১৮ জুন ২০১৮ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৭ম বর্ষ ২৪ সংখ্যা: বার্লিন, সোমবার ১১জুন–১৭জুন ২০১৮ # Weekly Ajker Bangla – 7th year 24 issue: Berlin, Monday 11Jun -17Jun 2018

‘বাংলাদেশে নিরাপত্তার অভাব বোধ করিনি'

তথ্যচিত্রটি প্রদর্শিত হয়

প্রতিবেদকঃ DW তারিখঃ 2018-06-12   সময়ঃ 23:23:20 পাঠক সংখ্যাঃ 12

বাংলাদেশ নিয়ে ডয়চে ভেলের তথ্যচিত্র নির্মাতারা তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা এভাবেই জানালেন গ্লোবাল মিডিয়া ফোরামে৷ বনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে তথ্যচিত্রটি প্রদর্শিত হয়৷

ভেন্যুর রুম বার্লিনে আলাদা একটি সেশনে শুরুতেই ডয়চে ভেলে বাংলার প্রধান দেবারতি গুহ সূচনা বক্তব্য দেন৷ সেখানে তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তীতে দেখেছি, সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম যোগ করা হলো৷ সাম্প্রতিককালে আমরা দেখেছি, বেশ কিছু উগ্রবাদী ঘটনা ঘটলো৷ এমনকি গতকালও একজন প্রকাশককে হত্যা করা হয়েছে, যদিও এখনো জানি না, কারণ কী৷ তবে এটা ঠিক যে, এখানেই ঘটনাগুলো একদম থেমে নেই৷''

এরপর তথ্যচিত্রটি প্রদর্শিত হয়৷ তারপর শুরু হয় আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব৷ সেখানে নির্মাতাদের একজন ডয়চে ভেলের সাংবাদিক সান্দ্রা পেটার্সমান বলেন, ‘‘আমি যখন এআরডি'র দিল্লি সংবাদদাতা ছিলাম, তখন পাকিস্তান,আফগানিস্তানের খবর সংগ্রহ করার পর যখন বাংলাদেশে যেতাম, তখন মনে হতো, শান্তিতে আছি৷ কিন্তু সাম্প্রতিককালে আমাকে শুধু এসব ব্লগার, মুক্তমনাদের মৃত্যুর খবরই সংগ্রহ করতে হতো৷ তার মানে, সমাজে কিছু একটা পরিবর্তন ঘটেছে৷'' (দেবারতি গুহ)

তিনি যোগ করেন, ‘‘তবে এবার যখন আমি গিয়েছি, সেখানে ২৪ দিন শুটিং করেছি, এক মুহূর্তের জন্যও কখনো মনে হয়নি, আমি নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি৷ তবে এটাও ঠিক যে, এখানে অনেককে হত্যা করা হয়েছে, তার কারণ তাঁরা ভিন্নভাবে ভাবতেন৷''

 

তথ্যচিত্রটির অপর নির্মাতা ডয়চে ভেলের আরেক সাংবাদিক হান্স ক্রিস্টিয়ান ওস্টারমানেরও একই মত৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি এই প্রথম বাংলাদেশে গিয়েছি৷ সত্যি বলছি, আমি খুন-খারাবির যেসব খবর দেখেছি, তাতে শুরুতে একটু শঙ্কিতই ছিলাম৷ কিন্তু পরে সেই শঙ্কা কেটে গেছে৷''

প্রশ্নোত্তর পর্বে অনেকেই আলোচনায় অংশ নেন৷ কেউ কেউ জানতে চান যে, বাংলাদেশকে যেভাবে এখানে দেখানো হয়েছে কিংবা ইসলামকে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তাতে পূর্ণ চিত্র উঠে এসেছে কিনা৷ তখন তাঁরা বলেন, মাত্র ৪২ মিনিটে একটি দেশকে বা একটি ধর্মকে তুলে ধরা সম্ভব নয়৷ তাই একটু ওপর থেকে শুধু সেখানে উগ্র ইসলামপন্থা নিয়ে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা-ই উঠে এসেছে তথ্যচিত্রে৷

সান্দ্রা বলেন, ‘‘অসহিষ্ণুতার যে সংস্কৃতি এখানে গড়ে উঠেছে, তা শুধু ধর্মীয় দিক থেকেই নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকেও৷ আমরা সে জায়গাগুলোই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি৷'' (সান্দ্রা পেটার্সমান)

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে আসা সাংবাদিক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও ছিলেন৷

উল্লেখ্য, জার্মানির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে এশিয়া নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন সিরিজ তৈরি করছে, যার নাম ‘জিরো টলারেন্স'৷ লক্ষ্য, বিশ্বের পাঠক, দর্শকদের  কাছে এশিয়ার এই দিকগুলো তুলে ধরা৷ সেই সিরিজের প্রথম পর্বটি হয়েছে বাংলাদেশ নিয়ে, যেটির নাম দেয়া হয়েছে, ‘দ্য ডন অফ ইসলামিজম ইন বাংলাদেশ'৷ (হান্স ক্রিস্টিয়ান ওস্টারমান)

এই প্রতিবেদনটি করতে গিয়ে বাংলাদেশের রাজধানী থেকে দক্ষিণাঞ্চলের দিকে ভ্রমণ করেছে তথ্যচিত্র নির্মাতা দলটি৷ সর্ব দক্ষিণের জেলা কক্সবাজারে রোহিঙ্গা  শরণার্থী শিবিরেও গিয়েছে তারা৷

 

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ