২৪ অক্টোবর ২০১৮ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৭ম বর্ষ ২৩ সংখ্যা: বার্লিন, সোমবার ০৪জুন–১০জুন ২০১৮ # Weekly Ajker Bangla – 7th year 23 issue: Berlin, Monday 04Jun -10Jun 2018

বিশাল বাজেট: কার কী যায় আসে

অর্থমন্ত্রী নিজেকে উচ্চাভিলাষী বলতে পছন্দ করেন

প্রতিবেদকঃ DW তারিখঃ 2018-06-05   সময়ঃ 04:35:30 পাঠক সংখ্যাঃ 168

বাজেট সম্পর্কে একটা ছড়া বলা যায়, ‘‘বাজেট বাজেট মরার বাজেট/বাজেট আলুর দম/বড়র পাতে পড়ল বেশি/ছোটর পাতে কম৷'' এই ছড়া বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য কিন্তু খুবই মানানসই৷

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট দেওয়া হয়েছিল ১৯৭২ সালের ৩০ জুন৷ প্রথম অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ বেতার ও টেলিভিশনের মাধ্যমে এক সঙ্গে ১৯৭১-৭২ এবং ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন৷ সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘‘১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর যখন ঢাকা মুক্ত হলো, তখন আমরা পেলাম এক যুদ্ধবিধ্বস্ত দেউলিয়া অর্থ ব্যবস্থা৷ রেলপথ, সড়ক ও নদীপথসমূহ তখন সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন; নিমজ্জিত জাহাজ আর ভাসমান মাইন দিয়ে বন্দরসমূহ বন্ধ; শিল্পসমূহ শত্রুর আঘাতে বিধ্বস্ত বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত; যন্ত্রপাতি আর কাঁচামালের অভাবে কল-কারখানা স্তব্ধ৷ স্বাধীনতা লাভের সঙ্গে সঙ্গেই যে বহুবিধ সমস্যা নতুন সরকারের আশু মনোযোগ দাবি করছিল তার মধ্যে ছিল দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রীর অভাব, খাদ্যসামগ্রীর সীমিত সরবরাহ, শ্রম শক্তির বেকারত্ব৷ আর ছিল লক্ষ লক্ষ সহায়-সম্বলহীন মানুষ আর দেশে প্রত্যাবর্তনকারী অগণিত উদ্বাস্তুর মিছিল৷ এইসব সমস্যার সমাধান যে কোনো সরকারের জন্য ছিল দুঃসাধ্য আর সম্পদ ও বৈদেশিক মুদ্রাবিহীন এবং যথাযথ প্রশাসনযন্ত্রবর্জিত নতুন সরকারের জন্য এ ছিল এক অসম্ভব কাজ৷''

প্রথম অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার যে চিত্র উপস্থাপন করেছিলেন, সম্ভবত পরিস্থিতি ছিল আরও খারাপ৷ যেমন, স্বাধীন বাংলাদেশ নিয়ে বিশ্বব্যাংক প্রথম রিপোর্ট করেছিল ১৯৭২ সালেরই ২৫ সেপ্টেম্বর৷ সেখানে বিশ্বব্যাংক বলেছিল, ‘‘সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশের উন্নয়ন সমস্যাটি অত্যন্ত জটিল৷ এখানকার মানুষ অত্যন্ত দরিদ্র, মাথাপিছু আয় ৫০ থেকে ৭০ ডলারের মধ্যে, যা গত ২০ বছরে বাড়েনি, জনসংখ্যার প্রবল আধিক্য এখানে, প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১৪শ' মানুষ বাস করে, তাদের জীবনের আয়ুষ্কাল অনেক কম, এখনো তা ৫০ বছরের নীচে, বেকারত্বের হার ২৫ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে এবং জনসংখ্যার বড় অংশই অশিক্ষিত৷''

সেই বাংলাদেশ এখন আর নেই৷ আর সেই বাজেটও নেই৷ যে বাজেট ছিল ২৮৫ কোটি টাকা আয় আর ২১৮ কোটি টাকা ব্যয়ের, সেটি এবার চার লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে৷ বাংলাদেশ এখনো স্বল্পোন্নত দেশ, কেবলই উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পথে যাত্রা শুরু করেছে৷ ৮০'র দশকেও উন্নয়ন বাজেট তো ছিলই, রাজস্ব বাজেটেও বৈদেশিক সাহায্য ঢুকে পড়েছিল৷ এক সময়ের সাহায্যনির্ভর বাংলাদেশ এখন বাণিজ্যনির্ভর৷

এ তো গেল বাংলাদেশের একটা দিক৷ অর্থনীতির ভিন্ন চিত্রও আছে৷ দুর্নীতি বড় আকারেই রয়ে গেছে৷ অর্থের অপচয় হয় বড় মাত্রায়৷ জবাবদিহির জায়গা কমে গেছে৷ অর্থ খরচে স্বচ্ছতা কম৷ বিচারহীনতা আর্থিক কেলেঙ্কারি বাড়াচ্ছে৷ আর এসবের প্রভাবে সমাজে আয়বৈষম্য প্রবল হয়েছে৷

এরকম এক প্রেক্ষাপটে আরেকটি বাজেট আসছে৷ আগামী সাত জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের নতুন বাজেট উপস্থাপন করবেন৷ তবে এই বাজেট নিয়ে আলোচনার আগে খানিকটা দ্বিধা কাজ করছে৷ কারণ, অর্থমন্ত্রীর আগামী বাজেট কতটা অর্থনীতি মেনে হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন৷ যদি আগামী ডিসেম্বরে নতুন নির্বাচন হয়, তাহলে তো নতুন বাজেটে অর্থনীতি কমই গুরুত্ব পাওয়ার কথা৷ এবারের বাজেট হবে মূলত নির্বাচনী বাজেট৷ এতে উন্নয়নভাবনা থাকবে কম, জনতুষ্টিই প্রাধান্য পাবে বেশি৷ কেননা, রাজনীতি মাথায় রেখেই মূলত সম্পদের বণ্টন হবে আগামী বাজেটে৷

বাজেট মানেই তো সম্পদ বণ্টন ও এর সঠিক ব্যবহারের চেষ্টা৷ যাদের সম্পদ কম, তাদের জন্য কাজটা আরও কঠিন৷ কেননা, যেসব দেশে আয়ের বৈষম্য বেশি, ধনীরা কেবলই ধনী হতে থাকে, তাদের জন্য ভরসা আসলে সরকারের বাজেটনীতি৷

এমনিতে বাংলাদেশের বাজেট তৈরি ও এর উপস্থাপনা নিয়ে সমস্যার অন্ত নেই৷ বাজেট যত বড় হচ্ছে, বাজেট বক্তৃতাও তত বড় হচ্ছে৷ অর্থমন্ত্রী অনেক কথা বলে যান, আর তাতে অনেক সময়ই আসল কথাটিই হারিয়ে যায়৷ সাধারণ মানুষ যা জানতে চায় তা আর বাজেট বক্তৃতায় থাকে না৷ বাজেট বক্তৃতার ধরনটি আমাদের সেকেলে৷ কেবল বক্তৃতা আর বক্তৃতা৷ ফলে একেবারেই সাধারণ মানুষের কাছে বাজেটটি হয়ে থাকে দুর্বোধ্য৷ অথচ বাজেট তো দেশের সাধারণ মানুষের জন্যই৷

অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিতের সম্ভবত বিশাল অঙ্কের টাকার পরিসংখ্যানের প্রতি এক ধরনের মোহ আছে৷ আর তা বলতেও পছন্দ করেন৷ ফলে বাজেট নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হতে না হতেই তিনি সম্ভাব্য বাজেট পরিসংখ্যান দিতে থাকেন৷ সাংবাদিকরা বাজেট নিয়ে খোঁজ খবর নেওয়ার আগেই অর্থমন্ত্রী আয়োজন করেই জানিয়ে দেন কত টাকার বাজেট হচ্ছে৷ সম্ভবত বিশাল অঙ্কের একটা বাজেট দেওয়ার আত্মপ্রসাদ থেকে তিনি এর আকারের কথা বলে দেন৷

আগামী বাজেট যে চার লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার মতো হবে, সে তথ্য অর্থমন্ত্রীরই দেওয়া৷ অথচ এক সময়ে বাজেট গোপনীয়তা ছিল রহস্য উপন্যাস পর্যায়ের৷ বাজেটের তথ্য থাকতো অত্যন্ত গোপনীয়, কোনো সাংবাদিক উদ্ধার করতে পারলে সেটা হতো বড় ঘটনা৷ বাজেট উদ্ধারের রোমাঞ্চ থেকে সাংবাদিকদের বঞ্চিত করেছেন অর্থমন্ত্রী৷ এখানে বলে রাখি, বাজেট ফাঁস হয়েছিল বলে ব্রিটেনের অর্থমন্ত্রী এডওয়ার্ড জন ডালটন (১৯৪৫-১৯৪৭) দায় নিয়ে পদত্যাগ করেছিলেন৷ এসব তথ্য এখন কেবলই ইতিহাস৷

তবে একটা বাজেট কত কোটি টাকার, তাতে সাধারণ মানুষের কিছুই যায়-আসে না৷ পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে বাজেটের আকার নিয়ে এত আলোচনার নজিরও সম্ভবত পাওয়া যাবে না৷ কারণ, কত টাকার বাজেট নয়, বরং কার জন্য বাজেটে কী আছে, সেটাই আসল বিষয়৷ চলতি অর্থবছর হচ্ছে ২০১৭-১৮৷ এই অর্থবছরের বাজেট হচ্ছে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার৷ এর মধ্যে ২ লাখ ৩৪ হাজার ১৩ কোটিই ছিল অনুন্নয়ন বা রাজস্ব ব্যয়৷ এটা হচ্ছে সরকারের চলতি ব্যয়৷ দৈনন্দিন কাজ চালাতে এই পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়৷

 

এখন দেখা যাক সরকারের চলতি খরচ কোথায় কোথায় হচ্ছে আর এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের সরাসরি সম্পর্ক কতটা৷ এই অর্থের ২২ শতাংশ খরচ হয় বেতন-ভাতা দিতে৷ পেনশন খাতে ব্যয় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ৷ সুদ পরিশোধে ব্যয় ১৭ শতাংশ, সাহায্য ও মঞ্জুরি খাতে ব্যয় হয় আরও ১৭ শতাংশ অর্থ৷ পণ্য ও সেবা খাতে ১০ শতাংশ, ৮ শতাংশ খরচ হয় ভর্তুকি দিতে৷ অনুন্নয়ন বাজেটের বাকি অর্থ ব্যয় হয় নানাবিধ অপ্রত্যাশিত ব্যয় ও থোক বরাদ্দ খাতে৷ নতুন যে বাজেট আসছে তাতেও প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা ব্যয় হবে এসব খাতেই৷ এই যদি হয় অর্থ ব্যয়ের খাত, তাহলে এ থেকে সাধারণ মানুষের লাভ কতটা?

(শওকত হোসেন)

এবার আসা যাক উন্নয়ন বাজেটের বিষয়ে৷ চলতি বাজেটের উন্নয়ন ব্যয় ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৩ কোটি টাকার৷ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম উন্নয়ন বাজেট ছিল ৫ শ কোটি টকার৷ সেখান থেকে এই অগ্রগতি বিস্ময়কর৷ এক দশক আগেও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) উন্নয়ন বাজেট, যা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি নামে পরিচিত, ছিল অনেক কম৷ বর্তমান অর্থমন্ত্রীর কৃতিত্ব হলো তিনি এই হার বেশ খানিকটা বাড়াতে পেরেছেন৷ তবে এর পেছনে একটা গল্প আছে৷ সেই গল্প আসলে বেসরকারি বিনিয়োগ না বাড়াতে পারার ব্যর্থতার গল্প৷ জিডিপির তুলনায় বাংলাদেশে বেসরকারি বিনিয়োগের হার অনেক বছর ধরে এক জায়গাতেই আটকে ছিল৷ বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে না পেরে এর পরিপূরক হিসেবে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হয়েছে৷ এতে এডিপি বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে৷ আর এটা করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বিপদটা ডেকে এনেছেন অন্যখানে৷

সীমিত সম্পদের দেশে আয়ের চেয়ে ব্যয় সব সময়েই বেশি৷ ফলে বাংলাদেশকে ঘাটতি বাজেটই করতে হয়, যদিও সীমিত আকারে ঘাটতি বাজেট করা অর্থনীতির জন্য ভালো বলেই মনে করা হয়৷ বাজেট ঘাটতি মেটাতে অর্থমন্ত্রীকে বেশি হারে ঋণ করতে হচ্ছে৷ এই ঋণ মূলত নেওয়া হয় সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে, কেননা, বিদেশি ঋণের উৎস কমে গেছে৷ অন্যদিকে সঞ্চয়পত্রে মুনাফা বা সুদের হার বেশি৷ বেশি সুদের ঋণ নিয়ে বাজেট ঘাটতি মেটান অর্থমন্ত্রী, এ জন্য সুদ পরিশোধে ব্যয় বাড়ছে৷ আবার এ জন্য বাড়াতে হচ্ছে মোট বাজেটের আকার৷ সুতরাং বলা যায়, বাজেট ঘাটতি, ঘাটতি মেটাতে উচ্চ সুদের ঋণ গ্রহণ, ঋণ পরিশোধে অতিরিক্ত ব্যয়, তাতে আবার বাজেট বৃদ্ধি– এই চক্রে আটকা পড়েছে বাজেট৷ বিশাল বাজেটের পেছনে এ-ও এক রহস্য৷

বিশাল আকারের এই বাজেটের আরেকটা দিক আছে৷ বাজেট ঘাটতি মেটাতে অর্থ মন্ত্রী যতই ঋণ করুন না কেন, তা কোনোভাবেই জিডিপির ৫ শতাংশকে ছাড়িয়ে যেতে পারবে না৷ তাতে বাজেট শৃঙ্খলা থাকবে না৷ তাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলেরও আপত্তি৷ সুতরাং বড় বাজেটের জন্য রাজস্ব আদায়ের কোনো বিকল্প নেই৷ এটা সত্যি যে, বাংলাদেশে কর-জিডিপি অনুপাত অনেক কম৷ অবশ্যই তা বাড়াতে হবে৷ কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, কর বাড়ানোর প্রশ্ন এলে যারা নিয়মিত কর দেন, তাদের ওপরেই চাপ বাড়ে৷ যারা কর দেয় না, ফাঁকি দেয়, তারা আড়ালেই থেকে যায়৷ ফলে শেষ পর্যন্ত বিশাল বাজেটের কারণে রাজস্ব আদায়ের বাড়তি চাপটা মূলত পরে সৎ ও নিয়মিত করদাতাদের ওপরই৷

অর্থমন্ত্রী নিজেকে উচ্চাভিলাষী বলতে পছন্দ করেন৷ উচ্চাভিলাষ থাকাটা দোষের কিছু না৷ বড় আয় আর বেশি ব্যয়ের বাজেটের প্রয়োজনও আছে৷ তবে বিশাল বাজেটে সাধারণ মানুষের জন্য কী থাকছে সেটাই জরুরি৷

আসন্ন বাজেটে বিভিন্ন খাতের দাবিনামা

তৈরি পোশাক খাত

পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ আগামী বাজেটে অন্তত তিন বছরের জন্য উৎসে কর বাতিলের দাবি জানিয়েছে৷ সংস্থার প্রেসিডেন্ট সিদ্দিকুর রহমান জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআরকে বলেন, উৎসে কর থেকে সরকার দুই থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা পায়৷ ‘‘চার লাখ কোটি টাকার বাজেটে এটি খুব বড় অর্থ নয়৷ আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে৷ আমাদের কিছু মেশিনারিজ আপডেট করতে হবে,’’ বলেন তিনি৷

 

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প

এই খাতে আরও উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে এনবিআর-এর কাছে ৪৩টি প্রস্তাব দিয়েছে ‘ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশন’ বা এসএমই ফাউন্ডেশন৷ এর মধ্যে আছে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম তৈরির প্রধান উপকরণ পলিকার্বোনেট, প্লাস্টিক শিল্পের মৌলিক কাঁচামাল প্রাইমারি পলিমার, মেলামাইনের ছাপচিত্রে ব্যবহৃত ট্রান্সফার পেপার, পেপার ও পেপার বোর্ড ইত্যাদির উপর শুল্ক-কর হ্রাসের প্রস্তাব৷

 

গার্মেন্টস এক্সেসরিজ শিল্প

বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল কাদের খান তৈরি পোশাকশিল্পের সরঞ্জাম ও প্যাকেজিং খাতের প্রতিষ্ঠানের করপোরেট কর ৩৫ থেকে কমিয়ে ১২ শতাংশ এবং উৎসে কর ০.৭০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫০ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছেন৷

 

করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি

এনবিআরকে দেয়া প্রস্তাবনায় মেট্রোপলিটন চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আসন্ন বাজেটে সাধারণ করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা আড়াই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে সাড়ে চার লাখ টাকা করার অনুরোধ করেছে৷ এছাড়া সর্বোচ্চ কর হার ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছ এমসিসিআই৷ এর ফলে ব্যক্তি করদাতারা তাদের সত্যিকার আয়কর প্রকাশে উৎসাহিত হবে এবং কর ফাঁকি অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে মনে করছে ব্যবসায়ীদের ঐ সংগঠন৷

 

কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প

বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসরস এসোসিয়েশনের সভাপতি ফখরুল ইসলাম মুন্সী কর্পোরেট কর ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ এবং টার্নওভারের ওপর থাকা ০.৬০ শতাংশ কর অব্যাহতির দাবি জানিয়েছেন৷

 

ফ্ল্যাট নিবন্ধন কর

গৃহনির্মাণ শিল্পের সংগঠন রিহ্যাব-এর সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন ফ্ল্যাট নিবন্ধনের কর কমানোর দাবি জানিয়েছেন৷ এনবিআর এর সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, কাগজে-কলমে নিবন্ধনে ১৪ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হয়, যদিও কার্যকর হার হচ্ছে ১৬ শতাংশ৷

 

মোটরসাইকেল শিল্প

বাংলাদেশ অটোমোবাইল অ্যাসেম্বলার্স অ্যান্ড মেনুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন মোটরসাইকেল উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে৷ তারা বলছে, বিগত বছরগুলোতে এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে অনেকে মোটরসাইকেল উৎপাদনে এগিয়ে এসেছে৷ তবে এনবিআর বলছে, মোটরসাইকেল সংযোজনকারীদের ধীরে ধীরে উৎপাদনে যেতে কয়েক বাজেটে সহায়তা দেয়া হয়েছিল৷ কিন্তু অনেকে উৎপাদনে না গিয়ে বারবার ঐ সুবিধা বাড়ানোর আবেদন করছেন৷

 

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ