২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৭ম বর্ষ ৩৭সংখ্যা: বার্লিন, সোমবার ১০সেপ্ট–১৬সেপ্ট ২০১৮ # Weekly Ajker Bangla – 7th year 37 issue: Berlin, Monday 10Sep-16Sep 2018

নির্যাতনে জড়িত শান্তিরক্ষীদের শাস্তি চায় যুক্তরাষ্ট্র

বাজেট কমালে প্রভাব পড়বে শান্তিরক্ষায়৷

প্রতিবেদকঃ DW তারিখঃ 2018-09-13   সময়ঃ 22:59:25 পাঠক সংখ্যাঃ 9

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব পাসের চেষ্টা চালালেও তাতে তেমন সাড়া দেয়নি রাশিয়া ও চীন৷ অন্যদিকে অন্যতম সেনা সরবরাহকারী দেশ বাংলাদেশ মনে করে, বাজেট কমালে প্রভাব পড়বে শান্তিরক্ষায়৷

জাতিসংঘে মার্কিন দূত নিকি হ্যালি জানান, যেসব শান্তিরক্ষী বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নির্যাতন চালায় এবং তাঁদের রক্ষায় ব্যর্থ হয়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার পক্ষে তাঁর দেশ৷ এ লক্ষ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে চাপ দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি৷

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি বেশকিছু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এসেছে৷ এছাড়াও সাউথ সুদান এবং সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে মারাত্মক সহিংসতার হাত থেকে বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষায় শান্তিরক্ষীরা ব্যর্থ হয়েছেন বলেও অভিযোগ অনেকের৷

নিরাপত্তা পরিষদে এ বিষয়ে বিতর্ক চলাকালে নিকি হ্যালি বলেন, ‘‘এমনকি কিছু ক্ষেত্রে শান্তিরক্ষীদেরই নির্যাতন এবং শোষণে জড়িত থাকার প্রমাণও মিলেছে৷''

 

হ্যালি বলেন ‘শান্তিরক্ষীদের ভূমিকা বাড়াতে’ নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করবে৷ খসড়া প্রস্তাবে, অসদাচরণে দায়ী শান্তিরক্ষীদের দেশে ফেরত পাঠানো এবং বেতন কাটার প্রস্তাব রাখা হয়েছে৷

বিশ্বজুড়ে ১৪টি মিশনে জাতিসংঘের ৯৬ হাজার শান্তিরক্ষী মোতায়েন আছেন৷ এই বিপুল সংখ্যক শান্তিরক্ষীদের জন্য বার্ষিক ৬৯০ কোটি ডলার খরচ করতে হয় জাতিসংঘকে৷ এর চার ভাগের এক ভাগ বরাদ্দ চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷

প্রতিক্রিয়া

রাশিয়া ও চীন অবশ্য এই খসড়া প্রস্তাব নিয়ে তেমন আগ্রহ দেখায়নি৷ দেশদুটি বলছে, যেসব দেশ শান্তিরক্ষা মিশনে সৈন্য পাঠায়, তাঁদের মতামতেরও গুরুত্ব দেয়া উচিত৷

রাশিয়ার দূত বাসিলি নেবেনসিয়া বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের ‘মাইক্রো-ম্যানেজমেন্টে' জড়িয়ে পড়া ঠিক নয় এবং শান্তিরক্ষা মিশনের সুনির্দিষ্ট ও পরিষ্কার রাজনৈতিক ম্যান্ডেট থাকা উচিত৷

প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে সেনা সরবরাহকারী দেশগুলোকে শাস্তি দেয়ার চেয়ে দেশগুলোকে এ ব্যাপারে রাজনৈতিকভাবে সচেতন করার ব্যাপারে রাশিয়া বেশি আগ্রহী বলেও মন্তব্য নেবেনসিয়ার৷

শান্তিরক্ষী মিশনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেনা সরবরাহকারী দেশ বাংলাদেশ মনে করে পর্যাপ্ত সম্পদ ও জনবল থাকার সাথে মাঠের ফল ওতপ্রোতভাবে জড়িত৷ ফলে দেশটি সতর্ক করে দিয়েছে, ‘‘পারফরম্যান্সে কথিত ব্যর্থতার অজুহাতে বাজেট ও সেনা কমানোর ফলে রাজনৈতিকভাবে লাভবান হলেও, তাতে শান্তিরক্ষার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে৷''

এডিকে/এসিবি(এপি, এএফপি)

বিদেশে শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী

কয়েকজন সামরিক পর্যবেক্ষক দিয়ে শুরু

১৯৮৮ সালে জাতিসংঘের ‘ইরান-ইরাক সামরিক পর্যবেক্ষক গ্রুপে’ যোগ দেয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৫ সদস্য৷ সেসময় ক্ষমতায় ছিলেন সেনাশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ৷ পরের বছর বাংলাদেশ পুলিশ এবং ১৯৯৩ সালে নৌ ও বিমানবাহিনী মিশনে যোগ দেয়৷

 

৪০ দেশে এক লাখ চল্লিশ হাজার সেনা

১৯৮৮ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত বিশ্বের ৪০টি দেশে ৫৪টি মিশনে বাংলাদেশের ১,৩৪,৯৪৭ সেনা ও পুলিশ সদস্য শান্তিরক্ষায় দায়িত্ব পালন করেছেন৷ জাতিসংঘের মিশনে সেনা পাঠানো দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম৷

 

বর্তমানে নিয়োজিত প্রায় দশ হাজার সদস্য

বর্তমানে ১৫টি দেশে বাংলাদেশের প্রায় দশ হাজার সেনা ও পুলিশ সদস্য জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করছেন৷ এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রায় তিন হাজার সদস্যের অবস্থান কঙ্গোতে৷ ছবিতে সেদেশে নিযুক্ত এক বাংলাদেশি সেনাকে দেখা যাচ্ছে৷

 

রাজনৈতিক দলের সমর্থন

বাংলাদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে অনেক বিষয়ে মতভেদ থাকলেও সামরিক বাহিনীর শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণকে উভয় পক্ষই পুরোপুরি সমর্থন করছে বলে মনে করে বিশেষজ্ঞরা৷ বাংলাদেশের কাছে বিষয়টি জাতীয় গর্বের ব্যাপার৷

 

অর্থ আয়ের অন্যতম উৎস

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আর্থিকভাবে ব্যাপক লাভবান হচ্ছে বাংলাদেশ৷ আল-জাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিশনে দায়িত্বে থাকাকালে একজন সদস্য মাসে এক হাজার মার্কিন ডলারের মতো আয় করেন, যা বাংলাদেশে গড় বেতনের চেয়ে অনেক বেশি৷ এই অর্থ সদস্যদের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখছে৷

 

নিহত ১২৪ সদস্য

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শান্তিরক্ষা মিশনে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ১২৪ সদস্য নিহত হয়েছেন৷ এদের মধ্যে দশজন পুলিশ সদস্যরা, বাকিরা সবাই সামরিক বাহিনীর সদস্য৷

 

 

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ