২৪ অক্টোবর ২০১৮ ইং
সাপ্তাহিক আজকের বাংলা - ৭ম বর্ষ ৪১সংখ্যা: বার্লিন, সোমবার ০৮অক্ট–১৪অক্ট ২০১৮ # Weekly Ajker Bangla – 7th year 41 issue: Berlin, Monday 08Oct-14Oct 2018

রাজ্য নির্বাচনের আগে ম্যার্কেলের নেতৃত্ব প্রশ্নের মুখে

জেইউ-র সম্মেলনেও সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাঁকে

প্রতিবেদকঃ DW তারিখঃ 2018-10-09   সময়ঃ 22:48:30 পাঠক সংখ্যাঃ 18

গতমাসে জার্মান সংসদে নিজের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহচর ফল্কার কাউডারকে হারিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল৷ শনিবার তাঁর সিডিইউ দলের তরুণ কর্মীদের সংগঠন ‘ইয়ুঙ্গে উনিয়ন' বা জেইউ-র সম্মেলনেও সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাঁকে৷

তারপরও ডিসেম্বরে দলের সম্মেলনেম্যার্কেলের নেতৃত্ব কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে – এই কথা বিশ্বাস করার মতো রাজনৈতিক বিশ্লেষকের সংখ্যা কমই হবে৷

জেইউ-র সম্মেলনেও সেই ধারণা পরিষ্কার হয়েছে৷ বক্তারা ম্যার্কেলের সমালোচনা করলেও দলের জন্য এখনো যে নতুন নেতৃত্বের সময় আসেনি, তা-ও বুঝিয়ে দিয়েছেন৷

জেইউ নেতা পাউল সিমিয়াক ম্যার্কেলের প্রতি দলকে আধুনিক করার আহ্বান জানিয়েছেন৷ তাঁর এই আহ্বানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন সম্মেলনে উপস্থিত কর্মীরা৷

জার্মানির বাভারিয়া রাজ্যে ম্যার্কেলের ‘খ্রিস্টীয় গণতন্ত্রী দল' সিডিইউর সহযোগী দল হচ্ছে সিএসইউ৷ আগামী রবিবার ঐ রাজ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে৷ তবে সবশেষ জরিপে দেখা গেছে, সিএসইউ-র জনপ্রিয়তা এবার রেকর্ড পরিমাণ কমে গেছে৷

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সিএসইউ দল একাই বাভারিয়ার সরকার পরিচালনা করেছে৷ কারণ, দলটি প্রায় ৫০ শতাংশের মতো ভোট পেতো৷ কিন্তু সবশেষ জরিপ বলছে, সিএসইউ এবার ৩৩ শতাংশ ভোট পেতে পারে৷ রবিবারের নির্বাচনে যদি জরিপের ফলাফলের প্রতিফলন ঘটে, তাহলে এবার জোট সরকারের দিকে যেতে হতে পারে৷

 

বাভারিয়া রাজ্যে সিএসইউ দলের এই খারাপ পরিস্থিতির জন্য দলের অনেক কর্মী ম্যার্কেলকেই দায়ী করেন৷ তাই জেইউ-র সম্মেলনে ম্যার্কেল যখন বক্তব্য দিতে মঞ্চে উঠছিলেন তখন সিডিইউ-র তরুণ কর্মীরা দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা জানালেও সিএসইউ'র কর্মীরা বসেই থাকেন৷ শুধু তাই নয়, ম্যার্কেলের আধ ঘণ্টার বক্তব্যের সময় সিএসইউ'র কর্মীদের কেউ মোবাইলে চোখ রেখেছেন, আর কেউ সংবাদপত্র পড়েছেন৷

এমনকি মাটিয়াস ব্যুটগ্যার নামে সিএসইউ দলের এক কর্মী উঠে দাঁড়িয়ে ম্যার্কেলকে বলেন যে, তাঁর (ম্যার্কেল) নেতৃত্বে দল এগিয়ে যাবে বলে তিনি আর মনে করছেন না৷

সম্মেলন শেষে ব্যুটগ্যার ডয়চে ভেলেকে বলেন, সবশেষ সংসদ নির্বাচনে সিডিইউ-সিএসইউ জোটের খারাপ ফলাফলের পর গত এক বছর ধরে দলের অনেকেই বিষয়টি (ম্যার্কেলের নেতৃত্ব) নিয়ে খোলাখুলি মন্তব্য করছেন৷

সিএসইউ-র আরেক কর্মী টোমাস হাসলিঙ্গার ডয়চে ভেলেকে বলেন,ম্যার্কেলের প্রতি হতাশার কারণ তাঁর নেয়া শরণার্থী নীতি৷ ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁর নীতির কারণেই অস্ট্রিয়া থেকে অনেক শরণার্থী বাভারিয়ায় প্রবেশ করেছিল৷ ‘‘তাঁর সিদ্ধান্ত ঠিক, না ভুল ছিল, সে মূল্যায়ন আমি করব না৷ কিন্তু বাস্তব হচ্ছে, ঐ নীতির কারণে মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে,'' বলেন তিনি৷ শরণার্থীবিরোধী দল ‘জার্মানির প্রতি বিকল্প' বা এএফডি দলের আজকের উত্থানের জন্যও ম্যার্কেলকে দায়ী করেন হাসলিঙ্গার৷

সিএসইউ'র মতো সিডিইউ'র তরুণ কর্মীরাও ম্যার্কেলের সমালোচনা করেছেন৷ তবে তারপরও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের সময় এখন নয় বলেও মনে করেন তাঁরা৷

বেন নাইট/জেডএইচ

 

অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিয়ে উদ্বেগ এবং উদ্যোগ

সমালোচনা ও চাপের মুখে ম্যার্কেল

অভিবাসন প্রত্যাশীদের ব্যাপারে ম্যার্কেল সরকারের উদ্যোগ ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি৷ তারপরও জার্মানিতে ম্যার্কেল সমালোচিত৷ সরকার বিরোধীদের একটা অংশ মনে করে, ম্যার্কেল প্রশাসন ধীরে চলো নীতি অবলম্বন করে সংকট ঘণীভূত করছে৷ জার্মানিতে শরণার্থী বিরোধী ক্ষোভও দেখা দিয়েছে৷ সব মিলিয়ে শরণার্থী ইস্যু নিয়ে বেশ চাপে আছে ম্যার্কেল সরকার

 

করণীয়

বর্তমান হারে চলতে থাকলে ২০১৫ সালে আগত শরণার্থীর সংখ্যা যে বছর শেষে ৮ থেকে ১০ লাখ দাঁড়াবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই৷ রবিবার ম্যার্কেল বলেছেন, এতদিন শরণার্থীদের স্বাগত জানিয়ে এলেও এ হারে চাপ বাড়তে থাকলে আগামীতে জার্মানির পক্ষে খুব বেশি ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে না৷ ইইউভুক্ত অন্য সব দেশকে তাই দ্রুত আরো উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন৷ এ লক্ষ্যে জরুরি বৈঠক আয়োজনের জন্য ইইউ-র প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি৷

 



আজকের কার্টুন

লাইফস্টাইল

আজকের বাংলার মিডিয়া পার্টনার

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার রোহিঙ্গা দেরকে অত্যাচার করে ফলে ২০১৭ তে অগাস্ট ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ মাসে ৫ লক্ষ্য রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ শরণার্থী দেরকে আবার ফিরে পাঠিয়ে দিক?

 হ্যাঁ      না      মতামত নেই    

সংবাদ আর্কাইভ