২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৭ম বর্ষ ৩৬ সংখ্যা: বার্লিন, সোমবার ০৩সেপ্ট–০৯সেপ্ট ২০১৮ # Weekly Ajker Bangla – 7th year 36 issue: Berlin, Monday 03Sep-09Sep 2018

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় সংকট কোথায়?

আমরা তাঁকে সরকারি হাসপাতালে নিতে চাই না’: খসরু

প্রতিবেদকঃ DW তারিখঃ 2018-09-08   সময়ঃ 22:16:39 পাঠক সংখ্যাঃ 31

বিএনপি চেয়ারপার্সনের চিকিৎসা নিয়ে আবারো আলোচনা শুরু হয়েছে৷ সরকারের তরফ থেকে চিকিৎসায় আপত্তি নেই৷ বিএনপিও তাঁর চিকিৎসার জোরালো দাবি জানিয়ে আসছে৷ তাহলে সমস্যা কোথায়?

‘‘আমার শারীরিক অবস্থা ভালো না৷ পা ফুলে গেছে৷ চিকিৎসকরা বলেছে, পা ঝুলিয়ে রাখা যাবে না৷ আমি আদালতে বারবার আসতে পারব না৷ আপনাদের যা মনে চায়, যতদিন ইচ্ছা আমাকে সাজা দিয়ে দেন৷''

গত মঙ্গলবার আদালতে খালেদা জিয়া এমন মন্তব্য করেছিলেন৷ তখন থেকেই আবারো এই চিকিৎসা বিতর্ক শুরু হয়েছে৷

বিএনপির দাবি, কোনো বেসরকারি হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করানো হোক৷ আর কারা কর্তৃপক্ষ তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাতে চায়৷ কিন্তু খালেদা জিয়া তাতে রাজি নন৷ এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করানোর বিষয়টি আটকে রয়েছে৷ কোনো পক্ষ একটু নরম হলেই চিকিৎসা শুরু হতে পারে৷

CLICK IMAGE FOR AUDIO

কারাগারে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়টি দেখভাল করছেন কারা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আহমেদুল হাসান শুভ৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন যে, খালেদা জিয়ার কিছু সমস্যা আগে থেকেই আছে৷

CLICK IMAGE FOR AUDIO

‘‘উনার হাটু রিপ্লেস করা৷ এখানে মাঝে মধ্যেই ব্যাথা বাড়ে, আবার কমে৷ আমরা ঢাকা মেডিক্যাল থেকে ফিজিও এনে প্রতিদিন তাঁকে থেরাপি দিচ্ছি৷ ঢাকার সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ টিম প্রায়ই উনাকে দেখছেন৷ তাঁরা যেভাবে পরামর্শ দিচ্ছেন সেভাবেই চিকিৎসা হচ্ছে,'' বলেন শুভ৷

হাসপাতালে নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘এখন আমরা তো উনাকে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে নিতে চাচ্ছি৷ কিন্তু উনি তো যেতে চান না৷ উনি বেসরকারী হাসপাতালে যেতে চান৷ কিন্তু কারা বিধি অনুযায়ি সেটা আমাদের পক্ষে সম্ভব না৷ তাই আমাদের এখানে উনার যেভাবে ভালো চিকিৎসা হওয়া সম্ভব আমরা তার সবাই করছি৷ এর বাইরে কিছু করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না৷''

শুক্রবার সন্ধ্যায় কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন চারজন সিনিয়র আইনজীবী৷ ফিরে এসে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘খালেদা জিয়া আমাদের বলেছেন, আমাকে আগে চিকিৎসা দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করুন, আমার অবস্থা খুব খারাপ৷ আগে চিকিৎসা, পরে বিচার৷ আমার এই অবস্থায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিশেষায়িত কোনো হাসপাতাল কিংবা ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য সরকারকে বলুন৷ তা না হলে হাত, পা প্যারালাইজড হয়ে যেতে পারে৷''

 

জয়নুল আবেদীন বলেন যে, বেগম জিয়ার বাম চোখ ফুলে গেছে৷ চোখে ঝাপসা দেখছেন৷ তাকে অবিলম্বে বিশেষায়িত কোনো হাসপাতাল- ইউনাইটেড বা অ্যাপোলোতে ভর্তি করার দরকার৷

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ডয়চে ভেলের সঙ্গে আলাপকালে একই কথা বলেছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আগে তো তাকে বাঁচাতে হবে৷ তারপর তাঁর বিচার৷ এখন উনার চিকিৎসা করতে দিচ্ছে না, যদি কোন ক্ষতি হয়ে যায় তাহলে সরকারকে অনেক বড় দায়িত্ব নিতে হবে৷ এটা তো ছোটখাট কোন বিষয় না৷''

খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর থেকেই ইউনাইটেড হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসার দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি৷ তবে গত শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সেই দাবি থেকে কিছুটা সরে এসেছেন৷ তিনি বলছেন, শুধু ইউনাইটেড নয়, যে কোনও বিশেষায়িত হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা হতে পারে৷ তবে সরকারি হাসপাতালে খালেদা জিয়া চিকিৎসা হোক সেটা চান না তারা৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা তাঁকে সরকারি হাসপাতালে নিতে চাই না৷ কারণ, এই সরকারকে তো বিশ্বাস করা যায় না৷''

বিএনপির দাবি অনুযায়ি খালেদা জিয়াকে বেসরকারি হাসপাতালে নিতে সমস্যা কোথায়? এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের মুখপাত্র দলের যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উল-আলম হানিফ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘কারা বিধি অনুযায়ী তো তাঁর চিকিৎসা হবে৷

বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে বাংলাদেশের সেরা চিকিৎসকরা আছেন৷ সেখানে নিয়ে তো কারা কর্তৃপক্ষ তাঁর চিকিৎসা করাতে চাচ্ছে৷ সেখানে নিলে সমস্যা কী? তারা আসলে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চান না৷ বিচার এড়াতেই তারা এই দাবি তুলছেন৷'' আরেক প্রশ্নের জবাবে জনাব হানিফ বলেন, ‘‘উনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী৷ সেই কারণে সব আইন লঙ্ঘন করে উনার সঙ্গে একজন ব্যক্তিগত সহকারী দেয়া হয়েছে৷ বিনা দোষে, বিনা বিচারে একজন মানুষ শুধু উনার চাহিদার কারণে কারাগারে আছেন৷ এটা তো বিশ্বের কোনো দেশে আপনি দেখবেন না৷''

গত ফেব্রুয়ারিতে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়৷ তখন উনার দাবির প্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কারাগারে যাওয়ার অনুমতি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ৷ তখন তারাও বেসরকারি কোনো হাসপাতালে নিয়ে তার চিকিৎসার কথা বলেন৷জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের বিশেষ জেল করে সেখানে রাখা হয়েছে খালেদা জিয়াকে৷

 

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ