলপ্পনবার৷ দন্তচিকিৎসক সবিতা মিসক্যারেজের পর সংক্রমণে মারা যান৷ তাঁর মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছিল আয়ারল্যান্ডের মানুষকে৷ ২০১৮-তে গর্ভপাতবিরোধী আইন শিথিল করার দাবিতে পথে নেমেছিলেন তাঁরা৷ গণভোটে তাঁদের জয় হয়েছে৷

 

যে কারণে ভোট

রক্ষণশীল আয়ারল্যান্ডে মায়ের গর্ভে থাকা ভ্রুণও জীবিত মানুষ হিসেবে বিবেচিত হয়৷ সে ‍হিসেবে একজন মানুষের যেমন বেঁচে থাকার অধিকার আছে, তেমনি একটি ভ্রুণও একই অধিকার রাখে৷ তাই ১৯৮৩ সাল থেকে দেশটিতে গর্ভপাত নিষিদ্ধ থাকায় এতদিন নারীরা অন্যদেশে পাড়ি জমাতেন গর্ভপাত করতে৷ স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকার গর্ভপাতের পক্ষে ছিলেন৷ তিনি শুক্রবারের ভোটকে 'ওয়ান্স ইন আ জেনারেশন চান্স' বলেছেন৷

 

পথদিশারী সবিতা

আইরিশ রক্ষণশীল সমাজের পক্ষে এই ভোটে পৌঁছানোর রাস্তাটা মোটেই মসৃণ ছিল না৷ এর আগে ১৯৮৩ সালেও একবার গর্ভপাতের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি উঠেছিল৷ কিন্তু তখনও সমাজে ক্যাথলিক নেতাদের যথেষ্ট রমরমা৷ ফলে গণভোটে চুড়ান্ত হার হয়েছিল গর্ভপাতকামীদের৷ কিন্তু এরপর এই আন্দোলনকে আবার পথ দেখান সবিতা৷

 

ভোটের ফল

মোট সাড়ে ২১ লাখ ভোট পড়েছে, যা আয়ারল্যান্ডের ইতিহাসের যে কোনো গণভোটে সর্বোচ্চ৷ গর্ভপাতের পক্ষে পড়েছে ১৪ লাখ ৩০ হাজার, বা ৬৬ দশমিক ৪ ভাগ৷ অর্থাৎ রোমান ক্যাথলিকপ্রধান দেশটিতেও প্রতি তিন জনের দু'জন চান যে, মায়ের কোনো ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে গর্ভপাতের সুযোগ থাকুক৷ রায় ঘোষণার দিন গর্ভপাতের স্বাধীনতার পক্ষের লোকজনকে ‘সবিতা’ ‘সবিতা’ বলে স্লোগান দিতে দেখা যায়৷

 

সবিতাও আইনি সমস্যার শিকার

মিসক্যারিজ, অর্থাৎ অনিচ্ছাকৃত গর্ভপাতের সময় সবিতার প্রাণ বাঁচাতে পরিবারের পক্ষ থেকে গর্ভপাতের আবেদন করা হয়েছিল৷ আইরিশ চিকিৎসকরা তাতে রাজি হননি৷ এর মূলে ছিল আইনি সমস্যা৷ কয়েক দিন দুর্বিসহ যন্ত্রণা ভোগ করে শেষ পর্যন্ত রক্তে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় মারা যান ৩১ বছর বয়সি সবিতা৷ তবে তাঁর মৃত্যু বৃথা যায়নি৷ ৬ বছর পরে আয়ারল্যান্ডে গর্ভপাত আইন সংস্কার হচ্ছে৷ আর তাই নতুন এ আইন সবিতার নামে উৎসর্গ করার দাবি উঠেছে৷

 

আইনের নাম ‘সবিতা ল’ ?

কিন্তু এখনো আইন পাস হয়নি৷ আইরিশ সংসদের উচ্চ ও নিম্নকক্ষে বিল পাস হওয়ার পরই বৈধ হবে গর্ভপাত৷ আইরিশ সংসদেই সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীতে গর্ভপাত নিষিদ্ধ করে যে আইন করা হয়েছিল, তা বদলে নতুন আইন তৈরি হবে৷ দ্রুত সেই আইনি স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে সবিতার নামেই নতুন আইনের নামকরণ করার দাবি জানিয়েছেন তাঁর বাবা আন্দানাপ্পা ইয়ালগি৷

 

জয়ের নেপথ্যে

ক্যাথলিক খ্রিস্টান ধর্মে গর্ভপাত নিষিদ্ধ৷ সবিতার মৃত্যুর পর ২০১৩ সালে এ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়৷ হাসপাতালে ভর্তির প্রথম তিন দিনের মধ্যে গর্ভপাত করা হলে হয়ত সবিতা বেঁচে যেতেন বলে জানিয়েছিলেন দেশটির এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক৷ ঐতিহ্যগতভাবে রোমান ক্যাথলিক অধ্যুষিত দেশটিতে আজ মানুষ রীতিনীতির বদলে সামাজিক সমস্যার প্রতি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন৷ এজন্য অনেকেই এই আন্দোলনের পথিকৃৎ সবিতাকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন৷

 

স্মৃতিতে উৎসর্গ

সবিতার মৃত্যুর পর তীব্র আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল আয়ারল্যান্ডে৷ সবিতাই ছিলেন সেই আন্দোলনের মুখ৷ তাঁর ছবি দিয়ে বের হয় পোস্টার৷ গর্ভপাতপন্থিরা সবিতার স্মরণে মোমবাতি মিছিল করেন৷ সবিতার মৃত্যু যে আন্দোলনের জন্ম দিয়েছিল তার রাশ হাতে তুলে নেন আইরিশ মহিলা সমাজ৷ পক্ষে-বিপক্ষে যা-ই যুক্তি দেওয়া হোক সবটাই ছিল মহিলাদের তরফ থেকে৷ তাই ভোটে জয় পেয়ে ‘হ্যাঁ’পন্থি মহিলারা সবিতার ছবির সামনে ফুল ও চিঠি রেখেছেন৷

 

সবিতাকে কেউ ভোলেনি

গণভোটে রায়ের পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আজ আয়ারল্যান্ডের জন্য একটা ঐতিহাসিক দিন৷ এখানে নিঃশব্দে বিপ্লব হয়েছে৷ গোপনীয়তা থেকে পর্দা উঠে গেল৷’’ এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ সবিতাকে কেউ ভোলেনি৷ অনেক মানুষকে সবিতার নামে তৈরি স্মারকে ফুল ও হাতে লেখা চিঠি দিতে দেখা গেছে৷ সেখানে একটি চিঠিতে লেখা ছিল, ‘‘অনেক দেরি করে ফেলার জন্য আমরা দুঃখিত৷ কিন্তু আমরা আজ এখানে পৌঁছতে পেরেছি, আমরা তোমাকে ভুলে যাইনি৷’’

 

শান্তির পথযাত্রী

প্রধানমন্ত্রী ভারাদকর গণভোটের ফলাফলের পরে বলেন, ‘‘এই দিনে আয়ারল্যান্ড শেষ কালোছায়াটি অতিক্রম করে আলোতে এলো৷ একদিনেই আমরা একটি যুগ পেরোলাম৷ আমরা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সঙ্গে শামিল হলাম৷'' সবিতা এই যুগে আর নেই৷ তবুও আয়ারল্যান্ডে আজ তিনি জয়ী৷ ঐতিহাসিক রায়ে খুশি জনগণ সবিতার আত্মার শান্তি কামনা করেছেন৷

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ